Main Menu
শিরোনাম
সিলেটের তিন উপজেলায় নেই সিএনজি ফিলিং ষ্টেশন         ডা. সিকান্দার-সবতেরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্বোধন         বাউল কামাল পাশার ১২০তম জন্মবার্ষিকী পালিত         সিলেটে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১জন নিহত         বগির জয়েন্ট খুলে হঠাৎ দুই ভাগ চলন্ত ট্রেন         বেফাঁস মন্তব্যে বহিষ্কৃত গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র রাবেল         গোয়াইনঘাটে ২২৫ বোতল বিদেশী মদসহ গ্রেপ্তার ৩         গোলাপগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পল্লী বিদ্যুৎতের লাইনম্যানের মৃত্যু         ছাতকে রুহুল আমিন ফাউন্ডেশনের ৫ম বর্ষপূর্তি পালিত         নৌপথে ভারতে প্রবেশের দায়ে পাথর বোঝাই ট্রলার জব্দ         জৈন্তাপুরে স্কুলছাত্রের উপর চোরাকারবারীদের হামলা         ডা. সিকান্দার-সবতেরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু সোমবার        

অনুমতি ছাড়াই ২০০ গাছ কেটে ফেললো সিসিক

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরীতে সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণের জন্য কেটে ফেলা হয়েছে দুইশ গাছ। গাছ কাটার জন্য বন বিভাগের অনুমতিও নেওয়া হয়নি। নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকার এই গাছগুলো কেটেছে খোদ সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।

গত সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সিসিকের কর্মীরা উপশহরের সড়কের পাশের দুই শতাধিক গাছ কেটে ফেলে। আর কেটে ফেলা গাছগুলো টুকরো করে সড়কের পাশে রাখা হয়েছে।

কেটে ফেলা গাছগুলো ইতোমধ্যে বিক্রিও করে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে। ট্রাকে করে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতে গাছ কেটে অধিকাংশ বিক্রি করে ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় একটি চক্র গাছ কেনাবেচায় কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে। খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করে কেনাবেচার সত্যতা পেয়েছে।

বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার পাওয়া আফতাব চৌধুরী উপশহর এলাকারই বাসিন্দা। এই সড়কের পাশের গাছগুলো তিনিই রোপন করেছিলেন। আফতাব চৌধুরী বলেন, ‘এই গাছগুলোর অধিকাংশ আমার হাতে লাগানো। কোনো বাছবিচার ছাড়াই নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে। যেখানে ৫০টির মত গাছ কাটা প্রয়োজন সেখানে দুইশটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এই ২০০টি গাছ একেকটি এক লাখ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার মতো।’

সিসিকের প্রকৌশল শাখা সূত্রে জান গেছে, চলতি অর্থবছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরে ১৫ কিলোমিটার এলাকায় ড্রেন নির্মাণ ও রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। শাহজালাল উপশহর এলাকার সি ব্লকের ২১, ৩৭ ও ৩৮ নম্বর রাস্তায় সম্প্রতি ড্রেন ও রাস্তা বড় করার কাজ শুরু হয়। ওই এলাকার রাস্তার দুই পাশে রেইনট্রিসহ নানা প্রজাতির এসব গাছ ১৯৯০ সালের দিকে লাগানো হয়েছিল।

বন বিভাগের বিধিমালায় আছে, ব্যক্তিমালিকানাধীন অথবা সরকারি জমি থেকে গাছ কাটার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। এরপর তদন্ত করে গাছ টাকার যৌক্তিকতা পাওয়া গেলে গাছের দরদাম নির্ধারণ ও পরবর্তী আরও গাছ লাগানোর শর্তে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়া বন বিভাগের মাধ্যমে করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

জানা যায়, ড্রেন নির্মাণে উপশহর এলাকার কিছু গাছ কাটার জন্য বন বিভাগের কাছে আবেদন করে সিসিক। তবে বন বিভাগ এখনও গাছ কাটার অনুমতি দেয়নি। অনুমতি পাওয়ার আগেই কেটে ফেলা হয়েছে দুইশ গাছ।

বন বিভাগের সিলেট টাউন রেঞ্জের রেঞ্জার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘উপশহরে রাস্তার দুই পাশে ড্রেন নির্মাণ করতে কিছু গাছ কাটার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে ১৭ অক্টোবর বন বিভাগকে একটি চিঠি দেয় সিটি করপোরেশন। পরদিন আমাদের কর্মীরা সেখানে গিয়ে দেখেন গাছ কাটা হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ঠিক কী পরিমাণ গাছ কাটা হয়েছে এবং কাটা গাছগুলো কোথায় নেওয়া হয়েছে, তা আমরা খোঁজ নিচ্ছি।

শ্রমিকরা না বুঝেই গাছ কেটে ফেলেছে জানিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘ওইখানে ড্রেন নির্মাণ ও সড়ক সম্প্রসারন হবে। এজন্য কিছু গাছ কাটা প্রয়োজন। গাছ কাটার জন্য আমরা বন বিভাগকে চিঠিও দিয়েছি। তবে অনুমতি পাওয়ার আগেই সিটি করপোরেশনের কিছু লোক গাছ কেটে ফেলেছেন। এ ব্যাপারে দায়ীদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’

সিটি করপোরেশন গাছ রক্ষায় খুবই আন্তরিক দাবি করে তিনি বলেন, ‘উপশহরে গাছ কাটার বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হবে। আর যাতে অকারণে কোনো গাছ কাটা না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়াব।’

 

0Shares





Related News

Comments are Closed