Main Menu

পাঁচসেউতী বাজারে মালিকানা জায়গা দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সাত মৌজার নামে সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার পাঁচসেউতী বাজারে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা দখলের চেষ্টাসহ নানা অপকর্ম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পাঁচসেউতি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নজির আহমদ।

৮০ বছর বয়সি ওই শিক্ষক শনিবার (২৮ আগস্ট) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করে বলেন, তারা জায়গা দখল করতে মামলা হামলাসহ নানা উৎপাত করছে। বিচারের নামে জরিমানা করছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তারা মানছে না।

লিখিত বক্তব্যে পাঁচসেউতি গ্রামের নজির আহমদ জানান, তিনি ১৯৭২ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত বারহাল আলিম মাদরাসার প্রাইমারি শাখায় শিক্ষক ছিলেন। অথচ তাকে সংবাদ সম্মেলন করে ভূয়া শিক্ষক দাবি করা হয়। পাঁচসেউতী বাজারে তিনি ও তার আত্মীয়-স্বজনের প্রায় ৫৭ শতক জমি রয়েছে উল্লেখ করে জানান, এসব জমি দীর্ঘদিন বাজারে অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল। গত মাঠ জরিপে তাদের নামে তালিকাভুক্ত হয়। সম্প্রতি বাজার ও সাত মৌজার নিয়ন্ত্রক পরিচয় দিয়ে স্থানীয় একটি ভূমিখেকো চক্র ওই জমি বাজারের দাবি করে রেকর্ড সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা করে। এর নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় মুবেশ্বর আলীর ছেলে বিলাল উদ্দিন, কুরিহাই গ্রামের জাবিদ মিয়ার ছেলে হাছন আলী, লাউবিল গ্রামের কলিম উল্লার ছেলে নুরুল হক, আকবর আলীর ছেলে হারিছ উদ্দিন, খলাগ্রামের ইসমাইল আলীর ছেলে শওকত আলী ও ধর্মগ্রামের ওয়াজিদ আলীর ছেলে আব্দুর রব।

বক্তব্যে নজির জানান, মামলা চলাকালীন অবস্থায় গত ১৩ জুলাই ওই ভূমিতে জোরপূর্বক দোকানকোঠা নির্মাণের চেষ্টা চালান বিলাল উদ্দিন গংবা। বাঁধা দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ১২ আগস্ট সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তারা মামলা করলে আদালত স্থিতাবস্থা জারি করেন। আদালতের নির্দেশে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ উভয়পক্ষকে নোটিশ করে। কিন্তু আদালত ও পুলিশ প্রশাসনের সকল নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাত মৌজার নামে বিলাল, হাসন, হারিস ও তাদের সহযোগিরা মালিকানাধীণ ওই ভূমি দখলে নিতে সক্রিয় রয়েছে। তারা সামাজিকভাবে একঘরে করার পায়তারা চালাচ্ছে।

নজির দাবি করেন, তিনি ও তার চাচাতো ভাই আব্দুন নুরকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নিয়ে মৌজার বিচারে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সহযোগিতা করায় এলাকার তরুণ সমাজসেবক সালেহ রেজাকেও ৫০ হাজার টাকা নিয়ে হাজির হওয়ার কথা বলা হয়। পুলিশ বিষয়টি জানার পর তাদেরকে শাসিয়েছে। এর আগেও তারা আত্মীয় কাজিম আলীর ছেলে ফয়সল আহমদের সঙ্গেও একই আচরণ করে। বাজারে একের পর এক অন্যায় তারা করে যাচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে নজির আহমদ জানান, পাঁচসেউতি বাজার পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি পরিচয় দিয়ে বিলাল উদ্দিন সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে বাজারের যে জায়গার দাগের কথা উল্লেখ করেছেন সেসব দাগের কোনো অস্থিত্ব নেই। তিনি ভূয়া তথ্য ও মিথ্যচার করে ব্যাক্তি মালিকানাধীন ভূমি সরকারি খাস জায়গার সঙ্গে মিলিয়ে ভোগদখলের চেষ্টা করছেন।

রেকর্ডিও ভূমি দখলে তারা সাত মৌজার নাম ব্যবহার করছে। ৭ মৌজার নামে তারা আদালতে বিচারাধীন স্থানীয় অনেক বিরোধ বা বিষয় টাকার বিনিময়ে বিচার-সালিশের মাধ্যমে রায় দিয়ে নিরীহ মানুষদের উপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানান নজির উদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন চাচাতো ভাই আব্দুন নুর ও সমাজকর্মী সালেহ রাজা।

 

 

Share





Related News

Comments are Closed