Main Menu

মুক্তি পেলেন পরীমনি

বিনোদন ডেস্ক: আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ১৯ দিন এই কারাগারেই বন্দি ছিলেন নায়িকা।

তাকে নিতে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার উপস্থিত ছিলেন স্বজনরা। পরীমনির খালু মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীসহ পরিবারের একাধিক সদস্য এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পরীমনির আইনজীবী প্যানেলের কয়েকজন সদস্যও তাদের সঙ্গে ছিলেন।

কারা ফটক থেকে বের হয়ে একটি সাদা গাড়িতে ওঠেন পরীমনি। এ সময় তিনি হতে নেড়ে উপস্থিত জনতাকে শুভেচ্ছা জানান। এক পর্যায়ে গাড়ি থেকে একটু বের হয়ে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে সেলফি তুলেতে দেখা যায় তাকে।

কারাফটকে পরীমনিকে বহন করা গাড়িটি আসার সঙ্গে সঙ্গে ঘিরে ধরে উৎসুক জনতা। পরে গাড়ির সানরুফ খুলে দাঁড়িয়ে পড়েন পরীমনি। উৎসুক জনতার উদ্দেশে হাত নাড়তে দেখা গেছে তাকে। এ সময় হাত মেলানো এবং সেলফিও তুলেছেন পরীমনি। তার চোখে ছিল উচ্ছ্বাস, মুখে সেই চিরচেনা হাসি।

পরীমনির ডান হাতে মেহেদি দিয়ে লেখা ছিল, ‘ডোন্ট লাভ মি বিচ’। শয়তানদের দূরে থাকার কথা বলছেন পরীমনি! কারাগার থেকে বেরিয়ে এমন বার্তাই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ঢালিউডের এ নায়িকা।

এর আগে মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) জামিন পান তিনি। ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ রিপোর্ট দেওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে জামিন দেওয়া হয়।

কিন্তু গতকাল সময়মতো আদেশের কপি কারাগারে না যাওয়ায় পরীমনিকে মুক্ত করতে পারেনি কারা কর্তৃপক্ষ। নিয়ম অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কাগজপত্র কারা কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে হয়। আদালত থেকে নথিপত্র নিয়ে রওনা হলেও সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি। তাই বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে মুক্ত হয়েছেন পরীমনি।

শুধু জামিনের জন্য এর আগে তিনবার আবেদন করেছিলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। রাষ্ট্রপক্ষের জোরালো আপত্তির মুখে কোনোবারই সাড়া পাননি। উল্টো তিন দফায় ৭ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয় পরীকে।

বারবার জামিন আবেদনের শুনানি পেছানোয় বিড়ম্বনায় পড়েন পরীমনি। আদালতে গণমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি। তৃতীয় দফায় রিমান্ড শুনানি শেষে নিয়ে যাওয়ার সময় টানাহেঁচড়ায় পড়েও যান পরী।

এরপর চতুর্থ দফায় জজ আদালতে জামিন চান পরীমনি। কিন্তু শুনানির তারিখ দেরিতে দেওয়ায় আবারও ঝুলে যায় পুরো প্রক্রিয়া।

অবশেষে উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে মঙ্গলবার শুনানি হয়। ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ রিপোর্ট দেওয়ার আগ পর্যন্ত জামিন দেন আদালত।

জামিন পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন পরীর আইনজীবীরা। বলেছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

পরীর আইনজীবী বলেন, তার শারীরিক পরিস্থিতি ও চিকিৎসার জন্য এবং এ মামলায় এখানে ২৬ দিন সে পুলিশ কাস্টডি ও জেলহাজতে ছিল। তাকে তিন তিনবার রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এ মামলায় কোনো তথ্যগত বা প্রমাণ তার বিরুদ্ধে আসেনি। তাই আমাদের জামিন মঞ্জুর করা হোক। তখন আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

বরাবরের মতো রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেছে। জামিন পেলে তদন্তে ব্যঘাত ঘটবে এতদিন বললেও পরীর মুক্তির আদেশের পর তাদের কণ্ঠে ছিল ভিন্ন সুর।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, আদালত ভালো মনে করে জামিন দিয়েছেন। এটা তো আদালতের এখতিয়ার, সেখানে আমাদের কিছু বলার নেই। জামিন যেকোনো পর্যায়ে যেকোনো অবস্থায় পেতে পারে। দীর্ঘদিন কাস্টডিতে থাকবে এমন কোনো কথা না।

গত ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীর বাসা থেকে পরীমনিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার বাসা থেকে মদ, আইস, এলএসডি উদ্ধারের দাবি করে সংস্থাটি। রিমান্ডের সময়সীমা বাদে কাশিমপুর কারাগারে ১৯ দিন ছিলেন এ চিত্রনায়িকা। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার কারামুক্ত হতে পারেন তিনি।

 

 

 

Share





Related News

Comments are Closed