Main Menu
শিরোনাম
হবিগঞ্জ সদরে ৪ ইউপিতে আ.লীগ, বাকি চারে অন্যরা         শান্তিগঞ্জে ২টিতে নৌকা, বাকি ৬টিতে অন্যরা জয়ী         সুনামগঞ্জে সবক’টি ইউনিয়নে নৌকার ভরাডুবি         সিলেটে ৯ ইউপিতে নৌকার জয়, বিদ্রোহীসহ অন্যরা ৭         সিকৃবিতে প্যারাসাইট রিসোর্স ব্যাংক উদ্বোধন         ছাতকে ক্রাশিং চুনাপাথর বিক্রি বন্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ         কমলগঞ্জে বসতঘর থেকে তরুনীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার         মাধবপুরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহির মৃত্যু         বিশ্বনাথে আমন ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি         সিলেটের ১৬ ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ চলছে         জৈন্তাপুরে ফ্রি সুন্নতে খতনা ক্যাম্প অনুষ্টিত         সুখী ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে কাজ করছে ক্যাপ ফাউন্ডেশন        

শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদে আ.লীগ প্রার্থীর জয়

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হলেন ভানুলাল রায়। তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে ৫৮৩০৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম বিদ্রোহী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রেম সাগর হাজরা পেয়েছেন ৩৩২৮৩টি ভোট। আফজল হক ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ১২৪৪৬টি ভোট ও মিজানুর রব লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ৭৯৪টি ভোট পেয়েছেন।

নৌকা প্রতীক নিয়ে ভানুলাল রায় ২৫ হাজার ২২ ভোটে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রেম সাগর হাজরা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।

মোট ৮০টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা শেষে ভানু লাল রায়কে বিজয়ী ঘোষনা করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা পরিষদ হল রুমে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও এই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ভানু লাল রায়কে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন৷

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) উপজেলার ৯ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভার ৮০ টি ভোটকেন্দ্রের ৫৭৯টি বুথে মোট দুই লাখ ৩৩ হাজার ৯১৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ১৮ হাজার ১৯৫ এবং নারী ভোটার এক লাখ ১৫ হাজার ৭২১ জন।

নির্বাচনে ৪ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ভানু লাল রায় (নৌকা), জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রব (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজল হক (ঘোড়া) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রেমসাগর হাজরা (আনারস) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে বৈধ ভোট পড়েছে ১ লক্ষ ৬ শত ১৩টি, বাতিলকূত ভোট পড়েছে ১ হাজার ৭শত ২১টি ভোট।

মোট প্রাপ্ত ভোট পড়েছে ১ লক্ষ ৬ হাজার ৫শত ৪৯ টি ভোট। এদিকে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা পরিষদ উপ-নির্বাচনের ভোট বর্জন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজল হক (ঘোড়া), স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রেমসাগর হাজরা (আনারস)।

প্রেমসাগর হাজরা অভিযোগ করে বলেন, ভোটের দিন সকাল থেকে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে নৌকা প্রার্থীর সমর্থকরা কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার ও দখল করে রেখে জাল ভোট দিয়েছেন। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়।

দুপুর ৩টার দিকে দারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা সেন্টারের সামনে তার (প্রেম সাগর আনারস) এর কর্মী মোহন রবি দাশের উপর নৌকা প্রতিকের সমর্থকরা মারধর করে। এতে মোহন রবি দাশের মাথা ফেটে রক্ত বের হয়। এমন অভিযোগ এনে তিনি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি বলেন, চা শ্রমিকরা বার বার জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে আসছেন। আমি চা শ্রমিক সন্তান হয়ে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। কিন্তু আমরা যাদের বার বার ভোট দিয়ে বিজয়ী করি, তারাই আমাদের এই নির্বাচনে কারচুপি করলো। আমাদের সাথে অন্যায় করা হয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজল হক অভিযোগ করে বলেন, আমরাও আওয়ামী লীগ করি। কিন্তু আওয়ামী লীগ কর্মীরা যেভাবে একটি সুন্দর ভোটকে কারচুপির মাধ্যমে নষ্ট করেছে সেটা নিয়ে আমরা আইনি ব্যবস্থা নিবো। আমাদের এই নির্বাচনে বিজয়ের কথা ছিলো। কিন্তু যেভাবে সব ভোট কেন্দ্র দখল করে নৌকায় ছিল মেরে বাস্ক ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে এই নির্বাচন আমরা বর্জন করেছি।

এদিকে দুপুর ২টার দিকে কাসিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে র‌্যাবের সাথে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ হয়। সেখানে গ্রামবাসী হামলায় দুই র‌্যাব সদস্য আহত হন। আহতরা হলেন ল্যান্স নায়েক আক্তার ও কনস্টেবল আবু বকর আহত হন। পরে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

নির্বাচনের রির্টানিং কর্মকর্তা ও মৌলভীবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ভোট বর্জনের বিষয়টি আইনগত সিদ্ধ নয়। দুই প্রার্থীর ভোট বর্জনের কথা আমরা লোকমুখে শুনেছি। প্রার্থীরা আমাদের জানায়নি। এখানে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে কিছু ভোট কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও আইন শৃঙ্খলাবাহিনী সেটা সামাল দিয়ে দিয়েছেন। কোথাও কোন কারচুপি হয়নি। ভোট শতভাগ সুষ্ঠ হয়েছে।

গত ২১ মে এই উপজেলার চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব মারা যান। পরে চেয়ারম্যান পদটি শুন্য ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ৭ অক্টোবর এই পদে ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচনে ১টি পৌরসভা ৯টি ইউনিয়নে মিলে ২লক্ষ ৩৩ হাজার ৯শ ১৬ জন ভোটার রয়েছেন।

0Shares





Related News

Comments are Closed