বিশ্বে বাংলাদেশি অভিবাসী ৭৪ লাখ: আইওএম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা সাত দশমিক ৪ মিলিয়ন বা ৭৪ লাখ বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
সে হিসাবে অভিবাসী থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ।
আইওএমের বৃহস্পতিবারের (২ ডিসেম্বর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে বুধবার ‘বিশ্ব অভিবাসন প্রতিবেদন ২০২২’ প্রকাশ করে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অভিবাসীর সংখ্যা ১৯৭০ সালে বিশ্বব্যাপী ৮৪ মিলিয়ন থেকে ২০২০ সালে ২৮১ মিলিয়নে উন্নীত হয়েছে যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৩.৬ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী বেশিরভাগ মানুষই (৯৬.৪ শতাংশ) যে দেশে জন্মগ্রহণ করে, সে দেশেই বসবাস করে। কোভিড-১৯ এর কারণে ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক অভিবাসীর সংখ্যা ২ মিলিয়নের মতো কম ছিল।
আইওএম তাদের এ প্রতিবেদনের বিশ্বকে সতর্ক করে বলে, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ক্রমাগতভাবে সারা বিশ্বে অভিবাসীর সংখ্যা বাড়িয়ে চলছে। বর্তমানে পৃথিবীতে ২৮ কোটি ১০ লাখ অভিবাসী রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ৭৪ লাখ (৭.৪০ মিলিয়ন)। আর রেমিট্যান্স পাঠানোয় অষ্টম।
প্রতিবেদনে গত দুই বছরে বিশ্বব্যাপী অভিবাসন খাতের আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিষয় বিশ্লেষণ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে অভিবাসনের ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক কারণগুলো।
আইওএম বলছে, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী চলাচলে নিয়ন্ত্রণ এবং ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিপর্যয়, সংঘাত এবং সহিংসতার কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি বেড়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বব্যাপী আকাশপথে যাত্রীর সংখ্যা ৬০ শতাংশ কমেছে। ২০১৯ সালে যাত্রীসংখ্যা ছিল ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন, যা ২০২০ সালে ১ দশমিক ৮ বিলিয়নে দাঁড়ায়। একই সময়ে দুর্যোগ, সংঘাত এবং সহিংসতার ফলে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪০ দশমিক ৫ মিলিয়ন, যা এক বছর আগে ছিল ৩১ দশমিক ৫ মিলিয়ন।
প্রতিবেদন সম্পর্কে আইওএমর মহাপরিচালক অ্যান্টোনিও ভিটোরিনো বলেন, ‘আমরা একটি বৈপরীত্য লক্ষ্য করছি, যা মানব ইতিহাসে আগে দেখা যায়নি। কোভিড-১৯ এর কারণে শত কোটি মানুষ আটকা পড়েছে। তারপরও লাখ লাখ বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় বিপুলসংখ্যক মানুষ গৃহহীন হতে বাধ্য হয়েছে।’
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী বসবাস করা বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ৭.৪ মিলিয়ন বা ৭৪ লাখ।
এতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের বাইরে বসবাস করেও প্রবাসীরা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশি অভিবাসীরা ২০১৯ সালে ১৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি দেশে পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে ৭৩ শতাংশ প্রবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে এসেছে যারা গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) দেশগুলোতে প্রধানত আধা দক্ষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। এই রেমিট্যান্স, জিডিপির ৬ শতাংশের বেশি এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক আয়ের উৎস।’
প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সম্পর্কে বলা হয়, অভিবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোয় উদ্বুদ্ধ করার জন্য নীতিনির্ধারকদের নেয়া পদক্ষেপের ফলে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
‘বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৯ সালে নগদ প্রণোদনা স্কিমের সর্বোচ্চ সীমা তিন গুণেরও বেশি বাড়িয়েছে, যার ফলে রেমিট্যান্স সুবিধাভোগীরা আনুষ্ঠানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে টাকা পাঠানোর ওপর দুই শতাংশ বোনাস পান ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত। এ ছাড়া রেমিট্যান্স পাঠানোর উৎসাহ আরও বাড়াতে কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক অতিরিক্ত এক শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে’, বলা হয় প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনটির সম্পাদক ম্যারি ম্যাকঅলিফ বলেন, বিশ্ব অভিবাসন প্রতিবেদন সিরিজের ১১তম সংস্করণটিতে অভিবাসন বিষয়ে সাম্প্রতিক তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে অভিবাসন প্রবণতা তুলে ধরা হয়েছে। ব্যাখ্যা করা হয়েছে অভিবাসন নীতির নতুন নতুন দিক।
আইওএমের বাংলাদেশ অফিসার ইন চার্জ ফাতিমা নুসরাত গাজ্জালি বলেন, ‘রেমিট্যান্সের প্রবাহের ওপর কোভিড-১৯ অতিমারির নেতিবাচক প্রভাব সত্ত্বেও ২০২০ সালে ২১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হয়েছে। অভিবাসন বাংলাদেশের উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
‘অভিবাসীরা গন্তব্য দেশে উন্নত অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য অভিবাসন করে এবং তারপরে নিজ দেশে জীবনযাত্রার মান বাড়াতে সহায়তা করে।’
Related News
হঠাৎ সৌদিতে জরুরি সতর্কতা জারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার প্রেক্ষাপটে সীমান্তবর্তী আসির প্রদেশের খামিস মুশাইত ওRead More
পশ্চিমবঙ্গে একসঙ্গে ২৫২ মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পর্যালোচনা চালানোর অংশ হিসেবে ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের নোটিশ দিয়েছেRead More



Comments are Closed