Main Menu

আর বুক কেটে বাইপাস নয়, আস্থা বাড়াচ্ছে এমআইসিএস পদ্ধতি

স্বাস্থ্য ডেস্ক: জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটে আস্থা বাড়াচ্ছে মিনিমাল ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি বা এমআইসিএস।

পুরো বুক কাটার পরিবর্তে ছিদ্র করে ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে অপারেশন করায় ঝুঁকি যেমন কম, তেমন নিশ্চয়তা আছে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার। এরই মধ্যে দুই শতাধিক সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটে।

মাইনুল হক আর রমজান আলী নামে দুই রোগী জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে পাশাপাশি বিছানায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দুজনই এক কঠিন পথ পাড়ি দিয়েছেন গত কয়েক দিনে। তবে সামনের পথটা একটু আলাদা। বাইপাসে পুরো বুক কেটে সার্জারির কারণে মইনুল হকের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে কিছুটা সময় লাগবে। আবার হাসপাতাল ছাড়তেও বেশ সময় দিতে হচ্ছে তাকে। অন্যদিকে রমজান আলীর বুকে ফুটো করে অপারেশন হওয়ায় অল্প সময়েই তিনি এ ধকল কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আশ্রাফুল হক সিয়াম রোগী মাইনুল হকের বাইপাস সার্জারি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বাইপাস সার্জারির মধ্যে আমরা যদি দেখি মাইনুল হকের প্রধান তিনটি রক্তনালিতে ব্লক ছিল এবং রমজান আলীরও প্রধান তিনটি রক্তনালিতে ব্লক ছিল। মাইনুল হককে আমরা সারা দেশে যেভাবে এ রোগের চিকিৎসা হয়, মানে বাইপাস সার্জারি পুরো ‍বুকের হাড় কেটে অপারেশন করে তিনটি বাইপাস রাস্তা করে দেয়া হয়েছে। এটি হচ্ছে ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতি। এ পদ্ধতি সারা দেশ এবং সারা বিশ্বে এটিই ফলো করা হয়ে থাকে।

তিনি আরও বলেন, ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতি থেকে সবচেয়ে আধুনিক যেটা মিনিমাল ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি বা এমআইসিএস সেটা রমজান আলীকে করা হয়েছে। তার বুকের কোনো হাড় কাটা হয়নি, বুকের পুরোটা না কেটে বাম পাশে অল্প একটু কেটে ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে অপারেশন করা হয়েছে। তার রক্তনালিতে তিনটি ব্লক ছিল সেখানে ৩টি বাইপাস রাস্তা করে দেয়া হয়েছে। তাদের দুজনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে যে পার্থক্যটা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, তিনি দ্রুত সেরে ‍উঠছেন, ইনফেকশন ঝুঁকি কম, রক্তক্ষরণ কম হয়েছে, তিনি বাড়ি ফিরে যাওয়ার উপযোগী।

ডা. আশ্রাফুল হক সিয়াম বলেন, যার বুকের হাড় কেটে বাইপাস করা হয়েছে মানে মাইনুল হকের বুকে ব্যথা করছে, রক্তক্ষরণ বেশি হয়েছে, তার স্বাভাবিক জীবনে যেতে একটু সময় বেশি লাগবে। যেটা আমরা দুই থেকে তিন মাস বলে থাকি। যেহেতু যে হাড় কাটা হয়েছে সেটা জোড়া লাগার একটা ব্যাপার আছে। এই দুই রোগীর ক্ষেত্রে এটাই পার্থক্য। তাদের বুকের মধ্যে একই ধরনের কাজ করা হয়েছে।

শুধু এ ব্লক সারানোই নয় ভিন্ন এই পদ্ধতিতে হার্টের বাল্বের অপারেশনও হচ্ছে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটে। এখন অর্ধেকের বেশি রোগীর সার্জারি হচ্ছে এ পদ্ধতিতে।

মিনিমাল ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি এমআইসিএস ক্রমেই যেন আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছে এ প্রতিষ্ঠানে। সরকারি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে না থাকায় এখানেই আস্থা রোগীদের বাড়ছে।

জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটও হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. ওয়াহিদা সালাম বলেন, দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য মিনিমাল ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি বা এমআইসিএস বেছে নিচ্ছেন রোগীরা।

আপাতত একটু সবল রোগীদের ক্ষেত্রে এমআইসিএস পদ্ধতিতে অপারেশন করা হলেও ধীরে ধীরে আরও পরিণত হচ্ছেন তারা।

হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. এ এসএম সায়েম খান বলেন, আমরা এখন এ পদ্ধতিতে সব ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে এ সেবা দিতে পারছি আল্লাহর রহমতে।

দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারলে এ পদ্ধতির আরও সুফল ঘরে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

Share





Related News

Comments are Closed