Main Menu

কানাইঘাট সীমান্তে এখনো পড়ে আছে দুই বাংলাদেশির লাশ

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ডোনা সীমান্তে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া দুই বাংলাদেশির লাশ দুইদিন ধরে নো ম্যানস ল্যান্ডে পড়ে আছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মরদেহগুলো উদ্ধার করা যায়নি।

লাশগুলো সীমান্তের বাংলাদেশ না ভারত অংশে রয়েছে এনিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে লাশ উদ্ধারে দেরি হচ্ছে বলে জানান বিজিবি কর্মকর্তারা।

এরআগে বুধবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউনিয়নের ডোনা সীমান্তের ১৩৩১ নম্বর পিলারের পাশে দুই বাংলাদেশির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি বিজিবি ও পুলিশকে জানান।

নিহতরা হলেন সীমান্তবর্তী এলাগুল গ্রামের আব্দুল লতিফের পুত্র আসকর আলী (২৫) একই গ্রামের আব্দুল হান্নানের পুত্র আরিফ হোসেন (২২)।

নিহত আরিফের পরিবারের এক সদস্য বলেন, স্থানীয় লালবাজারে যাওয়ার কথা বলে গত মঙ্গলবার বিকেলে আরিফ ও আসকর বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। ডোনা সীমান্ত এলাকার কিছু মানুষের কাছ থেকে তারা শুনেছেন আসকর ও আরিফ ভারতের মেঘালয় রাজ্যের উখিয়াং এলাকায় অনুপ্রবেশ করেছিলেন। এ সময় তাদের ওপর গুলি করে বিএসএফ। ঘটনাস্থলেই দুজন মারা গেলে তাদের মরদেহ সীমান্তের ১৩৩১ মেইন পিলারের পাশে ফেলে রাখা হয়।

লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল কালাম জানান, নিহত আরিফ ও আসকর তার ওয়ার্ডেরই বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার বিকেলের দিকে তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে স্থানীয় লালবাজারে যায়। এরপর তারা আর বাড়িতে ফিরেনি। সীমান্ত এলাকার অনেকে ধারণা করছেন- আসকর ও আরিফ মঙ্গলবার রাতে সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে মেঘালয় রাজ্যের উকিয়াং এলাকায় অনুপ্রবেশ করতে পারে। বুধবার দুপুরে আরিফ ও আসকরের লাশ পড়ে থাকার বিষয়টি জানতে পারেন এলাকাবাসী।

পুলিশের ধারণা, আসকর ও আরিফ মঙ্গলবার রাতে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে থাকতে পারেন। ওই রাতে কিংবা ভোরের কোনো এক সময়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা সে দেশের খাসিয়া আদিবাসীদের গুলিতে মারা যেতে পারেন তারা।

১৯ বিজিবির সুরইঘাট ক্যাম্পের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দুজনের মরদেহ উদ্ধারে বৃহস্পতিবার সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) পতাকা বৈঠক হয়েছে।

বিজিবির ওই কর্মকর্তারা জানান, পতাকা বৈঠকে হত্যার দায় অস্বীকার করেছে বিএসএফ। এমনকি মরদেহগুলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা। যদিও বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে মরদেহগুলো ভারতের অভ্যন্তরে রয়েছে।

বৈঠকে মরদেহগুলো যে স্থানে পড়ে আছে সেই স্থান কোন দেশে পড়েছে তা চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, মরদেহ ভারতের অভ্যন্তরে থাকলে সে দেশে ময়নাতদন্ত হবে। এরপর আরেক দফা পতাকা বৈঠক করে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এতে মরদেহ উদ্ধার ও হস্তান্তরে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।

কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম পিপিএম বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, লাশগুলো এখনো সীমান্তে পড়ে আছে। ওই জায়গা ভারতের অভ্যন্তরে হওয়ায় এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিজিবি ও বিএসএফ যৌথভাবে লাশ দুটি উদ্ধারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বিজিবি-বিএসএফ আলোচনা চলছে, লাশ উদ্ধার হলে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান ওসি।

 

 

 

 

Share





Related News

Comments are Closed