অসুস্থতার কাছে হার মানলেন সাতারু বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতীন্দ্র
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বিশ্বরেকর্ড গড়তে সোমবার (২৯ আগস্ট) সকালে সিলেট থেকে ২৮৫ কিলোমিটার দুরে ভৈরবে পৌছার লক্ষ্য নিয়ে সাঁতার শুরু করেন ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য। কিন্তু ৮৩ কিলোমিটার সাতার কাটার পর অসুস্থতার কাছে হার মানতে হল একুশে পদক পাওয়া এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য মঙ্গলবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে সুনামগঞ্জ থানার রঙ্গারচর ইউনিয়নের হরিপাটি নামক স্থানের পার্শ্ববর্তী সুরমা নদীতে অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে নৌকায় তোলা হয় এবং যাত্রা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
এর আগে বিশ্বরেকর্ড গড়তে সোমবার সকালে সিলেট থেকে সাঁতার শুরু করেছিলেন ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য। নগরীর সুরমা কিনব্রিজ পয়েন্ট সংলগ্ন চাঁদনিঘাট থেকে সাঁতার শুরু করেন তিনি। তার ২৮৫ কিলোমিটার সাঁতরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব ফেরিঘাটে পৌঁছানোর কথা ছিল। এতে প্রায় ৭০ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে তার ধারণা ছিল। এইটুকু পথ সাতরে যেতে পারলে টানা সাঁতারের বিশ্বরেকর্ড হবে বলেও জানিয়েছিলেন ক্ষিতিন্দ্র।
মঙ্গলবার তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধারের পর সেখানে উপস্থিত চিকিৎসকরা জানান, যেহেতু বৃষ্টি হয়েছিলো আর নদীর পানি প্রচুর ঠাণ্ডা তাই আজ সকাল থেকেই উনার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিলো, আমরা বার বার অনুরোধ করলেও উনি উনার গন্তব্যে যাবার প্রত্যয়ে সাতার চালিয়ে গেলেও অবশেষে শরীরের কাছে হার মানতে হয়েছে। উনি প্রায় ৩৩ ঘণ্টা সাঁতার কেটে ৮৩ কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দিয়েছেন বলেও জানান তারা।
সাঁতার যাত্রায় থাকা নৌ-বাহিনীর এসআই আনোয়ার জানান, সোমবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টায় সিলেটের কিন ব্রিজ সংলগ্ন সুরমা নদীর চাঁদনীঘাট থেকে সাঁতার শুরু করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের আমবাড়ি বাজারস্থ এলাকায় পৌঁছালে অসুস্থ বোধ করেন।
সাঁতার সমাপ্তির পর বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্ষীতিন্দ্র চন্দ্র বৈশ্যকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করা হয়েছে। আশংকামুক্ত আছেন।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্ষিতীন্দ্র বৈশ্য’র সঙ্গে থাকা সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল।
ক্ষিতীন্দ্রের এই উদ্যোগে সহায়তা করছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ইউনিট কমান্ড। এ ছাড়াও সার্বিকভাবে তাকে সহযোগিতা করছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, নৌ পুলিশ ও সিলেট সিভিল সার্জনের একটি দল।
ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্রের বাড়ি নেত্রকোনার মদন উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক পদে থাকা অবস্থায় অবসরে যান তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় এমএসসি পাস করা ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র সাঁতার কেটে এখন পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে ৪টি পুরস্কার পেয়েছেন।
এর আগে সোমবার (২৯ আগস্ট) মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ইউনিট কমান্ডের সাবেক সভাপতি সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ২৮১ কিলোমিটারের মধ্যে সুরমা নদীর ১৪৪ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার, ধনু নদের ৮৪ দশমিক ৩১ কিলোমিটার, ঘোড়াউত্রা নদীর ৩৪ দশমিক ২৭ কিলোমিটার ও মেঘনা নদীর ১৮ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার পাড়ি দেবেন ক্ষিতীন্দ্র। সাঁতার চলাকালে তিনি পানিতে খাওয়া-দাওয়াসহ যাবতীয় কাজ করবেন। সফলভাবে সাঁতার সম্পন্ন করলে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হবে।
Related News
ছাতকে পাগনা বড়বিলে ১০ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ
আনোয়ার হোসেন রনি, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় পাগনা বড়বিল জলমহালসহ বিভিন্ন জলাশয়কে কেন্দ্র করেRead More
সুনামগঞ্জে ৮৭ কোটি টাকার সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ, তদন্ত দাবি
আনোয়ার হোসেন রনি, সুনামগঞ্জ থেকে : সুনামগঞ্জ-কাছিরগাথি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের প্রায় ৮৭ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ ঘিরে নিম্নমানেরRead More



Comments are Closed