মাসুদ রানা সিরিজের লেখক কাজী আনোয়ার হোসেন আর নেই
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: অনুবাদক, প্রকাশক, মাসুদ রানা সিরিজের লেখক কাজী আনোয়ার হোসেন মারা গেছেন। বুধবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
লেখকের পুত্রবধূ মাসুমা মাইমুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আনোয়ার হোসেনের পুত্রবধূ মাসুমা মাইমুর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘নিভে গেছে দীপ জনমের তরে, জ্বলিবে না সে তো আর। দূর আকাশের তারা হয়ে গেছে আমার ছেলেটা। আমার ছোট্ট ছেলেটা। আর কোনোদিনও আমার পিছু পিছু ঘুরে খুঁজবে না মায়ের গায়ের মিষ্টি গন্ধ। কোনোদিনই না। কিন্তু মাকে ছেড়ে থাকবে কীভাবে ওই অন্ধকার ঘরে আমার ছেলেটা? একা, শুধু একা? কী সব বকছি জানি না। আব্বা (কাজী আনোয়ার হোসেন) আর নেই। চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের ৩১ অক্টোবর কাজী আনোয়ার হোসেনের প্রোস্টেট ক্যান্সার ধরা পড়ে। মাঝে পাঁচ বার হসপিটালাইজড ছিলেন তিনি। চিকিৎসার সুযোগ খুব একটা পাওয়া যায়নি। একটা ব্রেইন স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক হয়ে সব শেষ হয়ে গেল। ১০ জানুয়ারি থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। আজ চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে।
জানা গেছে, কাজী আনোয়ার হোসেন সেগুনবাগিচায় নিজ বাড়িতে ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে এ লেখক হাসপাতালে যাওয়া-আসার মধ্যে ছিলেন।
লেখক, অনুবাদক, প্রকাশক, এবং জনপ্রিয় মাসুদ রানা সিরিজের স্রষ্টা ছিলেন কাজী আনোয়ার হোসেন। ১৯৩৬ সালের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন বরেণ্য এই লেখক। তার পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম ‘নবাব’। তার পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। তারা ছিলেন চার ভাই, সাত বোন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের পাশে একটি দালানে আনোয়ার হোসেনের ছেলেবেলা কেটেছে। ১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে বাড়ি বদলে তারা পাশের গেস্ট হাউসে চলে আসেন। পরে তারা সেগুনবাগিচায় নিজেদের বাড়িতে চলে আসেন।
১৯৫২ সালে সেন্ট গ্রেগরি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএ ও বিএ পাস করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ পাস করেন। পড়াশুনা শেষ হওয়ার পর রেডিওতে তিনি নিয়মিত গান গাইতে শুরু করেন। তিনি ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা বেতারের সংগীত শিল্পী ছিলেন। ১৯৬২ সালে কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমিনকে বিয়ে করেন। ১৯৬৭ সালে রেডিও কিংবা টিভিতে গান গাওয়া এবং সিনেমার প্লে-ব্যাক ছেড়ে দেন কাজী আনোয়ার হোসেন।নিয়মমাফিক কোনো প্রশিক্ষণ না নিলেও বাড়িতে গানের চর্চা সবসময় ছিল। তার তিন বোন সনজীদা খাতুন, ফাহমিদা খাতুন ও মাহমুদা খাতুন এখনো রবীন্দ্র সঙ্গীতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
১৯৬৩ সালের মে মাসে বাবার দেওয়া ১০ হাজার টাকা নিয়ে সেগুনবাগিচায় প্রেসের যাত্রা শুরু করেন। ৮ হাজার টাকা দিয়ে কেনেন একটি ট্রেডল মেশিন আর বাকি টাকা দিয়ে টাইপপত্র। দুজন কর্মচারী নিয়ে সেগুনবাগান প্রেসের শুরু, যা পরে নাম পাল্টে হয় সেবা প্রকাশনী। পরে তার প্রকাশনা সংস্থা বাংলাদেশে পেপারব্যাক গ্রন্থ প্রকাশ, বিশ্ব সাহিত্যের প্রখ্যাত উপন্যাসের অনুবাদ এবং কিশোর সাহিত্যের ধারাকে অগ্রসর করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৬৪ সালের জুন মাসে প্রকাশিত হয় কুয়াশা-১, যার মাধ্যমে সেগুনবাগান প্রকাশনীর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
কাজী আনোয়ার হোসেনের এক মেয়ে ও দুই ছেলে আছে। তার মেয়ে শাহরীন সোনিয়া কণ্ঠশিল্পী। বড় ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন এবং ছোট ছেলে মায়মুর হোসেন লেখালেখি এবং সেবা প্রকাশনীর সঙ্গে জড়িত। সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে কাজী আনোয়ার হোসেন ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন।
Related News
মাধবদীতে স্বর্ণের চেইনের লোভে বৃদ্ধাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নরসিংদীর মাধবদীতে নামাজরত অবস্থায় বৃদ্ধা জাহানারা বেগম (৭৩) কে হত্যা মামলার তিনRead More
ধামরাইয়ে সিএনজি-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৩
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ঢাকার ধামরাইয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে অজ্ঞাতনামা পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন।Read More



Comments are Closed