বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জাপান, সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আকস্মিক বন্যা ও ভারি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জাপানের বেশ কয়েকটি অঞ্চল। দুর্যোগপ্রবণ এলাকা থেকে অন্তত ২০ লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফুকুওকা এবং হিরোশিমাসহ বেশ কয়েকটি শহরে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। এদিকে তুরস্কের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে সাড়ে ৩শ’রও বেশি গ্রাম।
আকস্মিক বন্যা ও তুমুল বৃষ্টিতে নাকাল জাপান। দক্ষিণাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপের সাগা এবং ফুকুওকার নদী উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে তলিয়ে গেছে শত শত বাড়িঘর, যানবাহন। এ ছাড়া দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় হোনশু দ্বীপের কামো নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যার পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় দেশটির দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরে জরুরি অবস্থা জারি করেছে প্রশাসন। শিগগিরই প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে ইতোমধ্যেই দেড় শতাধিক সেনা, পুলিশ এবং দমকল বাহিনী কাজ করছে। অব্যাহত বৃষ্টি ও ভূমিধসে মৃত্যু ও নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
গত শুক্রবার (১৩ আগস্ট) জাপানের বিভিন্ন অংশে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে গত তিন দিনে ৯৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সারা সপ্তাহ ধরে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া বিভাগ।
সাম্প্রতিক ভয়াবহ দাবানলের মধ্যেই বন্যা দেখা দিয়েছে তুরস্কের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভিন্ন শহরে। এতে অচল হয়ে পড়েছে জনজীবন, বাড়ছে প্রাণহানি। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, বন্যাকবলিত এলাকায় একটি ডরমিটরিতে শিক্ষার্থীসহ অন্তত সাড়ে ৭০০ মানুষ আটকা পড়েছেন। এ ছাড়াও সোলেন নদীর তীরে ধসে পড়া একটি ভবনের নিচে বেশ কয়েকজন চাপা পড়ে রয়েছেন বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। এ অবস্থায় নিখোঁজদের উদ্ধারে একযোগে কাজ করছে জরুরি উদ্ধারকারী দল, হেলিকপ্টার ও নৌযান। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, কৃষ্ণ সাগরের উপকূলীয় এলাকার পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। আমরা বন্যার্তদের সহযোগিতায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। বন্যার ভয়াবহতা বিবেচেনায়, এই মুহূর্তে বার্টিন, কাস্তামনু ও সিনোপকে দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করছি।
এদিকে বন্যার পানি বাড়তে থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভারতের উত্তর প্রদেশ ও পশ্চিম মেদিনীপুরের কয়েক হাজার মানুষ। এ পর্যন্ত উত্তর প্রদেশের ১২শ’র বেশি গ্রাম ও শত শত হেক্টর ফসলি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ মানুষ।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও আল-জাজিরা
Related News
যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়া গ্রিন কার্ডের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি এখনই চালুRead More
পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পার্ক করে রাখা অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ৯ জনেরRead More



Comments are Closed