Main Menu

সিলেট সিটির মেয়র হলেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের নতুন নগর পিতা নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। শুধু মেয়রই হলেন না, ১০ বছর পর আওয়ামীলীগের হারানো চেয়ার পুনরুদ্ধার করলেন লন্ডন প্রবাসী এই নেতা।৬৯ হাজারের বেশী ভোটের ব্যবধানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুলকে পরাজিত করেছেন তিনি।

সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস অডিটোরিয়ামে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়সাল কাদির। বুধবার (২১ জুন) রাত পৌণে ৮টায় ১৯০টি কেন্দ্রের ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

নৌকা প্রতীকের আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ভোট পেয়েছেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সবকটি কেন্দ্রে পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৯১ ভোট। আর তাঁর নিকতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল পেয়েছেন ৫০ হাজার ৮৬২ ভোট। ৬৯ হাজার ১২৯ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন আনোয়ারুজ্জামান।

এছাড়া বিস্ময়করভাবে ২৯ হাজার ৬৮৮ ভোট পেয়ে নজর কাড়লেন বাস প্রতিকের প্রার্থী শাহ জাহান মিয়া। এছাড়া নির্বাচন বর্জন করা ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান পেয়েছেন ১২ হাজার ৭৯৪ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হানিফ কুটু ঘোড়া প্রতিকে পেয়েছেন ৪ হাজার ২৯৬ ভোট, মো: জহিরুল আলম গোলাপ ফুল প্রতিকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৪০৫ ভোট, মোশতাক আহমেদ রউফ মোস্তফা হরিণ প্রতিকে পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫৯ ভোট এবং ছালাহ উদ্দিন রিমন ক্রিকেট ব্যাট প্রতিকে পেয়েছেন ২ হাজার ৬৪৮ ভোট।

প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, নির্বাচনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লক্ষ ২৬ হাজার ৬৪৩টি। ভোট প্রদানের শতকরা হার ৪৬ দশমিক ৭১।

ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর সিলেটের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক আহমদ গণমাধমে বলেন, প্রথম ৫ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। এরপরের ৩ ঘণ্টায় ভোট পড়ার হার বেড়েছে।

অন্যদিকে, বুধবার বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে বিএনপিসহ অধিকাংশ দলের বর্জনের মধ্যে এই নির্বাচনে ভোটের হার নিয়েও অস্বস্তিতে নেই তিনি। তার মতে, স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ৫০ শতাংশ ভোটার পাওয়াই যথেষ্ট।

অথচ সিলেট সিটিতে ২০০৮ সালে ভোট পড়ার হার ছিল ৭৫ শতাংশ। ২০১৩ সালে এ সিটিতে ভোট পড়ে ৬২ শতাংশ এবং ২০১৮ সালেও ভোটের হার ছিল প্রায় ৬৩ শতাংশ।

এদিকে, ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী নগরবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। নগরের মেয়র নয়, সেবক হিসেবে কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

নতুন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ১৯৭০ সালের ১ জুন সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়নের পশ্চিম তিলাপাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তার বাবার নাম নৌশা মিয়া চৌধুরী এবং মায়ের নাম মোছা. গহিনুন্নেছা চৌধুরী।

ছয় ভাইয়ের মধ্যে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সবার ছোট। তিনি পশ্চিম তিলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক, বুরুঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, সিলেট সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য থেকে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন বলে নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করেন। পড়াশোনা ও রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথেও তিনি জড়িত ছিলেন।

বালাগঞ্জ ছাত্রলীগের সমাজসেবা সম্পাদক হিসেবে তার রাজনৈতিক সাংগঠনিক দায়িত্বের হাতেখড়ি। সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদ’ নির্বাচনে ছাত্রলীগ থেকে ছাত্র-মিলনায়তন সম্পাদক পদে নির্বাচন করেন। আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এবারই প্রথম নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন।

লন্ডন গিয়ে তিনি প্রথমে লন্ডন মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য হিসেবেও মনোনীত হন। যুবলীগের রাজনীতি থেকে তিনি সরাসরি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন। এই দায়িত্বপালনকালীন অবস্থায়ই তাকে সিলেটের মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেয়া হয়।

আর পেশায় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বাবুল মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি এর আগে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করলেও মেয়র পদে এই প্রথম নির্বাচন তার।

এবার মেয়র পদে ৮ জন, সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ২৭২ জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৮৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ১৯০টি কেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষ (বুথ) ১ হাজার ৩৬৪টি।

এই নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপিসহ তাদের সমমনা ও বামদলগুলো। ফলে নির্বাচনে অংশ নেননি বিএনপি নেতা ও বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। আর করোনায় প্রয়াত হয়েছেন সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান।

এর আগে বুধবার (২১ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৭৯ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ৪২টি ওয়ার্ডে এই সিটিতে এবার পঞ্চমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এবার মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৮৭ হাজার ৮১১ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৫৪ হাজার ৩৬০, নারী দুই লাখ ৩৩ হাজার ৩৮৭ জন এবং ছয়জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।

এবার সিলেট সিটিতে মেয়র পদে ৮ জন, ৪২টি সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ২৭৩ জন এবং ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৮৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, জাকের পার্টির মো. জহিরুল আলম, স্বতন্ত্র মো. আব্দুল হানিফ, মো. ছালাহ উদ্দিন রিমন, মো. শাহ জাহান মিয়া এবং মোশতাক আহমেদ রউফ মোস্তফা।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে মোট ২ হাজার ৬শ’ পুলিশ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

 

 

Share





Related News

Comments are Closed