Main Menu

দেশে প্রথমবার মৃত মানুষের কিডনি প্রতিস্থাপন

Manual8 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের প্রথম সফল ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্ট তথা ব্রেন ডেথ রোগীর অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০ বছর বয়সী ব্রেন ডেথ রোগী সাহারা ইসলামের (মৃত) দেহ থেকে নেওয়া দুটি কিডনি দুজন কিডনি বিকল রোগীর দেহে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে এক মৃত মানুষ থেকে বাঁচলেন দুইজন। পাশাপাশি আলো দেখবেন দুজন। নিজের দুটো কর্ণিয়াও দান করে গেছেন সাহারা।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদের সার্বিক নির্দেশনায় এবং প্রক্টর ইউরোলোজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলালের নেতৃত্বে এ ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে।

বুধবার (১৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকে কিডনি অপারেশন থিয়েটারে এ সফল অপারেশন করা হয়। বিএসএমএমইউ’র প্রক্টর ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলালের নেতৃত্বে দুটি চিকিৎসক দল এ অপারেশনে অংশ নেন।

জানা গেছে, সাহারার দুটি কিডনির একটি মিরপুরের বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী শামীমা আক্তারের দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এ সফল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বিএসএমএমইউ’র কিডনি অপারেশন থিয়েটারে। সাহারার অপর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে কিডনি ফাউন্ডেশনে আরেক রোগীর দেহে।

Manual7 Ad Code

কিডনি ও কর্নিয়া দানকারী সাহারা ইসলামের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অঙ্গদানের কাজে উদ্বুদ্ধ করেন বিএসএমএমইউ’র ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুজ্জামান সজীব।

সারা ইসলাম – ফাইল ছবি

অঙ্গদাতা সাহারা ইসলাম ১০ মাস বয়সে টিউমার স্কেলেলিস রোগে আক্রান্ত হন। এ রোগ নিয়ে দীর্ঘদিন লড়াই করেন। এ লড়াই করা অবস্থায় সাহারা ইসলাম অগ্রণী গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি এবং হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ইউনিভার্সিটি অব ডেভলভমেন্ট আন্ট্রনেটিভে (ইউডা) ফাইন আর্টসে ভর্তি হন। সাহারা ইসলাম ফাইন আর্টসের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

দুরারোগ্য টিউবারাস সিরোসিস রোগের সঙ্গে দীর্ঘ ১৯ বছর লড়াই করার পর অবশেষে পরপারে চলে গেছেন ঢাকার বাসিন্ধা সারা ইসলাম। তবে মরণোত্তর অঙ্গদানের এক অনন্য নজির স্থাপন করে গেছেন ২০ বছর বয়সী এই তরুণী। মৃত্যুর আগে তিনি তার দেহের সবকিছুই দান করে দিতে বলেছেন। তবে চিকিৎসকরা শুধু তার দুটি কিডনি ও দুটি কর্নিয়া কাজে লাগিয়েছেন।

Manual5 Ad Code

সারার দুটি কিডনিতে দুইজন মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। আর তার দুটি কর্নিয়ায় দুইজনের চোখে আলো ফিরে এসেছে।

ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রথম অঙ্গদাতা সারা ইসলামের নাম বাংলাদেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

Manual1 Ad Code

তিনি বলেন, ইতোপূর্বে আমরা এ ধরনের দুই-একটি রোগীর ক্ষেত্রে সফল হতে গিয়েও অঙ্গদানে রাজী করাতে পারিনি। কিন্তু প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছি। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সফল হয়েছি। বাংলাদেশের চিকিৎসা শাস্ত্রের জগতে ইতিহাস সৃষ্টি করতে পেরেছি।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাহারা ইসলামের চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক ডা. কামরুল হুদা। এ সময় রোগ নির্ণয় ও পরে অঙ্গদানের মহৎ উদ্যোগে সাহারার মা, স্কুল শিক্ষিকা শবনম সুলতানাকে উদ্বুদ্ধ করেন বিএসএমএমইউ’র আইসিইউ’র সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুজ্জামান সজীব।

শিক্ষিকা মা শবনম সুলতানা এবং বাবা শহীদুল ইসলামের জেষ্ঠ সন্তান সারা ইসলাম। সারার একটি ছোট ভাই আছেন। জন্মের ১০ মাস বয়সে দুরারোগ্য টিউবারাস সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হন সারা। তিনি এ রোগ নিয়ে প্রায় ১৯ বছর ধরে লড়াই করে গেছেন। এ লড়াই করার পথ পরিক্রমায় সারা ইসলাম অগ্রণী গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি এবং হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলভমেন্ট আল্ট্রারনেটিভে (ইউডা) ফাইন আর্টসে ভর্তি হন। সারা ইসলাম ফাইন আর্টসের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি একজন দক্ষ চিত্রশিল্পী ছিলেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সারা ইসলামের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক, চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। এরপর মরদেহ আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

Manual1 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code