Main Menu

কাবুল বিমানবন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ১৩

Manual7 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে দুটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক ও শিশুরাও রয়েছে।

Manual8 Ad Code

বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও পেন্টাগন হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদক আলী এম. লাতিফি বলেন, আফগানিস্তানে তালেবানের হাতে ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর প্রথম কোনো বিস্ফোরণের খবর এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এটি ছিল আত্মঘাতী হামলা।

হামলায় আহতদের মধ্যে তালেবান যোদ্ধা ও মার্কিন সেনারাও রয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

লোকজনকে সরিয়ে নিতে ব্যাপক কর্মযজ্ঞের মধ্যেই সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা জারি করেছিল পশ্চিমা দেশগুলো। বিমানবন্দর এড়িয়ে চলতে নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ। এক কর্মকর্তা বলেন, সেখানে আত্মঘাতী হামলার ঝুঁকি রয়েছে।

Manual2 Ad Code

পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে একটি একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি। এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

Manual2 Ad Code

এর আগে কাবুল বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় সেখানে না যেতে নাগরিকদের প্রতি সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের মিত্রদেশগুলো। জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট হামলা চালানোর হুমকি দেয়ায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এরমধ্যেই কাবুল বিমানবন্দরে দেশ ত্যাগে আফগানদের হিড়িক বেড়েই চলেছে। এখনো দশ হাজারের বেশি আফগান বিমানবন্দরে দেশ ত্যাগের অপেক্ষায় রয়েছেন।

৩১ আগস্টের আগে বিদেশি ও আফগান নাগরিকদের কাবুল বিমানবন্দর ত্যাগে তালেবান কোনো বাঁধা না দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের। এদিকে তালেবানকে রুখতে পাঞ্জশিরে একাট্টা হয়েছে সরকারি বাহিনী ও স্থানীয় সশস্ত্রগোষ্ঠীগুলো।

কোনভাবেই থামছে না দেশ ত্যাগে মরিয়া আফগানদের ভিড়। বুধবারও কাবুল বিমান বন্দরে বিদেশি ও সাধারণ আফগানদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।

Manual1 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব মতে, ১৪ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৮২ হাজারের বেশি মার্কিন ও আফগান নাগরিক কাবুল ছাড়তে সক্ষম হয়েছে। এখনো আফগানিস্তান ছাড়ার অপেক্ষায় আছেন দশ হাজারের বেশি মানুষ। যতই দিন গড়াচ্ছে ততই আফগানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। উত্তাল আফগানিস্তান থেকে নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়া অব্যাহত রেখেছে মেক্সিকো, লিথুয়ানিয়াসহ বিভিন্ন দেশ।

কাবুল বিমান বন্দরে মানবেতর পরিস্থিতি তৈরি হলেও তালেবানের হাতেই নিজেদের সপে দিতে শুরু করেছেন অনেক আফগান নাগরিক। তালেবানের হাতে আফগানিস্তান চলে যাওয়ার দুসপ্তাহ হতে চলেছে। নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন তারা। তবে দশদিন ধরে ব্যাংক বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিক মন্দার পাশাপাশি খাদ্য সঙ্কট চরমে পৌঁছেছে।

তালেবানের হাতে শাসনভার চলে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছেন কাবুলের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ী এলাকা পাঞ্জশিরের মানুষ। এরইমধ্যে সরকারি বাহিনীর অবশিষ্ট সদস্যদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে অঞ্চলটির তালেবানবিরোধী সশস্ত্রগোষ্ঠীগুলো। পাঞ্জশিরে তালেবানের বিরুদ্ধে তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

বর্তমানে আমরা পাঞ্জশিরের সম্মুখভাগে রয়েছি। আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। আমরা যে কোনো মূল্যে তালেবানকে প্রতিহত করবো।

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মেয়াদ শেষ হলে আফগান ছাড়তে ইচ্ছুক নাগরিকদের ভবিষ্যত কী হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ বিষয়ে জো বাইডেন প্রশাসন বিকল্প পথ খুঁজছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

তবে মার্কিন সেনাদের আফগান ত্যাগের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আফগানিস্তান ছাড়তে ইচ্ছুক কাউকেই তালেবান সদস্যরা কোনো ধরনের বাধা না দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্টনি ব্লিঙ্কেন। ৩১শে আগস্টের পরও আফগানদের দেশ ত্যাগে সুযোগ দিতে তালেবানকে চাপ দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোও।

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code