Main Menu

জুনিয়র-সিনিয়র দ্বন্দ্বে রাহাতকে হত্যা, জিজ্ঞাসাবাদে সাদি

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আরিফুল ইসলাম রাহাত (১৮) গত বৃহস্পতিবার কলেজ ক্যাম্পাসে সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্বে নিজ দলের ক্যাডারদের হাতে খুন হন। এ ঘটনার পরপরই প্রধান অভিযুক্ত ছাত্রলীগ ক্যাডার সামসুদ্দোহা সাদিসহ তার সহযোগিরা চলে যায় আত্মগোপনে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

মঙ্গলবার রাতে গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দুর্গম চর এলাকা থেকে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ ক্যাডার সাদিকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এলআইসি’র একটি চৌকস টিম।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানী ঢাকার মালিবাগে সিআইডি হেডকোয়ার্টারে সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, রাহাত খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হওয়ায় ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে সিআইডি। ঘটনার পর সাদী পালিয়ে ঢাকার মিরপুরে অবস্থান করেন। সেখান থেকে আত্মগোপনে কুষ্টিয়ায় চলে যায়। সাদীকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে। সাদি জানায়, রাহাতের চেয়ে বয়সে সাদী ছিলো বড়। এজন্য রাহাতের কাছে ‘জ্যৈষ্ঠতা’ (সিনিয়রিটি) দাবি করে আসছিলো সাদি। এ নিয়ে উভয়ের বিবাদের অংশ হিসেবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। ঘটনার সময় সাদীর পকেটে ছোরা ছিলো বলে জানায় সিআইডি। সেটি দিয়েই রাহাতকে ছুরিকাঘাত করে সাদি।

সিআইডি জানায়, পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই সাদি কলেজের বাইরে বাইক নিয়ে অবস্থান করছিল। এ সময় তার সাথে ছিল আরেক আসামি তানভীর। নিহত রাহাত কলেজে আসার পর পর ২০-৩০ সেকেন্ডের মধ্যে সাদি তার নিজ পকেট থেকে ছুরি বের করে রাহাতকে আঘাত করে। পরে সে পালিয়ে যায়।

সূত্র বলছে, রাহাতকে ছুরিকাঘাতের পরপরই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার একটি স্থানীয় বাজারে আশ্রয় নেয় সাদি ও তার সহযোগীরা। তখনো সে জানে না রাহাত মারা গেছে। দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সাদির অবস্থান ওই বাজারে নিশ্চিত হয়। গত বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে সাদির মুঠোফোনে একটি কল আসে। হত্যার ঘটনায় সাদির দিকে অভিযোগের তীর উঠে আসায় সিলেটের স্থানীয় এক সাংবাদিক বক্তব্য নেয়ার জন্য তার মুঠোফোনে কল দেন। ২৭ সেকেন্ডের ওই ফোনালাপেই প্রথমবারের মতো সাদি জানতে পারে রাহাত মারা গেছে। এর পরপরই ফোন বন্ধ করে পালিয়ে যায় রাহাত হত্যার কিলার সাদি। ফলে পুলিশ সাদির কাছাকাছি এসেও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এরপর থেকেই পলাতক ছিলো সাদি। পালিয়ে চলে যায় রাজধানীর মিরপুরে। এরপর সেখান থেকে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ফিলিপনগর ইউনিয়নে। পাশেই ছিলো ভারতীয় সীমান্ত, মাঝখানে একটি নদী। সীমানা পেরিয়ে ভারতে পালানোর সব পরিকল্পনা সেরে নিয়েছিলো সাদি। কিন্তু তার সকল পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। মঙ্গলবার গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় সামসুদ্দোহা সাদিকে।

এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা এডিসি বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের জানান, রাহাত হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে সিআইডি গ্রেফতার করেছে বলে সিআইডি জানিয়েছে। তবে সিআইডি এখনো আসামীকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেনি।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম রাহাতের হত্যাকান্ডের তদন্ত অগ্রগতি বিষয়ে সিলেটে সিআইডি’র পক্ষ থেকে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডি’র সহকারী পুলিশ সুপার শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের মূল ফটকের ভেতরে ছুরিকাঘাতে খুন হন পুরান তেতলি গ্রামের সুরমান মিয়ার ছেলে ও কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয়বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আরিফুল ইসলাম রাহাত। তাকে উপুর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় হন্তারকরা।

ঘটনায় পরদিন শুক্রবার রাতে রাহাতের চাচা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় সাদিসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি হিসেবে নামোল্লেখ করা হয় সিলাম পশ্চিমপাড়া গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে তানভীর এবং আহমদপুর গ্রামের মৃত গৌছ মিয়ার ছেলে সানির।

Share





Related News

Comments are Closed