Main Menu

সিলেটে আ.লীগ নেতার ভাগনা পরিচয়ে জায়গা দখলের চেষ্টা

Manual3 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে বাড়ি পুরুষ শূন্য করে আওয়ামী লীগ নেতার ভাগনা পরিচয় দিয়ে বসত ভিটা ও জায়গা দখলের চেষ্টা করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। ভুক্তভোগী পরিবারের নারী সদস্যরা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দিয়েও রেহাই পাচ্ছেন না। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সদস্য চলে গেলেই ফের জায়গা দখলের চেষ্টা শুরু করেন এ প্রভাবশালী ব্যক্তি। এতে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে পরিবারটি।

বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেছেন সিলেট নগরের শাহী ঈদগাহস্থ অনামিকা এ/৮৭ নম্বর বাসার বাসিন্দা মৃত ফিরোজ খানের মেয়ে রায়হানা বেগম। এসময় প্রভাবশালী চক্রের হাত থেকে নারী-শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের বাঁচাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রায়হানা বেগম বলেন, শাহী ঈদগাহস্থ ফিরোজ খান মঞ্জিলের অংশিদার মালিক হিসেবে আমরা ১৬ জন উত্তরাধীকার মিলেমিশে বসবাস করে আসছি। আমাদের মালিকানাধীন ২৫ শতক ভূমিতে নির্মিত দোকানকোটার উপর চোখ পড়ে শাহী ঈদগাহস্থ ন্যাশনাল মেগা শপের মালিক ও ঈদগাহস্থ বাজার কমিটির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন ও তার ভাইয়ের। প্রথমে ২০১৯ সালে তিনি জায়গা দখলের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলা চলমান থাকলেও তিনি বিভিন্ন সময় আমাদের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছেন। এই ঘটনার পর কোতয়ালী মডেল থানায় আমার স্বামী আরিফ আহমদ একাধিকবার সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

Manual1 Ad Code

রায়হানা বলেন, আদালতের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জায়গা দখল করতে পরিকল্পিতভাবে গিয়াস উদ্দিন গত বুধবার আমার স্বামীসহ ৮ জনের নামে একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। কোতয়ালি মডেল থানার সিআর মামলা নং ৩৩৬/২০২২। মামলা দায়েরের পর থেকে বাড়ির সকল পুরুষ সদস্য পলাতক। বাড়িটিতে শুধুমাত্র আমরা কয়েকজন মহিলা বসবাস করছি।

তিনি বলেন, বাড়িটি পুরুষশূন্য থাকায় আমাদের ভিটেমাটি ও দোকান কোটার জায়গা দখলের চেষ্ঠা শুরু করেন গিয়াস উদ্দিন। ১৬ মার্চ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮ টা থেকে তার লাটিয়াল বাহিনী আমাদের বাসার চারপাশ ঘিরে রাখতে শুরু করে। রাত বাড়ার সাথে সাথে লোকজনের আনাগুনা আরও বাড়তে থাকে। আতঙ্কে আমাদের দোকানের ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীরা দোকানকোটা বন্ধ করে দেন। রাত ১টার দিকে হঠাৎ করেই একটি বালু বোঝাই ট্রাক এসে বাসা ও দোকান কোটার সামনে বালু ফেলতে থাকে। বালু ফেলার কারণ জানতে চাইলে তারা আমার উপর চড়াও হয় এবং মারধর শুরু করে। আরও কিছুক্ষণ পরে দুটি ট্রাক এসে একই স্থানে বালুগুলো ফেলে রেখে যায়। পুরুষশুন্য বাড়িতে এমন ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত হয়ে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করি। পরে পুলিশ এসে গিয়াস উদ্দিনের বাসার সামনে লোকজনকে জড়ো দেখতে পান। এসময় পুলিশ সদস্যরা আমাদের সাথে কথা বলেন ও গিয়াস উদ্দিনকে সকালে থানায় দেখা করার নির্দেশ প্রদান করেন। পুলিশ সদস্য চলে যাওয়ার পর ফের তারা জায়গা দখলের চেষ্ঠা করে। পরে আবার ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ আসে। এভাবে তিনবার ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে হয়েছে।

Manual7 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে রায়হানা বলেন, ১৬ মার্চ বুধবার সকাল থেকেব গিয়াস উদ্দিন ফের দোকানকোটা দখলের অপচেষ্টা শুরু করে। দুপুর ১২ টার দিকে দোকানকোটা ভেঙ্গে ফেলার জন্য একটি বুলডোজার নিয়ে আসেন। ফের আমরা থানাপুলিশের সাথে যোগাযোগ করি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে বুলডোজারটিকে ফেরত চলে যেতে দেখি।

Manual5 Ad Code

রায়হানা আরও বলেন, গিয়াস উদ্দিন নিজেকে আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার ভাগনা পরিচয় দিয়ে বিভিন্নভাবে আমাদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ আসলেও তাদেরকে আওয়ামী লীগ নেতার পরিচয় দেন। তার অব্যাহত হুমকি ও ভয় ভীতিতে আমরা শঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীন। যেকোনো সময় বড় ধরণের হামলা করে আমাদের ক্ষতি সাধন করতে পারে। নারী-শিশুসহ পরিবারের সকল সদস্যদের বাঁচাতে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

Manual5 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রায়হানার স্বামী মো. আরিফ আহমদ, নানি আবেদা বেগম, ভাই মুমিন খান, বোন বুশরান আক্তার, ভগ্নিপতি রাজ্জাক, ভাই সজল ও ফারুক খান।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code