শ্রীমঙ্গলে হত্যা মামলার দুই আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কমলগঞ্জের ব্যবসায়ী নাজমুল হাসান হত্যা মামলার দুই আসামি নিহত হয়েছেন। শনিবার (৬ নভেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের মাইজদিহি পাহাড় ও মৃত্তিঙ্গা চা বাগান এলাকায় র্যাবে ক্রসফায়ারে তারা নিহত হন।
নিহত দুই ব্যক্তি কমলগঞ্জের ব্যবসায়ী নাজমুল হাসান হত্যা মামলার এজাহার ভূক্ত আসামি বলে পুলিশ জানায়।
নিহতরা হলেন, কমলগঞ্জ উপজেলার প্রতাপী এলাকার আব্দুল আহাদ নাইছ মিয়ার ছেলে তোফায়েল মিয়া (৩৫) ও একই উপজেলার জগনশালা এলাকার মৃত মনির মিয়ার ছেলে শহীদ মিয়া (৪০)।
র্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বসু দত্ত চাকমা বলেন, শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে শ্রীমঙ্গল মাইজদী পাহাড় ও মৃতিঙ্গা চা বাগান এলাকায় র্যাবের টহলকালে ১৪-১৫ জনের একটি দুর্বৃত্ত দল তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। এসময় র্যাব সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। পরে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের দুই ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখান থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় গোলাগুলিতে র্যাবের তিন সদস্য আহত হন।
শ্রীমঙ্গল থানার উপ-পরিদর্শক মো. জামাল সংবাদমাধ্যমকে জানান, শ্রীমঙ্গল র্যাব ক্যাম্প থেকে দুটি লাশ আজ রোববার সকালে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জানা গেছে, বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুজন গত ৪ নভেম্বর কমলগঞ্জের চৈত্রঘাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও রহিমপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় ১৪ জনকে আসামি করে কমলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। বন্দুকযুদ্ধে নিহত তোফায়েল ও শহীদ মিয়া এই মামলার এজাহারনামীয় ২ ও ৮ নং আসামি।
জানা গেছে, গত ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের চৈত্রঘাটে মাইক্রোবাসযোগে একদল সন্ত্রাসী এসে প্রকাশ্যে কোপায় ব্যবসায়ী নেতা নাজমুল হাসানকে। গুরুতর অবস্থায় তাকে সিলেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মারা যান।
এ ঘটনার পরদিন নাজমুল হাসানের বড় ভাই শামসুল হক বাদী হয়ে ১৪ জনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে কমলগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, প্রকাশ্যে কোপানোর সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরায় হয়ে যায়। ফুটেজে দেখা যায়, কালো রঙের একটি মাইক্রোবাসে আসা ৯ ব্যক্তি নাজমুলকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে নিজ বাড়ির সামনে এসে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নাজমুল। তখন তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে যায় তারা। ওই সিসিটিভি নাজমুলের ব্যক্তিগত অফিসে লাগানো ছিল।
এদিকে, ঘটনার পর গুরুতর আহত নাজমুল ফেসবুক লাইভে এসে হামলাকারী চারজনকে চেনার কথা জানান। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় তোফায়েল, রাসেল, মাসুদ ও তোফাজ্জল হামলায় জড়িত। ইউপি নির্বাচনে সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় তার ওপর হামলা হয়েছে। তিনি মারা গেলে খুনিদের যেন সাজা হয়, সেই দাবিও জানিয়েছিলেন নাজমুল।
Related News
নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর ধলাই নদী থেকে টমটম চালকের মরদেহ উদ্ধার
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ব্যাটারিচালিত টমটমসহ ধলাই নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩০ ঘণ্টাRead More
কমলগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে অটোরিকশা, চালক নিখোঁজ
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা টমটম পড়ে যাওয়ারRead More



Comments are Closed