সিলেটে এই প্রথম ‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারি’ সফল
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত ‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রম’ -এর আওতায় বুধবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) হাসপাতালে প্রথমবারের মত দুজন জন্মবধির তথা শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী শিশুর কানে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ মে) ঢাকার এবং ওসমানী হাসপাতালের নাক-কান-গলা ও হেড সার্জারি বিভাগের একদল দক্ষ সার্জন-চিকিৎসক দুটি টিমে ভাগ হয়ে অস্ত্রপচারের মাধ্যমে আদ্রিকা রায় কথা (৪) ও তাসফিয়া জান্নাত (২) নামের দুই জন্মবধির (শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী) শিশুর কানে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট স্থাপন করেন। অপারেশনের পর তারা সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন অপারেশন টিমের দায়িত্বশীলরা।
কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জিকেল টিমের প্রধান নাক-কান-গলা ও হেড সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটুর সার্বিক তত্বাবধানে প্রথম অপারেশন টিমের নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উক্ত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা.কানু লাল সাহা।
প্রথম অপারেশন টিমের বাকি সদস্যরা হলেন সিওমেক এর এ বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা.কৃষ্ণকান্ত ভৌমিক,ডা.হাসান আতিক চৌধুরী, ডা. তারিকুল ইসলাম ও ডা.অরূপ রাউৎ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা.হারুনুর রশীদ তালুকদার ইয়ামিন-এর নেতৃত্বে দ্বিতীয় অপারেশন টিমের বাকি সদস্যরা হলেন সিওমেক-এর সহকারি অধ্যাপক ডা.মো.শাহ কামাল, ডা.মেশকাত রায়হান,ডা.মাছুম বিল্লাহ,ডা.বিনয় সেন।
এছাড়া অপারেশন টিমের অন্যান্য সদস্যরা হলেন-সহযোগী অধ্যাপক ডা.ইমাদ হোসেন চৌধুরী,’কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রম’এর কর্মসূচী পরিচালক ও সহকারি অধ্যাপক ডা.নূরুল হুদা নাঈম, সহকারি অধ্যাপক ডা.মুখলেছুর রহমান শামীম, সহকারি অধ্যাপক ডা.আব্দুল কাইয়ুম আনসারী, আবাসিক সার্জন ডা.এম.নূরুল ইসলাম, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা.দেবাশীষ বসু, রেজিস্ট্রার ডা.সুশান্ত সিংহ, রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল হাফিজ শাফী ও ডা.জহিরুল ইসলাম।
অডিওলজিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারি অধ্যাপক শিবা জি (ভারত) ও আনোয়ার শাহাদাত। এনেস্থেশিওলজিস্ট এর দায়িত্ব পালন করেন ডা.ফুজায়েল আহমেদ, ডা.নিঝুম দাশ, ডা.রায়হান আহমেদ।
এছাড়া, সিওমেক নাক-কান-গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের সকল নার্স ও ওটি স্টাফরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
নাক-কান-গলা ও হেড-নেক সার্জনদের সোসাইটির সভাপতি এবং বিএসএমএমইউ এর এ বিভাগের এক্স-চেয়ারম্যান দেশবরেণ্য অধ্যাপক ডা.আবুল হাসনাত জোয়ারদার, সিওমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ময়নুল হক ও সিওমেকহা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা.মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া সার্বক্ষণিকভাবে অপারেশন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার ব্যাপারে পরামর্শ দেন এবং খোঁজখবর রাখেন।
অপারেশন শেষে দুই শিশু আদ্রিকা রায় কথা (৪ বছর) ও তাসফিয়া জান্নাত (২ বছর ৪ মাস) জান্নাত এখন পর্যন্ত ভালো আছে। সার্জনরা অপারেশনের পর অপারেশন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
সিওমেক তথা সিলেটে প্রথম বারের মত এই অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারায় ‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রম’ এর পক্ষ থেকে বিএসএমএমইউ, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।
Related News
অবশেষে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করলেন সিলেটের সেই অন্তঃসত্ত্বা নারী
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: চিকিৎসকের ছাড়পত্র না থাকায় আগেরদিন ওসমানী বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসা সিলেটের সেইRead More
সিলেটে ৪৯০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার, আটক ২ যুবক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় পুলিশের অভিযানে বালুভর্তি একটি ডাম্প ট্রাক থেকে ৪৯০ বোতলRead More



Comments are Closed