সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে বড় বড় গর্ত, ঘটতে পারে দুর্ঘটনা
আব্দুল খালিক, দক্ষিণ সুরমা থেকে: সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের মধ্যখানে কয়েকটি বড় বড় গর্ত। দেখতে প্রায় মিনি পুকুরে পরিণত হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে, যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নগরীর হুমায়ুন রশিদ চত্বর থেকে কদমতলী পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের মধ্যে বেশ কয়েকটি বড় বড় গর্ত হয়েছে। গর্তের মধ্যে দিয়ে যখন গাড়ি চলাচল করে মনে হয়, গাড়ি উল্টে যাবে, দূর্ঘটনার আতংক থাকে।
সিলেটের প্রবেশ দ্বার হুমায়ুন রশিদ চত্বর, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক, সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়ক, সিলেট শাহজালাল উপশহর সড়ক ও সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সহ বিভিন্ন সড়কের যোগাযোগ কদমতলী পয়েন্টের সড়ক দিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক সংস্কারের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এদিকে নজর দিচ্ছে না। তাদের অবহেলার কারণে এ গর্তের জন্য যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সড়ক দিয়ে চলাচলকারী শিক্ষক মকবুল আলী বলেন, সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে বড় বড় গর্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, ঝুঁকি নিয়ে রোগীবাহী গাড়ি, শিক্ষার্থী, পথচারী সহ জনগণ চলাচল করছেন। বিশেষ করে রাতে অনেক গাড়ির লাইটের আলো কম থাকে, সেই সময় বেশি দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। এভাবে ঝুঁকির মধ্যে যানবাহন চলাচল করলে যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। বড় ধরেন দুর্ঘটনা ঘটার আগে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান।
যানবাহন চালক রুহুল আমিন জানান, সড়কের অবস্থা খুব খারাপ থাকার কারণে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গাড়ি। এছাড়া একাধিক বড় বড় গর্ত দিয়ে গাড়ি চালানো আমাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এমতাবস্থায় দুর্ঘটনা ঘটছে হরহামেশা।
এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী রুমা বেগম। স¤প্রতি ভাঙা সড়কে রিকশা উল্টে আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমি আত্মীয়ের বাড়ি থেকে অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলাম। সামনের দিক থেকে আসা একটি ভ্যানকে জায়গা দিতে গেলে সড়কের ভাঙা অংশের গর্তে চাকা পড়ে আমাদের অটোরিকশা উল্টে যায়। আমিসহ অটোর পাঁচ যাত্রী আহত হয়েছি।
মোটরসাইকেল চালক রানা মিয়া বলেন, ভাঙা সড়কের গর্তের ওপর মোটরসাইলের চাকা উঠলেই তা পিছলে দুর্ঘটনা ঘটছে।
রিকশা চালক মানিক মিয়া বলেন, আমরা গরিব মানুষ, দিন আনি দিন খাই। সড়কে ভাঙ্গা ও গর্তের কারণে রিকশার পেছনে যত টাকা খরচ হয়, তাতে আমাদের পরিবার নিয়ে দুবেলা দুমুঠো খাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। সড়ক ঠিক করে না দিলে আমরা রিকশা চালিয়ে খাওয়া বাঁচা দায় হবে।
জানা যায়, সাম্প্রতিক বন্যার পানির নিচে ছিলো সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার ১৪টি ওয়ার্ডের ২৫০ কিলোমিটার সড়ক। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী বিধায়ক রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, মহানগরী এলাকার সড়কসহ বন্যার সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে কাজ চলছে। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, ক্ষতিগ্রস্ত বাসাবাড়ির তালিকা প্রণয়ন এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে একটি উচ্চতর সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে সিসিক।
এব্যাপারে সড়ক ও জনপদ সিলেট অফিসে যোগাযোগ করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।
Related News
ঢাকা-সিলেট রুটে আসছে নতুন ট্রেন
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: যাত্রীদের চাপ মোকাবিলায় ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটে নতুন এক জোড়া বিরতিহীনRead More
জব্দ করার ২ দিন পরই উধাও কোটি টাকার পাথর
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে জ্বালানি ওRead More



Comments are Closed