স্বার্থান্বেষী মহলের রোষানলে পড়ে মানহানি ও হয়রানির শিকার হচ্ছি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ঢাকার কথিত বাউল শিল্পী দেওয়ান শাবানা আজমি ও তার সাথে সম্পৃক্ত দেশি-বিদেশি একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করে আমার মানহানি ঘটিয়েছে, করেছে হয়রানিও।
শনিবার (২৯ জানুয়ারী) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য, স্থানীয় ধরাধরপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. কামাল উদ্দিন রাসেল।
সংবাদ সম্মেলনের রাসেল বলেন, সুস্থ ধারার সংগীতচর্চা এবং সিলেটের ঐতিহ্য বাউল গান যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও মরমি সাধকদের সৃষ্টি সংগীতগুলো রক্ষণাবেক্ষণের লক্ষ্যে বাউল কল্যাণ সমিতি সিলেট বিভাগ ২০০৭ সালে গঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি হিসেবে আমি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সুস্থ ধারার সংস্কৃতির পক্ষে কথা বলি। কোথাও বাউল গান নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা বিকৃতভাবে সংগীত পরিবেশন করা হলে আমরা সাংগঠনিকভাবে সেটার প্রতিবাদ জানাই। বিশেষ করে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃত গ্রন্থমালা সিলেট’ বইয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন মরমি কবি ও গীতিকারের লেখা কয়েকটি গান অন্য ব্যক্তির নামে প্রকাশ করায় আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি।
কামাল উদ্দিন রাসেল বলেন, আমাদের সংগঠনের সদস্য গোলাপগঞ্জ গীতিকার দুখী রুবেল এর জনপ্রিয় গান ‘কোন পরানে ভুলিয়া গেলি প্রেমো সেল মারিয়া, আমার বন্ধু বিনোদিয়া’ গানটি নিজের লেখা বলে চালিয়ে দেন জগন্নাথপুর উপজেলার জহিরপুর তাজপুর গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী শেখ মোফাজ্জল হোসেন। এতে দুখী রুবেল প্রতিবাদ করায় মোফাজ্জল হোসেন তার মদদপুষ্ঠ গোলাপগঞ্জের হাফিজ উদ্দিন লিটনকে দিয়ে দুখী রুবেলের বিরুদ্ধে গোলাপগঞ্জ থানায় একটি জিডি করায়। দুখী রুবেল বিষয়টি আমাদেরকে জানালে আমরা যাচাই-বাচাই করে দেখতে পাই গানটি দুঃখী রুবেলেরই লেখা। তাই আমরা প্রতিবাদ জানাই এবং রুবেলের পাশে থাকি। পুলিশি হয়রানি থেকে বাঁচতে এবং মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ২০২০ সালের ১০ আগস্ট সিলেটের পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন দুখী রুবেল। এ অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই শেখ মোফাজ্জল হোসেন আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। এরপর থেকে মোফাজ্জল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে বিভিন্ন সময়ে আমার বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকার কথিত বাউল শিল্পী দেওয়ান শাবানা আজমির আমাকে হঠাৎ করে মেসেঞ্জার নক করে। সে নিজেকে বাউল শিল্পী এবং ঢাকার লালবাগের বাসিন্দা বলে জানায়। এর কিছুদিন পর আমার এক ফেইসবুক ফ্রেন্ড যুক্তরাজ্য প্রবাসী আজমান আলী মেসেঞ্জারে গ্রুপ করে কল দেন। ওই গ্রæপে শাবানা আজমিরও ছিল। আজমান আলী আমাকে পরিচয় করে দেন শাবানা আজমির নাকি তার ভাগনি। আমি যেন সিলেটে কোনো প্রোগ্রাম হলে শাবানাকে দাওয়াত করি।
তিনি বলেন, ২২ মে শাবানা আজমির আমার ব্যক্তিগত হোয়াটসআপ নম্বরে একটি লিংক দেয়। লিংকে প্রবেশ করে আমি দেখতে পাই ‘ঢাকার বাউল শিল্পীকে সিলেটে ধর্ষণ, ভিডিও ছেড়ে দেওয়ার হুমকি’ শীর্ষক একটি অনলাইন নিউজ। নিউজ পড়ে জানতে পারি গত ১৯ এপ্রিল শাবানা আজমির সিলেটে নগরীর সাগরদিঘীরপাড়ের একটি বাসায় ধর্ষিত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি ২২ এপ্রিল কোতয়ালী থানায় মামলা দিয়েছেন। ২৫ এপ্রিল শাবানা আজমির তার মা এই মামলা আসামীদের সাথে মোটা অংকের অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে তার কথিত পূর্ব পরিচিত ব্যক্তিদের উপস্থিতে আপোস করেন। মামলায় আরও দুই আসামির সাথে আমার গ্রাম ধরাধরপুরের জনৈক বাবুল মিয়ার নাম দেখতে পাই। এই বাবুল মিয়ার পরিচয় জানতে আমি শাবানা আজমিরকে ফোন দেই। তখন সে বাবুল আর শাহীন নামের দুই ব্যক্তির ছবি পাঠায়। একপর্যায়ে এদের পরিচয় জানতে ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখ করে এদের ছবিসহ ফেসবুকে একটি পোস্ট দেই। শাবানা আজমির আমার ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে ফোন করে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মামলায় জড়ানোর হুমকি দেয়। এতে আমি হতভম্ব হয়ে যাই।
এদিকে, আমার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে দেশ-বিদেশের একটি বড় চক্রের সহযোগিতায় শাবানা আজমি গত ৩ জুন ঢাকার চকবাজার থানায় প্রথমে আমার বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করে। কিন্তু চকবাজার থানার ওসি এসআই ওয়ালি উল্লাহকে জিডিটি তদন্ত করার দায়িত্ব দেয়া হলেও তিনি তদন্তে কোনো অভিযোগ পাননি।
রাসেল বলেন, এরপর ওই চক্রের সহযোগিতায় বিশাল অর্থ সংগ্রহ করে আমাকে পুনরায় হয়রানি করতে উঠেপড়ে লেগে যায়। এর অংশ হিসেবে প্রথমে ফেসবুকে আমার নামে ফেইক আইডি খুলে একটি মেয়ের ছবি (মুখ ঢাকা) দিয়ে পোস্ট দেয়। রহস্যজনক কারণে শাবানা আজমির দাবি করছে এই ছবিটি তার এবং আমি তার ছবি দিয়ে পোস্ট করেছি। তাই সে ওই পোস্টের স্ক্রীনশর্ট নিয়ে গত ৪ আগস্ট চকবাজার থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে আমার বিরুদ্ধে মামলা করে।
রাসেল বলেন, শাবানার দায়ের করা চকবাজার থানার মামলায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর তালতলাস্থ আমার অফিস থেকে র্যাব গ্রেপ্তার করে আমাকে। এক মাস ১০ দিন কারাভোগ শেষে ২৯ অক্টোবর আমি জামিনে বের হই। রাসেল বলেন, একটি গোষ্ঠী এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছে। ওই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আরকুম শাহ (রহ.) মাজার কমিটির সেক্রেটারি হারুনুর রশীদ, বলদী আদর্শ বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম মোস্তফা কামাল, মো. খায়রুল ইসলাম, শাহাবুল আহমদ, বাউল নুনু গাজী, শিপলু মিয়া প্রমুখ।
Related News
চাকরি সিলেটে, চার নার্স বসবাস করেন ইউরোপে
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও একজন মিডওয়াইফRead More
বিশ্বনাথে ছেলেসহ বিএনপি নেতা আটক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কদর আলী ও তার ছেলেRead More



Comments are Closed