Main Menu

জাবিতে লন্ড্রিম্যানকে মারধরের অভিযোগ, ভিকটিমের অস্বীকার

জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আফম কামালউদ্দিন হলের লন্ড্রিম্যান মাহবুব আলম তাকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

সোমবার (২৮ মার্চ) একটি জাতীয় দৈনিকে ‘পাওনা টাকা চাওয়ায় মধ্যরাতে লন্ড্রিম্যানকে মারধরের অভিযোগ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে সংবাদে অভিযোগকারী লন্ড্রিম্যান মাহবুব আলম বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমার কাছে অনেকের টাকা বাকি ছিল। একজন হলের গ্রুপে পোস্ট দেয় বাকি টাকা দিয়ে দেয়ার জন্য। প্রায় সবাই আমাকে টাকা দিয়েও দিছে। অনেকে আমাকে ধমক দিয়ে বলে যে, টাকা তো আপনাকে দিবই, সবার কাছে টাকা পাওয়ার বিষয়টি রটানোর কি প্রয়োজন? এসব কথা শোনার পর আমি ভয় পেয়ে যাই। রাতেই হল থেকে চলে আসি একবার। তবে আমার সাথে ধমক দিয়ে কথা বললেও আমাকে মারধর করেনি।’

প্রকাশিত সংবাদে মাহবুব আলম দাবী করেন তিনি হলের শিক্ষার্থীদের নিকট ১০ হাজার টাকা পান। তবে তার নিকট গচ্ছিত পাওনার লিস্ট খতিয়ে দেখা যায় তার মোট পাওনার পরিমাণ ১৩২০ টাকা, যার মধ্যে অধিকাংশ টাকা পরিশোধ করে দেয়া হয়েছে বলে দাবি লিস্টে উল্লেখিত কয়েকজন শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও হলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর বরাত দিয়ে উক্ত সংবাদে লেখা হয় লন্ড্রিম্যান মাহবুব আলমকে মারধর করা হয়েছে বলে শুনেছেন তিনি। তার পিঠে ও হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে দেখেছেন। তবে সরেজমিনে ২৮ মার্চ বিকেলে অনুসন্ধান করে মাহবুব আলমের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তিনি হাতে একটি ব্যান্ডেজ পরে থাকলেও ব্যান্ডেজের ভেতরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের প্রাধ্যক্ষ আ. স. ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘মাহবুবের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানার জন্য আমি সন্ধ্যায় হলের গেস্টরুমে যাই, মাহবুবের সেখানে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও সে হলের পেছনের দেয়াল টপকে আমার বাসায় যায় এবং আমার ওয়াইফ দরজা খুললে তাকে বলে যে ছাত্ররা তাকে মেরে রক্তাক্ত করে দিয়েছে অথচ আমি তখন হলে উপস্থিত এবং গতকাল রোববার রাতে মারধর করলে আজ সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কিভাবে রক্ত বের হয়? পরে আমি তাকে হলে আসতে বললেও সে আসতে অস্বীকৃতি জানায়। এছাড়াও সে আমার বাসায় জামাকাপড়ের ব্যাগের ভেতর সবসময় টাকা চেয়ে চিঠি দিত, হলের দায়িত্বরত অন্যান্য শিক্ষদের নিকটও টাকা চাইতো।’

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী জাহিদুজ্জামান শাকিল বলেন,’ মাহবুব আমার কাছে ২০ টাকা পেত, আমি রাতে তাকে পাওনা ২০ টাকা দিয়ে আরো ২০ টাকা চা নাস্তা করার জন্য দেই। এছাড়া তার সাথে রাতে আমার আর কোনো কথা হয়নি। পরদিন সোমবার দুপুরে মনির ভাই (ডাইনিং স্টাফ) এবং মাখনদার উপস্থিতিতে আমরা ওকে আগের রাতে কোনো মারধর করা হয়েছে কিনা জিজ্ঞাসা করি এবং সে বলে যে তাকে কোনো মারধর করা হয়নি।’

হলের নরসুন্দর মাখন বলেন, ‘আমার কক্ষ মাহবুবের পাশেই। ওকে মারধরের কোনো ঘটনা আমার চোখে পড়েনি। আমার উপস্থিতিতে ওকে রাতে মারধর করা হয়েছে কিনা জিজ্ঞাসা করা হলে মাহবুব বলে যে তাকে কোনো মারধর করা হয়নি।’

আ.ফ.ম. কামালউদ্দিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এহতেশাম শাহরিয়ার সিকদার বলেন, ‘আমার রুম লন্ড্রি রুমের কাছেই। আমি কাল সোমবার ভোর চারটা পর্যন্ত সজাগ ছিলাম। কিন্তু মারধরের কোন ঘটনা আমার চোখে পড়েনি। আর মাহবুব ভাই অনেকদিন থেকেই অসংলগ্ন আচরণ করছে।’

জানা যায়, লন্ড্রিম্যান মাহবুব একজন দেশদ্রোহী মামলার আসামি। এই মামলায় সে তিন মাস জেলও খেটেছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে করা এবং বউ পেটানোর অভিযোগও রয়েছে। হলের শিক্ষার্থী ও আবাসিক শিক্ষকদের নিকট প্রায়শই তিনি ‘আমি বাঁচবনা স্যার, আমি বাঁচবনা ভাই’ এসব বলে টাকা চাইতেন। হলের অভ্যন্তরীণ চায়ের দোকানে ও ক্যান্টিনে লন্ড্রিম্যান মাহবুবের প্রায় দুই হাজার টাকা বাকিও আছে বলে জানিয়েছে দোকান ও ক্যান্টিন মালিক।

 

Share





Related News

Comments are Closed