লাব্বাইক ধ্বনি আর লাখো হাজিতে মুখর আরাফার ময়দান
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মুসলিম সম্প্রদায়ের বৃহৎ মিলনমেলা পবিত্র হজ আজ (মঙ্গলবার)। সব ভেদাভেদ ভুলে শুধু দুই খণ্ড সাদা কাপড় শরীরে জড়িয়ে সবাই একত্রিত হয়েছেন আরাফার ময়দানে। সবার মুখে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক’ ধ্বনি।
সোমবার (২৬ জুন) দিনগত রাত থেকেই আরাফাত ময়দানে আসতে শুরু করেন হাজিরা। দিনের আলো ফোটার পর অনেকে হেঁটেও আসতে থাকেন।
মসজিদ হারামাইন শরীফাইন (Haramain Sharifain) ফেসবুক পেজে ও সৌদির টিভি চ্যানেলগুলোতে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে হজের যাবতীয় কার্যক্রম। এছাড়া ইউটিউব চ্যানেলও দেখা যাবে পবিত্র হজ।
এ বছর আরাফায় অবস্থিত মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের খুতবা দেবেন সৌদি আরবের সিনিয়র উলামা কাউন্সিলের সদস্য শায়খ ড. ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ। খুতবার পর জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন হাজিরা।
এরপর মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন তারা। রাতে সেখানে খোলা মাঠে অবস্থান করবেন। পরদিন মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে হাজিরা মিনায় যাবেন এবং নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরবেন। মিনায় শয়তানের উদ্দেশ্যে সাতটি পাথর মারার পর পশু কোরবানি দেবেন হাজিরা। কোরবানির পর হাজিরা মাথার চুল ছেঁটে গোসল করবেন। পরে সেলাইবিহীন দুই টুকরা কাপড় বদল করবেন।
এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ সাত বার তাওয়াফ করবেন। কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় সাতবার দৌড়াবেন হাজিরা। সেখান থেকে তারা আবার মিনায় যাবেন। মিনায় যত দিন থাকবেন, ততদিন তিনটি (বড়, মধ্যম, ছোট) শয়তানকে ২১টি পাথর মারবেন। আবার মক্কায় বিদায়ী তাওয়াফ করার পর নিজ নিজ দেশে ফিরবেন।
এদিকে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতিহাসে এবারই (২০২৩ সালে) সবচেয়ে বেশি হাজির পদচারণায় মুখরিত হবে কাবা প্রাঙ্গণ।
রোববার (২৫ জুন) বিশ্বের ১৬০টি দেশ থেকে আসা লাখ লাখ হাজিদের কাবা প্রদক্ষিণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় হজ। ইতিহাসের সবচেড়ে বড় হজ হওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এ বছর, আমরা ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হজ প্রত্যক্ষ করব।’
২০২০ সালের করোনা মহামারি হানা দেওয়ার পর— এবার প্রথমবারের মতো সব ধরনের স্বাস্থ্য বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এবার একসঙ্গে হজ করছেন ২৫ লাখেরও বেশি মানুষ।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত সৌদি দূতাবাস জানিয়েছিল, ২০১২ সালে হজ করেছিলেন ৩১ লাখ ৬১ হাজার ৫৭৩ জন হাজি। যা ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হজ ছিল। এবার এ সংখ্যাটি পার হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে হজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন মাত্র ১০ হাজার মানুষ; ২০২১ সালে ৫৯ হাজার। আর গত বছর এ সংখ্যাটি ছিল ১০ লাখ।
ইসলামের মূল ৫টি স্তম্ভের মধ্যে হজ পঞ্চম স্তম্ভ। হিজরি বর্ষপঞ্জির জ্বিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ হজ পালনের জন্য নির্ধারিত সময়। ইসলাম ধর্মমতে, শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ।
উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও এ বছর হজ করছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৮৮৪ জন হজযাত্রী।
Related News
ফ্রিতে ওমরাহ করার বিশাল সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বিনা খরচে পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ দিচ্ছে সৌদি সরকার। এ জন্য অংশRead More
দুরুদ শরীফ: অন্তরের প্রশান্তির সুখ
আতিকুর রহমান নগরী: মানুষের জীবনে আত্মিক প্রশান্তি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। ধর্মীয় বিশ্বাসের আলোকেRead More



Comments are Closed