Main Menu

গাজীপুরের ছাদ বাগানী মনিরা পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগরীর জোড়পুকুর পাড় এলাকায় মনিরা সুলতানা নামের আমেরিকা ফেরত এক নারী ‘বাড়ীর ছাদে বাগান সৃজন’ ক্যাটাগরিতে প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার পাচ্ছেন। এই ক্যাটাগরিতে তিনি প্রথম হয়েছেন।

মনিরা সুলতানার এ ছাদ কৃষির সংবাদ ইতোপূর্বে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়। এরপর তার ছাদ কৃষি সম্পর্কে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর জানতে পারে বলে জানিয়েছেন মনিরা সুলতানা। পরবর্তীতে তিনি ছাদ কৃষি নিয়ে প্রশিক্ষণ, চারা ও বীজ বিতরণ সহ বিভিন্ন সেমিনার আয়োজন করেন। এর পর ‘বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার-২০২০’ এ মনোনীতদের তালিকায় তার নাম আসে।

মঙ্গলবার (২৪ মে) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর বরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মনিরা সুলতানা সহ অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পুরস্কারপ্রাপ্তির তথ্য জানা যায়। এতে প্রথম পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুরের প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা গ্রামের ব্যবসায়ী আকরাম হোসেনের স্ত্রী মনিরা সুলতানা ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে রোববার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার-২০২০’ পদক সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মনোনীতদের বাছাই করা হয়। সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) এবং পদক মূল্যায়ন জাতীয় কমিটির সদস্য-সচিব ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর মোঃ আখতারুজ্জামান-সহ কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা, জেলা এবং বিভাগ পর্যায়ে বিচার বিশ্লেষণের পর জাতীয় কমিটি চূড়ান্তভাবে এই পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কারের জন্য এ বছর ৭ জন ব্যক্তি ও ১৬টি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করেছে সরকার।

মনিরার স্বামী আকরাম হোসেন জানান, গাজীপুর মহানগরীর জোড়পুকুর পাড় এলাকায় তাদের বাড়ির ছাদের উপর গড়ে তুলেছেন দেশি বিদেশি উদ্ভিদের এক বিশাল সমারোহ। স্ত্রীর এ বাগান সৃজনের কাজে উৎসাহ ও সার্বিক সহযোগিতা করেছেন স্বামী আকরাম হোসেন। মনিরা শখের বশে ২০১৪ সালের দিকে অল্প কিছু গাছ এনে লাগিয়েছিলেন। এরপর হঠাৎ মাথায় এলো কিভাবে এটিকে উৎপাদনমুখী ও বাণিজ্যক করা যায়। সেই চিন্তা থেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন জাতের ঔষধি গাছ, সবজি ও নানা ধরনের ফলের গাছ আমদানি করলেন। স্বামী আকরাম হোসেন যতবার বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন, ততবার তার জন্য নিয়ে এসেছেন কোন না কোন উদ্ভিদের জাত। তিনি বলেন, ছাদটি পরিপূর্ণভাবে সাজিয়ে সেখান থেকে কিছু চারা বিক্রি করেছেন। এর পরেই মাথায় আসলো আরো বড় পরিসরে ছাদে বিভিন্ন ঔষধি গাছ ও ফলমূলের চারা উৎপাদন করবেন। একই সাথে চারা উৎপাদন, ছাদ কৃষিতে উদ্ভিদের পরিচর্যা ও অল্প জায়গায় সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে লোকজনকে প্রশিক্ষণ দেবেন। তিনি তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘ প্লান্টস ফ্রম মুন ‘ নামের একটি গ্রæপ খুলেন। সেখানে সদস্য হলেন অসংখ্য মানুষ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন তাঁর সাথে যোগাযোগ করতে লাগলেন। তার ছাদে তিনি মাছ চাষ করছেন। মাছের হাউজ থেকে বালতিতে করে পানি নিয়ে গাছের গোড়ায় দেন তিনি। এতে গাছ অনেক পুষ্টি পায়। এছাড়া বাড়িতে উৎপাদিত সবজির উচ্ছিষ্টাংশ বিশেষ পদ্ধতিতে জৈব সারের রূপান্তর করেন। এসব সার বাজারে পাওয়া যেকোনো সারের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। অর্গানিক সবজি উৎপাদনের জন্য তিনি এগুলো গাছকে খাবার হিসেবে দেন।

মনিরা জানান, তার এ ছাদ বাগানে সব মিলিয়ে উদ্ভিদের সংখ্যা ১৪শ ৩৯টি। এর মধ্যে ওষুধি গাছ আছে ৪০ প্রজাতির। শোভাবর্ধনকারী গাছ আছে ৫৬ প্রজাতির। বিশেষ প্রজাতির গাছের সংখ্যা ২৬ টি। দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির গাছ আছে ৭ প্রজাতির। ফলদ গাছের সংখ্যা ৯৯ টি। অন্যান্য অন্তত ১০০ প্রজাতির অনেক গাছ আছে তার ছাদে। ঔষধি গাছের মধ্যে আছে, অর্জুন, আমলকি, বহেরা, হরিতকী, ঘৃতকুমারী, নিম, তুলসি, থানকুনি, বাসক, পেইন কিলার, অ্যাড্রেসিয়া বেরি, ক্লিন স্টোমাক, চেইন অফ গেøারি, রুইলিয়া রেসিলিয়া, ডেইজি, কিডনি প্লান্ট, ভ্যানিলা অর্কিড, কর্পূর, জয়ত্রী, গোলমরিচ, সুইট রেসিন, ট্রি রেসিন, কারি পাতা প্রভৃতি। সবজির মধ্যে আছে লেটুস, করলা, ধনেপাতা, বেগুন, কাকরোল, পটল, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, লাউ, লাল ঢেরস, সিম, শসা, টমেটো সহ আরো বিভিন্ন প্রজাতি। এছাড়া দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় জাতের মধ্যে আছে ওল্ড চন্ডাল, আগর, সিভিট, হলদু, কৃষ্ণ বট, অশোক, কর্পূর প্রভৃতি।

তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় মনিরা বলেন, এ পুরস্কার প্রাপ্তিতে পরিবারের সকলেই অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। এতে তার উৎসাহ বহুগুনে বেড়ে গেছে। তার কাজের স্বীকৃতি / মূল্যায়ন পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এভাবে দেশের উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হলে দেশে বেকাড়ত্ব কমবে এবং বেকাররা স্বালম্বী হয়ে দেশের উন্নয়নে ভ‚মিকা রাখবে।

৫ জুন ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পুরস্কার প্রদান শুরু করবেন বলে জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর বর।

 

0Shares





Related News

Comments are Closed