মে মাসে ৫২৮ সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৬৪১
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মে মাসে সারা দেশে ৫২৮টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৬৪১ জন। আহত ১ হাজার ৩৬৪ জন। নিহতদের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মে মাসে সড়কে ঝরেছে ১০৭ জন শিক্ষার্থীর প্রাণ।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মে মাসের সড়ক দুর্ঘটনাসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি সোমবার (৬ জুন) প্রকাশ করা হয়।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে প্রতিদিন গড়ে ২১ জন নিহত হয়েছেন, যা এপ্রিলের তুলনায় ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ বেশি। মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন ৭৬ দশমিক ২৮ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে ২২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
মে মাসে দেশে যত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার ৪৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। এ মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৭৯ জন।
মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ৮৪ জন। শিশু ৯৭ জন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৩ দশমিক ৫২ শতাংশ মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী। আর দুর্ঘটনায় ১৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ পথচারী নিহত হন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ সংখ্যা ২৯ দশমিক ২১ শতাংশ। ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ ২২ দশমিক ৯৭ শতাংশ। থ্রি-হুইলার ১৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বাস ১৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
মে মাসে জাতীয় সড়কে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই সংখ্যা ৪১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। ৩৬ দশমিক ১৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। গ্রামীণ সড়কে ঘটেছে ১৪ শতাংশ দুর্ঘটনা।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই প্রবণতা পরিস্থিতিকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
অপ্রাপ্তবয়স্ক ও যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর কারণে তাঁরা নিজেরা দুর্ঘটনায় পড়ছেন। পাশাপাশি তাঁরা অন্যান্য যানবাহনকে আক্রান্ত করছেন।
সাইদুর রহমান বলেন, এ অবস্থায় গণপরিবহন সহজ, সাশ্রয়ী ও উন্নত করার পাশাপাশি যানজট কমিয়ে মোটরসাইকেল ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা জরুরি। কিন্তু সেটা না করে মোটরসাইকেল ব্যবহার উৎসাহিত করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার বেশ কিছু কারণ উঠে এসেছে। তার মধ্যে কিশোর-যুবকদের বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালানো, চালকদের অদক্ষতা ও অস্থিরতা, ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির শিথিলতা ও গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি অন্যতম।
প্রতিবেদনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’-এর সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করা, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বাড়ানো, গণপরিবহন উন্নত করা, সড়ক-মহাসড়কে সড়ক বিভাজক নির্মাণ, বিআরটিএর সক্ষমতা বাড়ানো অন্যতম।
Related News
বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: চীনের দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ে এসে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।Read More
ভ্যাটের আওতায় আসছে মুদি দোকান-বিউটি পার্লারসহ ১৬ ব্যবসায়িক খাত
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মুদিদোকান ও বিউটি পার্লারসহ বেশ কয়েক ধরনের নতুন ব্যাবসায়িকRead More



Comments are Closed