ছাতকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার শিক্ষক-শিক্ষিকার কাণ্ড !
সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ছাতকে তিন শিক্ষিকা ও এক শিক্ষক দীর্ঘ সাড়ে ৪ বছর ধরে প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ অন্যান্য সহকর্মী ও শিক্ষা কর্মকর্তা কারো সাথেই তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। ফলে তারা জীবিত না মৃত অথবা কোথায় আছেন, কি করছেন বা কর্মস্থলে কেন অনুপস্থিত এ বিষয়ে কারো কাছে কোন তথ্য নেই।
তারা অনুপস্থিতি থাকার কারনে তাদের ক্লাসগুলো নিতে হচ্ছে অন্য শিক্ষকদের। এতে ওপর শিক্ষকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন সহকর্মীরা।
এক মাসের চিকিৎসা জনিত ছুটি নিয়ে সাড়ে ৪ বছরেও তারা কর্মস্থলে ফেরেনি।
উপজেলার দেবেরগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা খালেদা ইয়াছমিন, ১০৪ নম্বর আলমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা রুনা বেগম, শিবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা সুলতানা আক্তার ও জাউয়া বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফয়ছল আহমদ স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে লন্ডন ও আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার দেবেরগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা খালেদা ইয়াছমিন গত ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল ছুটি নিয়ে লন্ডনে চলে যান।
১০৪ নম্বার আলমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা রুনা বেগম গত ২০১৮ সালে ১৯ জুন বিদ্যালয় থেকে ছুটি নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস স্বামীর সঙ্গে লন্ডনে বসবাস করছেন।
শিবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা সুলতানা আক্তার গত ২০১৮ সালের ১৮ আগষ্ট ছুটির দরখাস্ত জমা দিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন আমেরিকায়।
তারা দীর্ঘ সাড়ে চার বছর ধরে বিদ্যালয় অনুপস্থিত থাকার পরও তাদের চাকুরী রয়েছে এখনো বহাল রয়েছে।
একইভাবেই ২০২২ সালের ৬ জুলাই এক মাসের চিকিৎসা জনিত ছুটি নিয়ে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে জাউয়া বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফয়ছল আহমদ লন্ডনে চলে গেছেন বলে এলাকা জুড়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে।
গত ২০২২ সালের ৬ জুলাই এক মাসের চিকিৎসা জনিত ছুটির একটি দরখাস্ত বিদ্যালয়ে জমা দিয়ে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে লন্ডনে চলে যান বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
অথচ এ ধরনের ছুটির জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এসব শিক্ষক শিক্ষিকারা কর্তৃপক্ষকে ভুল তথ্য দিয়ে নিয়ম নীতিকে বৃদ্ধাআঙ্গুল দেখিয়ে প্রাথমিক ছুটি নিয়ে চলে গেছেন প্রবাসে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মকতাদের ম্যানেজ করে এক মাসের চিকিৎসা জনিত ছুটি নিয়ে দেশত্যাগ করেছেন এসব শিক্ষক শিক্ষিকারা। দেশত্যাগ করে প্রবাসে যাবার আগে বহিঃ বাংলাদেশের ছুটির নিয়ম থাকলেও এসব শিক্ষক শিক্ষিকারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করে তাদের তথ্য গোপন রেখে চাকুরী না ছেড়েই স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে বিদেশে চলে গেছেন বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
চিকিৎসাজনিত ছুটির প্রাথমিক একটি দরখাস্ত বিদ্যালয় ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিয়ে সহকারী শিক্ষক ফয়ছল আহমদ দেশত্যাগ করেছেন।
তার সহকর্মী শিক্ষকদের ভাষ্য মতে, ফয়ছল আহমদ চিকিৎসাজনিত ছুটির দরখাস্ত দিয়ে লন্ডনে স্থায়ীভাবে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে চলে যান।
তিনি লন্ডনে বসবাস করলেও বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারনে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তার বেতন ভাতা গত জুলাই থেকে বন্ধ করে রেখেছে বলে অফিস সূত্রে জানা গেছে।
তবে যাওয়ার সময় ছুটি মঞ্জুরির কোনো প্রকার কাগজ বা প্রমাণপত্র বিদ্যালয়ে বা উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেননি বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন।
অপরদিকে উপজেলার কয়েকটি স্কুলের আরও অন্তত ১৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা লন্ডন যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাসুম মিয়া এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন তিনজন শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চৃড়ান্ত নোটিশসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পত্র প্রেরন করা হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসাজনিত ছুটির দরখাস্ত দিয়ে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে লন্ডনে গেছেন একজন শিক্ষক। এঘটনার খোজ খবর নিয়ে সত্যতা মিললেই তার বিরুদ্ধে আইনানুগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Related News
সুনামগঞ্জে বৃদ্ধা ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ডোবা থেকে এক বৃদ্ধা এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলা থেকে একRead More
টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়াতে এসে পর্যটকের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়াতে এসে ট্যাকেরঘাট এলাকায় হার্ট অ্যাটাক করে আশিষRead More



Comments are Closed