Main Menu

কমলগঞ্জে একমাস যাবত বিদ্যুৎ বঞ্চিত ৭ পরিবার, দুর্ভোগ চরমে

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : নতুনভাবে লাইন স্থাপনের পাঁচ বছর যাবত বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর লাইনে ত্রুটি দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ অফিসের লাইনম্যান। এরপর গ্রাহকদের যোগাযোগের আহবান জানায় সংশ্লিষ্ট লাইনম্যান। গ্রাহকরা যোগাযোগ না করায় ১১ হাজার টাকা জমা দিলে লাইনে পুনরায় সংযোগ চালু করে দেয়ার কথা বলা হয়। ফলে গত একমাস যাবত বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত কমলগঞ্জের পতনঊষার ইউনিয়নের কোনাগাঁও গ্রামের নিরীহ সাতটি পরিবার। এতে রমজানে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কোনাগাঁও গ্রামের বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত আশ্বব আলী, মশ্বব আলী, মছব্বির মিয়া, রাসেল মিয়া, আজমত উল্ল্যাসহ পরিবার সদস্যরা জানান, আমাদের কোনাগাঁও গ্রামে সর্বশেষ বিদ্যুতের লাইন স্থাপন করা হয় ২০১৮ সনে। বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের পর ৩টি পরিবার বিগত ৫ বছর যাবত ও বাকী ৪টি পরিবার বিগত ২০ বছর যাবত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছি। এরই মধ্যে হঠাৎ করে লাইনে ত্রুটি দেখিয়ে গত ৯ মার্চ কোনাগাঁও গ্রামের ৭ পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন উপজেলার পতনঊষার অভিযোগ কেন্দ্রের লাইনম্যান ইমরুল। পরে আমাদেরকে তাদের সাথে যোগাযোগ করার কথা বলেন। আমরা আর্থিক অস্বচ্ছল থাকায় লাইনম্যানের সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি। পরে তিনি উপজেলা অফিসে রিপোর্ট প্রদান করেন। অফিস তাদের নিয়ম অনুযায়ী পুণরায় লাইন চালুর জন্য ১১ হাজার টাকা জমা দিতে বলেন। ফলে রমজান মাসে ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, আমরা দরিদ্র থাকায় অর্থাভাবে অফিসের নির্ধারিত ফি দিতে পারছি না। তবে কারিগরি কিংবা লাইনের ত্রুটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অফিস নিজ খরচে কাজ সম্পন্ন করানোর কথা। অথচ অমানবিকভাবে আমরা দরিদ্র লোকদের টাকা জমা দিতে বলা হচ্ছে। এটি মোটেও কাম্য ছিল না।

অভিযোগ বিষয়ে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের পতনঊষার অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ সাবান আলী সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই সাতটি পরিবার খুবই অসহায় ও দিনমজুর। তবে লাইন ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় বিচ্ছিন্ন করতে হয়েছে। আমি অফিসে প্রতিবেদন পেশ করেছি। প্রতিবেদন দেয়ার আগে যোগাযোগ করলে হয়তো কোন ব্যবস্থা করা যেতো। এখন ১১ হাজার টাকা জমা দিয়ে লাইন পুণ:সংযোগ দেয়া যাবে।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মীর গোলাম ফারুক বলেন, লাইন ঝুঁকিপূর্ণ ও তার লোজ হওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত ফি দিয়ে সংযোগ নেয়ার জন্য তাদের চিঠি দেয়া হয়েছে।

 

Share





Related News

Comments are Closed