Main Menu

পঞ্চগড়ে আর দেখা যায় না মাটির পাটের পানির কূপ

মো. সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: একটা সময় ছিল এই এলাকায় পরিবারগুলি ছিল একান্নবর্তী পরিবার । সে সময় পঞ্চগড়ের বিভিন্ন গ্রামের বাসা বাড়ির উঠানে বা বাড়ির ভিতরে মাটির পাটের পানির কূপ গৃহস্থালী কাজে খুবই ব্যবহার হতো। ছোটবেলায় আমরাও সেই কুয়া থেকে বালতি দিয়ে পানি তুলে গোসল করতাম। মাটির পাটের পানির কূপের পানি ছিল খুবই শীতল। সেজন্য সেসময় মাটির পাটের পানির কূপের চাহিদা ছিল প্রচুর। সারাক্ষণ কুমাররা ব্যস্ত হয়ে পরতো মাটির পাট পোড়ানোর কাজে। এই পেশার ভিত্তিতে বোদা উপজেলায় কুমার পাড়া নামে এক গ্রাম গড়ে উঠেছিল। এখন পঞ্চগড় এলাকায় আর দেখা যায় না মাটির পাটের পানি পানের ক‚প। এই এলাকার মানুষের কাছে কূপ কুয়া ও চুয়া নামে পরিচিত। কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে এক সময়ের পান করা পানি সংগ্রহের কূপ।

রাজা জমিদারদের আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতা যুদ্ধের পরও মানুষ কূপের পানিই ব্যবহার করে থাকত। গ্রামজুড়ে ১/২টি করে কূপ থাকত। সেই কূপগুলো থেকে গ্রামের সকলে পানি নিয়ে যেত। সেই পানি পান করাসহ রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহার করে থাকত।

সেখানে পাড়ার গৃহিনীদের এক প্রকার মিলন মেলায় পরিণত হতো। এপাড়ার গৃহিনীদের সাথে ওই পাড়ার গৃহিনীরদের সাক্ষাতস্থলও ছিল বটে ওই কূপস্থল। ওই সময় বাড়ির গৃহিনীসহ মেয়েরা বিশেষ কাজ ছাড়া বাড়ির আঙ্গিনার বাইরে যেত না।

কূপ খননের পর কোনটিতে বসানো হতো সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করা রিং। আবার কোনটিতে পোড়ামাটির রিং (পাট)। আবার কোনটিতে গাঁথুনি দেয়া হতো ইট দিয়ে। আবার কোনটি থেকে শুধু খনন করে পানি সংগ্রহ করা হতো। অর্থাৎ সামর্থের ওপর নির্ভর করতো এসব কূপের ধরণ। এসব কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করার জন্য ব্যবহার করা হতো রশি ও বালতি। শুধুমাত্র মাটি খনন করে কূপের চর্তুপার্শ্বে বাশেঁর বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখতো কোন ছোট বাচ্চা বা ময়লা যেন না পড়ে। কেউ কেউ পাটের রিং বসালে মাটির উপর হতে ৩-৪ হাত উপর পর্যন্ত অনেকে পোড়ামাটির রিং (পাট) দিতো ।

অনেকে কূপের ধারে খুঁটি দিয়ে বাঁশ দিয়ে ওই বাঁশের এক মাথায় লম্বা রশি লাগানো হতো। অপর মাথায় দেয়া হতো কিছু ভারি ধরনের জিনিস। রশির মাথায় বালতি বেঁধে কূপ থেকে পানি টেনে তুলতে সুবিধার জন্য নাকি বাঁশের অপর প্রান্তে ভারি ধরনের জিনিষ বেঁধে দেয়া হতো। রশি থেকে বালতি কূপে পড়ে গেলে সেটি তোলার জন্য ব্যবহৃত হতো লোহার তৈরি কাঁটা।

ওই কাঁটা রশির মাথায় বেঁধে কূপের ভিতরে নামিয়ে তোলা হতো পড়ে যাওয়া বালতি। কূপ থেকে পানি তুলতে গিয়ে অনেকই পড়ে যেত কূপের ভেতরে। বিশেষ করে শিশুরা এর শিকার হতো বেশি। বৃদ্ধ ও বৃদ্ধারা জানান, পানি সংগ্রহের জন্য গৃহিনীরা কূপস্থলে দল বেঁধে কাঁধে কলস ও হাতে বালতি নিয়ে যেত।

এ প্রজন্মের গৃহিনীরা জানেনই না যে এক সময় কূপের পানি পান করা হতো।এখন আর নেই সেই কূপ। নেই কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করাও। গৃহিনীদের কোমরে আর কলসিও দেখা যায় না। বলতে গেলে এলাকায় আর দেখা যায় না পানি পানের কূপ। সেটি এখন শুধুই স্মৃতি আর এ প্রজন্মের জন্য অজানা ঐতিহ্য গাথাঁ গল্প।

 

 

 

 

 

 

Share





Related News

Comments are Closed