Main Menu

স্ত্রীর আশা পূরণে এমন ঘর বানালেন, যা চারদিকে ঘুরে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ঘরের ভেতর থেকে চারদিকের বৈচিত্র্যময় দৃশ্য দেখতে চেয়েছিলেন স্ত্রী; সেই চাওয়া পূরণ করতে গিয়ে বসনিয়ার এক ব্যক্তি এমন ঘর বানালেন যা চারদিকেই ঘুরছে আর ভেতর থেকে দেখা যায় চারপাশ। মুহূর্তের মধ্যে ঘরের ভেতর থেকে এই সূর্যোদয় তো পরক্ষণই পাশ দিয়ে মানুষের হেঁটে চলার দৃশ্য চোখে পড়ছে।

বাড়িটি দেখতে প্রত্যেকদিন নামছে মানুষের ঢল। বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ৭২ বছর বয়সী ভোজিন কুসিক রয়টার্সকে বলেন, ‌‘আমি তার আবদার শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম এবং আমাদের পারিবারিক বাড়ি বারবার সংস্কার করেছি। পরে আমি তাকে বললাম, তোমাকে একটি ঘূর্ণায়মান ঘর বানিয়ে দেব; যাতে তুমি এটাকে ইচ্ছেমতো ঘোরাতে পারো।’

উত্তর বসনিয়ার সার্বাক শহরের কাছের এক উর্বর ভূমিতে ঘরটি তৈরি করেছেন ভোজিন। নিজে এই ঘরের নকশা করেছেন তিনি। প্রায় ৭ মিটার অক্ষের চারদিকে ঘুরছে ঘরটি। যার ফলে ঘরে বসেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ভুট্টা খেত, আবাদি জমি, বন এবং নদী দেখা যায়।

কুসিক বলেন, ধীরগতিতে ঘুরতে থাকলে ঘরটির পুরো এক চক্করের জন্য সময় লাগে প্রায় ২৪ ঘণ্টা। কিন্তু দ্রুতগতিতে ঘুরলে মাত্র ২২ সেকেন্ডের মধ্যে এক চক্কর দেয়। তবে নতুন এই বাড়ির বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি তার স্ত্রী।

ভোজিন কুসিক বলেন, তিনি সার্বীয়-আমেরিকান আবিষ্কারক নিকোলা টেসলা এবং মিহাজলো পুপিনের এ ধরনের কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসার পরও সুশিক্ষা ছাড়াই কীভাবে নতুন নতুন জিনিস তৈরির উপায় খুঁজে বের করা যায় সেই প্রেরণা তিনি তাদের কাছে পেয়েছেন।

তিনি বলেন, এটা কোনও উদ্ভাবন নয়। এতে কেবলমাত্র ইচ্ছা এবং জ্ঞানের দরকার। আমার পর্যাপ্ত সময় এবং জ্ঞান ছিল। একেবারে কারও সাহায্য ছাড়াই তিনি এই ঘর তৈরি করেছেন বলে জানিয়েছেন।

উত্তর বসনিয়ার সার্বাক শহরের কাছের এক উর্বর ভূমিতে ঘরটি তৈরি করেছেন ভোজিন

ঘরটি পুরোপুরি তৈরি করতে কুসিকের সময় লেগেছে ৬ বছর। তবে মাঝে হার্টের সমস্যার কারণে কিছুদিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল তাকে। সেই সময় ঘরের নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছিল। অন্যান্য স্থির ঘরের চেয়ে ভূমিকম্পে এই ঘরের ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধের ক্ষমতা বেশি বলে দাবি করেছেন তিনি।

ঘরটি পুরোপুরি তৈরি করতে কুসিকের সময় লেগেছে ৬ বছর

ভোজিন কুসিক বলেন, ‘আমি চিকিৎসকদেরকে আমার আয়ু কমপক্ষে এক বছরের জন্য বৃদ্ধির চেষ্টা চালানোর অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কারণ এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র আমার মাথায়ই ছিল। এবং … কীভাবে এটি শেষ করতে হবে তা কেউই জানবে না।’

সূত্র: রয়টার্স।

Share





Related News

Comments are Closed