Main Menu

সিলেটে আবারও বৃষ্টি, দীর্ঘ হতে পারে বন্যা

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: শতাব্দির ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি এখনো সামাল দিতে পারেনি সিলেটবাসী। এখনো শত শত গ্রাম পানির নিচে। লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি। খেয়ে না খেয়ে রাস্তার পাশে, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন হাজার হাজার মানুষ। দিন দিন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে ও রাতে জেলায় বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে বন্যার আঘাত দীর্ঘ হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মানুষের মাঝে ফের বিরাজ করছে আতংক-উদ্বেগ।

এমনিতেই সিলেটে দুই দফা বন্যায় বড় সংকটে পড়ে গেছে অর্থনীতি। এসব বন্যায় বোরো আর আমন ফলন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, পর্যটনসহ নানা খাতে ব্যাপক লোকসান হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বন্যার প্রভাবে এরই মধ্যে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। এ অবস্থায় বন্যা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়ার শঙ্কা ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ ছাড়া কিছুই নয়। এতে শতাব্দির সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সিলেট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেটের বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, ফেঞ্চুগঞ্জ, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট উপজেলায় ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট এখনো অর্ধেকেরও বেশি পানির নিচে। বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পানি স্থির হয়ে আছে। বালাগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তো রীতিমতো তাবু বাস করছেন অসংখ্য মানুষ। অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অন্যান্য উপজেলাগুলোর চিত্রও প্রায় এক।

এ অবস্থায় সিলেটের পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, আগামী কয়েক দিন সিলেটে বৃষ্টি হতে পারে। ভারতে বৃষ্টি হলে সিলেটের দিকে পাহাড়ি ঢল নামবে। এতে আবারও পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে, সিলেট নগরে মঙ্গলবার সকালে ও রাতে বৃষ্টি হয়েছে। নগরের অনেকে বলেন, এখনো আগের ক্ষত শুকায়নি। বাসা-বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় আসবাব থেকে শুরু করে লাখ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে। ফের বৃষ্টি দেখে মনে শঙ্কা জাগছে। পানি বাড়লে আবার কী হবে?’

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এ কে এম নিলয় পাশা বলেন, আগামী কয় দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। এতে পানি বৃদ্ধি পাবে কি না, আগেই বলা যাচ্ছে না। কিন্তু ভারতে বৃষ্টি হলে সিলেটে পাহাড়ি ঢল নামতে পারে। এতে ফের বন্যার শঙ্কা আছে।

এদিকে, সিলেট নগরের যেসব এলাকা বন্যায় ভাসছিল, প্রায় দুই সপ্তাহ পর অধিকাংশ এলাকায় পানি নেমেছে । দু’-একটি সড়ক ছাড়া সব ভেসে উঠছে। ফের জেগে ওঠার লড়াই চলছে। তবে ঘরে ফিরে নতুন সমস্যায় পড়েছেন তারা। অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গোটা উপশহরজুড়ে দুর্গন্ধ। রোজভিউ হোটেলের সামনের গলি দিয়ে ভেতরে ঢুকতে নাকে ভেসে এলো উৎকট গন্ধ। দম বন্ধ হওয়ার অবস্থা। টিকে থাকা দায়। ভেতরে যতই ঢোকা হলো ততই গন্ধ আরও তীব্র হলো। পঁচা গন্ধ। বাসা, বাড়ি, ড্রেন সবখান থেকেই বাতাসে ভেসে আসছে গন্ধ। এতে বিষিয়ে উঠছে নগরজীবন।

 

 

Share





Related News

Comments are Closed