Main Menu

সুনামগঞ্জে বন্যার আগেই ভেঙে গেল বাঁধ, তলিয়ে গেছে ফসল

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পাটলাই নদীর পানি উপচে নজরখালী বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে ১৬০ হেক্টর জমির ফসল। এতে তলিয়ে গেছে তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের দুই হাজার কৃষকের ফসলি জমির ধান।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার (২ এপ্রিল) সকালের দিকে তাহিরপুর সীমান্তের বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া দিয়ে পানি এসে পাটলাই নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। বাঁধের ওপর দিয়ে পানি ঢুকে বাঁধটি ভেঙে যায়। সাত দিন পরে পানি এলেই হাওরের ফসল কাটা যেত। কিন্তু এক রাতের পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকেছে।

ছিলাইন তাহিরপুর গ্রামের সেলিম মিয়া বলেন, এই হাওরে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো বাঁধ দেয়নি।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার হাসান উদ দৌলা বলেন, টাংগুয়ার হাওরে কৃষি জমির পরিমাণ খুবই কম। এটি মাছের অভয়াশ্রম। বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কৃষকের দুই কোটি টাকার ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, টাংগুয়ার হাওর একটি রামসার সাইট। এখানে বাঁধ দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। তারপরও উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে পানির প্রাথমিক চাপ ফেরানোর জন্য ছোট আকারে একটি বাঁধ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে বাঁধ টেকেনি।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবির বলেন, টাংগুয়ার হাওর ইসিএ এরিয়া এখানে বাঁধ দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। এটি মূলত মাছের হাওর। প্রতিবছর স্থানীয়রা নিজেদের অর্থায়নে বাঁধ দিয়ে থাকেন। এই হাওরে কৃষি জমির পরিমাণ কম। মেঘালয় পাহাড়ের ছড়া দিয়ে পাটলাই নদীর পানি বেড়ে বাঁধটি ভেঙে যায়। এটি মেরামত বা সংস্কারের কোনো সুযোগ নেই। পরে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সহযোগিতা করা হবে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, টাংগুয়ার হাওরে বাঁধ দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। কখনো পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে বাঁধ দেয় না। স্থানীয়রা প্রতিবছর নিজেদের উদ্যোগে এখানে বাঁধ দিয়ে থাকেন। এবারও বাঁধ দিয়েছেন কিন্তু সে বাঁধ টেকেনি। গেল কয়েক বছর যাবত হাওরের এসব জমিতে ধান ফলানো হয়।

Share





Related News

Comments are Closed