Main Menu

সিলেট চেম্বার নির্বাচনে নির্বাচন বোর্ডের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচনে প্রেসিডিয়াম গঠনে নির্বাচন বোর্ডের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদ প্যানেল থেকে নির্বাচিত পরিচালকরা। গঠনতন্ত্র ভেঙে অগণতান্ত্রিকভাবে সিলেট চেম্বারের নতুন সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও সহসভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

নির্বাচন বোর্ডের এমন পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তকে বয়কট করে মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে সিলেট নগরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ‘চেম্বারের ভোটারদের পক্ষে নবনির্বাচিত পরিচালকবৃন্দ’। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদ থেকে সিলেট চেম্বারের নবনির্বাচিত পরিচালক আব্দুর রহমান জামিল।

এসময় ব্যাবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলেন, বলেন আমরা আজ (মঙ্গলবার) আপীল বোর্ডের কাছে অভিযোগ দেবো। আপীল বোর্ডে বিষয়টির সুরাহা হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

লিখি বক্তব্যে আব্দুর রহমান জামিল বলেন, বিগত ১১ ডিসেম্বর শনিবার দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৪০ জন প্রার্থী বিভিন্ন শ্রেণীতে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে সাধারণ ব্যবসায়ীদের সরাসরি ভোটে ১৮ জন নির্বাচিত হন। উক্ত নির্বাচনে সার্বিক সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদ। নির্বাচনের পরবর্তী প্রক্রিয়া প্রেসিডিয়াম নির্বাচন।

প্রেসিডিয়াম নির্বাচনে নির্বাচিত পরিচালকদের মধ্যে যে কেউ প্রেসিডিয়ামের যে কোনো পদে পৃথকভাবে প্রার্থী হতে পারেন। এই প্রক্রিয়ায় উক্ত নির্বাচনে বিভিন্ন গ্রুপ থেকে সভাপতি পদে ২ জন, সিনিয়র সহসভাপতি পদে ২ জন ও সহসভাপতি পদে ২ জন করে মোট ৬ জন সদস্য পৃথকভাবে মনোয়নপত্র দাখিল করেন।

আব্দুর রহমান জামিল বলেন, সিলেট চেম্বারের নির্বাচন বোর্ড প্রেসিডিয়াম গঠনের লক্ষে গত সোমবার বিকেল ৩টায় সভা আহবান করেন। সভায় নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার জলিল জানান- সভাপতি, সিনিয়র সভাপতি এবং সহ সভাপতি ৬ জন ব্যতীত আরো অনেক প্রার্থী সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি এবং সহসভাপতি পদে মনোয়ন জমা দিয়ে পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে নেন। এ সময় নবনির্বাচিত পরিচালক ও প্রেসিডিয়ামের সিনিয়র সহসভাপতি প্রার্থী জিয়াউল হক নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চান কে কে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এই পর্যায়ে মনোয়ন প্রত্যাহরের কোনো সুযোগ আছে কি-না তারও ব্যাখ্যা চান। তখন নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান কোন সদুত্তর প্রদান করতে পারেন নাই।

তিনি আরো বলেন, তখন নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান সভাপতি পদে তাহমিন আহমদ, আব্দুর রহমান জামিল, সিনিয়র সহ সভাপতি পদে জিয়াউল হক, ফালাউদ্দিন আলী আহমদ এবং সহসভাপতি পদে হুমায়ূন আহমদ ও মো. আতিক হোসেন এর নাম একক প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেন। এসময় নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড গোপন ব্যালটের মাধ্যমে বা উপস্থিত সকল পরিচালকের মতামতের ভিত্তিতে বা হাত উত্তোলনের মাধ্যমে প্রেসিডিয়াম নির্বাচন করবেন কি না সে ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের মতামত চান। এসময় পরিচালক তাহমিন আহমদ একটি লিখিত আপত্তি নির্বাচন বোর্ড বরাবরে প্রদান করেছেন বলে জানানো হয়। কিন্তু আপত্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা প্রদান করেন নাই।

জামলি বলেন, নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান সন্ধা ৭টায় হঠাৎ করে রাত ৯ টা পর্যন্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া মুলতবী ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে মুলতবী সভা শুরু করা মাত্রই প্রেসিডিয়াম নির্বাচনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অগ্রসর না হয়েই বিভিন্ন অজুহাতে সময় ক্ষেপন করে আনুমানিক রাত ১০টায় সংঘবিধির অজুহাতে সভাপতি পদে মো. আব্দুর রহমান জামিল ও হুমায়ূন আহমদের প্রার্থীতা বাতিল করেন। একই সময়ে নতুন সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও সহসভাপতির নাম ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জামিল আরও বলেন, প্রেসিডিয়াম নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রæপের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে প্রসিডিয়াম গঠন হল কিনা তা কারো পক্ষে বুঝার কোন সুযোগ নেই। নির্বাচনী বোর্ড কিসের ভিত্তিতে ২টি মনোনয়ন বাতিল করলেন তা আমাদের জানা নেই। নির্বাচনী বোর্ডের এসব অযৌক্তিক, অন্যায়ভাবে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান না করে একতরফা ভাবে মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত দিয়ে সিলেটের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মর্মাহত করেছেন।

এসময় তিনি বলেন, আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করবো। আপীল কর্তৃপক্ষ আমাদের সন্তোষজনক জবাব না দিলে পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ নেব। তিনি আরো বলেন, এই ইসি নির্বাচনের শুরু থেকেই পক্ষপাতিত্ব করছেন। ভোটার নম্বর দেরিতে প্রদানসহ বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করে আসছেন। সবশেষে প্রেসিডিয়াম গঠনে পক্ষপাতিত্ব করে তিনি ব্যবসায়ীদের মর্মাহত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের নবনির্বাচিত পরিচালক জিয়াউল হক, হুমায়ূন আহমদ, আলিমুল এহসান চৌধুরী, জহিরুল কবির চৌধুরী সিরু, মো. আব্দুস সামাদ, দেবাংশু দাস মিঠু, খন্দকার ইসরাক আহমদ ও সানোয়ার হোসেন ছেদু-সহ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

Share





Related News

Comments are Closed