সুনামগঞ্জে নির্বাচনী সহিসংতায় মুক্তিযোদ্ধার বাড়ীতে হামলা লুটপাট
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা গ্রামের জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী সহিংসতা সৃষ্টি ও মুক্তিযোদ্ধার বাড়ী ভাংচুরসহ লুটতরাজকারী শুকুর মোল্লাকে সনাক্ত করেছেন এলাকাবাসী।
নির্বাচনী সহিংসতার জের ধরে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ীসহ ৫টি বসতঘরে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সংগঠিত হলেও এখন পর্যন্ত উক্ত শুকুর মোল্লাকে কোন ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ পর্যন্ত করা হয়নি। তবে এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধার সন্তানরা গুজব রটনাকারীর ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
তৃতীয় ধাপে পরিচালিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিন অর্থাৎ গত ২৮ নভেম্বর রোববার রাত ৮টার সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ইয়াকুব আলীর পুত্র মোরগ প্রতীকে ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী সাহাজ উদ্দিনের বাড়ীতে প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা ভাংচুরসহ লুটতরাজ চালানো হয়। প্রতিপক্ষীয় শুকুর মোল্লা নামের এক ব্যক্তি মঙ্গলকাটা বায়তুন নূর জামে মসজিদের মাইকে গুজব রটিয়ে ও উস্কানীমূলক ঘোষণা দিয়ে বেআইনী জনতাকে সংগঠিত করে নির্বাচনী সহিংসতা সংগঠনে নেতৃত্ব দেয়।
ক্ষতিগ্রস্থ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোকজন বলেন, গ্রামের মৃত মজর আলীর পুত্র শুকুর মোল্লার উস্কানীমূলক ঘোষণা পাওয়ার সাথে সাথেই মঙ্গলকাটা গ্রামের মৃত ওহিদ মিয়ার পুত্র আঃ মোতালিব, মৃত আশ্রব আলীর পুত্র আঃ লতিফ ও জলিল মিয়া, আব্দুল লতিফের পুত্র সজীব, আব্দুল সামাদ এর পুত্র আবুল ফজল, মাইন উদ্দিনের পুত্র বায়েজিদ, মৃত ইছমত আলীর পুত্র কাদির ও মরম আলী, নুর মিয়ার পুত্র আজিম উদ্দিন, মৃত কটু মিয়ার পুত্র মিয়া হোসেন, মিয়া হোসেনের পুত্র আমির হোসেন, মৃত লোকমান হোসেনের পুত্র শরাফত মিয়া ও মাছুম, নাজিম উদ্দিনের পুত্র রফিকুল, মৃত জবেদ আলীর পুত্র মাবুল, হামিদ আলীর পুত্র আজিদ, রুসমত আলীর পুত্র ওসমান গনী, উসমান গনীর পুত্র হযরত আলী ও রহমত আলী, দলাইরপাড়ের মৃত আব্দুল হাশিমের পুত্র সিদ্দেক চৌকিদার, দূর্লভপুরের মৃত নজর আলীর পুত্র নবীর হোসেন, মৃত মধু মিয়ার পুত্র ওয়ারিশ মিয়া, মৃত ইব্রাহিম আলীর পুত্র ফুল মিয়াসহ প্রায় অর্ধশতাধিক লোকজন হাতে লাঠি, সুলফি, ঝাটা, বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সাহাজ উদ্দিনের বসতবাড়ীসহ মোট ৫টি বাড়ীতে হামলা ভাংচুর লুটতরাজ ও অগ্নি সংযোগ চালায়। নারী ও শিশুদের উপর অত্যাচারের পাশাপাশি নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, খামারের ২টি গরুও লুটতরাজ করে নেয়।
মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রী ফুলবানু বেগম বলেন, ৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ শত্রুমুক্ত হওয়ার পরপরই আমার স্বামীসহ বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিপক্ষের বাড়ীঘর লুটতরাজসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে স্থানীয় রাজাকার নূর মিয়া ও আশ্রব আলীকে শাস্তি দিয়েছিলেন। এই ঘটনার জের ধরে উক্ত রাজাকার পুত্র ও তাদের সহযোগীরা আমার পুত্ররাসহ আমাদের আত্মীয় স্বজনদেরকে বারংবার হামলা মামলায় অতিষ্ট করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের ভোটকেন্দ্রে টেবিল কাস্টিং ও প্রিসাইডিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদেরকে বাধ্য করে টিউবওয়েল প্রতীকের প্রার্থী আঃ মোতালিব ৭নং ওয়ার্ডের নির্বাচনে পাশ করার অসদুদ্দেশ্যে শুকুর মোল্লাকে দিয়ে মসজিদের মাইকে উস্কানীমূলক ঘোষণা দিয়া নির্বাচনী সহিংসতা চালায় এবং আমাদের অপূরনীয় ক্ষতিসাধন করে।
শুকুর আলী নিজেকে মসজিদের মুয়াজ্জিন পরিচয় দিয়ে মাইকে ঘোষনা দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
সাবেক মেম্বার আফাজ মিয়া বলেন, শুকুর আলীই প্রকাশ্য দিবালোকে মসজিদের মাইকে উস্কানীমূলক ঘোষনা ও গুজব রটিয়ে নির্বাচনী সহিংসতা চালায়। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। তিনি তাদের কেন্দ্রে প্রিসাইডিং ও পুলিং অফিসারদের পক্ষপাতমূলক আচরন ও নির্বাচনী ফলাফল পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন।
সহিংসতার শিকার আদম আলী বলেন, আমি নির্বাচনে মোরগ প্রতীকের প্রার্থী সাহাজ উদ্দিনের সমর্থক ছিলাম। একারণে মসজিদের মাইকে ঘোষনা দিয়ে মোতালিব মেম্বারের সমর্থকরা আমার উপর হামলা ও বাড়ীঘর ভাংচুর করেছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী জাহান, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক আল-হেলাল, ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক কে.বি মুর্শেদ জাহাঙ্গীর মসজিদের মাইকে ঘোষনা দানকারী শুকুর মোল্লাসহ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্থ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মোঃ জহীর মিয়া বলেন, আমাদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বাধ দিয়ে শুধুমাত্র আদম আলীর সাথে আপোস সমঝোতা করেছে প্রতিপক্ষরা।
সাবেক চেয়ারম্যান ওসমান গনী, আব্দুল কাদির, মোঃ গিয়াস উদ্দিন, রঙ্গারচর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাই, জাহাঙ্গীরনগর ইউপি সদস্য মানিক মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা বশির আহমদ অরুন, অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর তাহের আলী, মোঃ আব্দুর রব, সাবেক মেম্বার শফিকুল ইসলাম মধু মিয়া, আসাদ মিয়া ও হাছেন আলী মাস্টার প্রমুখ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য সালিশে, মোতালিবগংদেরকে নির্বাচনী সহিংসতা, বাড়ীঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটতরাজের দায়ে দোষী সাব্যস্থক্রমে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু যে ব্যক্তির ঘোষণা দ্বারা এতবড় ঘটনা সংগঠিত হলো সেই শুকুর মোল্লার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এছাড়া আমরা আমাদের ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে কোন ন্যায়বিচার পাইনি। তাই আমাদের বিষয়টি নিয়ে আমরা আদালতে যাওয়ার চেষ্টা করছি।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সহিদুর রহমান স্মরণকালের সর্বাধিক অবাধ ও গ্রহনযোগ্য ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠান পুলিশ প্রশাসনের দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, মঙ্গলকাটা কেন্দ্রের ঘটনার সংবাদ জেনে পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌছে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করেছে। ক্ষতিগ্রস্থরা থানায় অভিযোগ দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করতাম। কিন্তু বিরোধীয় দুটি পক্ষ ইতিমধ্যে আপোস সমঝোতায় পৌছে থানায় আপোষনামা দিয়েছে। তারপরও ক্ষতিগ্রস্থ কোন মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বা প্রার্থীপক্ষ অভিযোগ দায়ের করলে আমাদের আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করতে কোন অসুবিধা নেই। যেকোন মূল্যে দাঙ্গাহাঙ্গামা ও নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা রোধে পুলিশ প্রশাসন সর্বদাই সোচ্চার রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
Related News
প্রকৌশলীদের স্ট্রাকচারাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড দিবে লাফার্জহোলসিম
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশের নেতৃস্থানীয় নির্মাণ সামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসিRead More
সুনামগঞ্জে ১৭ বাসকে জরিমানা
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে সিলেট–সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের কাগজপত্র যাচাইয়েRead More



Comments are Closed