বদলে গেছে ছাতক থানার চিত্র
ছাতক প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শিল্পনগরী ছাতক থানা মানেই টাকা। এখানে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। এমন ধারণা জনসাধারণের। তবে জনসাধারণের সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছেন ছাতক থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান। ওসি হিসেবে যোগদানের পর অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে থানার দালাল চিহিৃত করে তালিকা তৈরি করেছেন। এখন প্রায় দালালমুক্ত ছাতক থানা।
এ থানায় সেবা নিতে আসা লোকজন টাকা ছাড়াই এখন সাধারণ ডায়েরি (জিডি), অভিযোগ ও মামলা লেখা বা অন্তর্ভুক্ত করতে পারছেন। পুলিশের আচরণ যেমন পাল্টেছে, তেমন থানার চিত্রও বদলেছে। এতে আগের তুলনায় থানায় সেবার মানও অনেক বেড়েছে।
অপরাধীরা যেন, অপরাধ করে পার না পায় সে বিষয়েও তিনি কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ, ভূমি দস্যুদের কাছে ওসি মাহবুবুর রহমান এখন এক আতংকের নাম।
পুলিশ সর্বদাই জনগনের বন্ধু এবং জনগনের জানমাল রক্ষার প্রহরী। পুলিশ-জনতা এক সাথে মিলে কাজ করলে দেশ থেকে অপরাধ কমে যাবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
ওসি মাহবুবুর রহমান এ থানায় যোগদানের প্রায় এক মাসের মধ্যেই সৃজনশীল ও যুগোপযোগী পরিকল্পনার ফলে ছাতক থানা ও পুলিশ হয়ে উঠেছে এ উপজেলার ১৩টি ইউপি ও একটি পৌর সভার ৫ লাখ মানুষের আস্থার ঠিকানা।
ওসি মাহবুবুর রহমান যোগদানের পর থেকেই অল্পদিনেই পাল্টে যায় ছাতক থানার চিত্র। আলোচনা এবং সমালোচনার মধ্যদিয়ে তিনি ছাতক থানার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। হাজার কোটি টাকার হাদার টিলা রক্ষা করতে গিয়ে তার ওপর নানা অপপ্রচার চলছে।
এ ঘটনার পর একটি সিন্ডিকেট চত্রু ওসি মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে নামে বেনামে ভূয়া ফেইসবুক পেইজ ও আইডি থেকে ওসির বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট মনগড়া ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়। এ অভিযান চালিয়ে যেমন আলোচনায় আসেন, তেমনি কিছু সমালোচনার মধ্যে পড়েন। কিন্তু এসব সমালোচনার কোন তোয়াক্কা না করে গরু চুরি, মারামারি, খুন, মাদক-সন্ত্রাস ও ভূমি দস্যু বাল্যবিবাহমুক্ত শান্তির জনপদ হিসেবে ছাতক থানাকে গড়তে চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন ওসি মাহবুবুর রহমান।
ছাতক উপজেলায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদক-সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রনে ওসি মাহবুবুর রহমান এর
ভূমিকা সর্বস্তরে প্রশংসনীয়। এছাড়াও তিনি সফলতার সাথে বিভিন্ন গরু চুরি, ডাকাতি, নারী নিযাতন, ধর্ষন, ছিনতাই, মোটর সাইকেল চোর, অস্ত্র-মাদক বিরোধি অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন ওসি।
তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মাদক-সন্ত্রাসের স্বর্গরাজ্য খ্যাত ছাতক উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন আগের তুলনায় মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে। শুধু তাই নয়, তিনি যোগদানের পর থেকে থানা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মকান্ডও দিন দিন কমতে শুরু করেছে। তিনি ওসি হিসেবে যোগদানের পর ছাতক থানা এখন প্রায় “দালালমুক্ত”।
তার কর্মদক্ষতার মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ নিয়ে তার অধিনস্থ অফিসারদের সর্বদা নির্দেশ দিয়ে থাকেন তারা যেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সেবায় কাজ করেন।
ছাতক থানার ওসি মাহবুবুর রহমান যোগদানের আগে উপ-পরিদর্শক পদে মৌলভীবাজার, বি-বাড়িয়া ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পুলিশ পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পেয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত ছিলেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তিনি কাজ করেন। এর পর দেশে ফিরে ওসি হিসাবে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার আকাখাজনা গ্রামের মরহুম ইন্তাজ আলীর সু-যোগ্যপুত্র ওসি মাহবুবুর রহমান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে এমএসসি পাশ করে ১৯৯৮ সালে প্রথমেই উপ-পরিদর্শক (সাব-ইন্সপেক্টর) হিসাবে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন।
এব্যাপারে ওসি মাহবুবুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন ফেইসবুক আইডি দিয়ে বেনামে অপপ্রচার না করে প্রকৃত মা-বাবার সন্তান হয়ে থাকলে সঠিক নাম দিয়ে সামনে এসে কথা বলার অনুরোধ করেন। এছাড়া আমি দীর্ঘসময় পেলে ছাতক থানাকে শান্তির জনপদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করবো।
Related News
লাফার্জহোলসিমের উদ্যোগে ছাতকে মৎস্য চাষীদের নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জ্ঞান ও বাস্তবমুখী দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষকRead More
ছাতকের আওয়ামী লীগ নেতা হাজী স্বপন ঢাকায় গ্রেপ্তার
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকের আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী হাজী স্বপন মিয়াকে (৫২)Read More



Comments are Closed