সিলেটে টিকাকেন্দ্রে মানুষের দীর্ঘলাইন, নেই স্বাস্থ্যবিধি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট সদরের উমর শাহ তেররতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সকাল থেকে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। সেখানকার দৃশ্য দেখে অনেকটা মনে হবে নির্বাচন। কিন্তু নির্বাচন না হলেও পরিবেশটা ছিল ভোটকেন্দ্রের মতোই। নারী-পুরুষের দীর্ঘ সারি। অধীর আগ্রহ নিয়ে লাইনে অপেক্ষায় করছেন কয়েক শতাধিক মানুষ। সারিতে থাকা মানুষের মধ্যে ঠেলাঠেলি, ধাক্কাধাক্কি চলছে। কথা ছিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই সারিতে দাঁড়ানোর কথা। কিন্তু সেখানে নেই স্বাস্থ্যবিধি নেই সামাজিক দুরত্ব।
করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে সরকার ঘোষিত গণটিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে সিলেটে। নগরীর প্রতিটি টিকাকেন্দ্রে ভোর থেকে লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায়। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া গণটিকার এই কার্যক্রম চলবে বিকাল ৩টা পর্যন্ত। প্রতিটি কেন্দ্রে আজ থেকে ২শ জন মানুষকে টিকা দেওয়া হবে।
রোববার (৮ আগস্ট) সিলেট নগরীর বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৯টা থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হলেও সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। দুই-তিন ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে টিকা নিতে পারেননি। তবে এসব কেন্দ্রে বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে টিকাদান কেন্দ্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কষ্ট হলেও টিকা নিয়েই ফিরতে চান তারা।
উমর শাহ তেররতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিকা নিতে আসা ফারজানা নামে একজন বলেন, ২শ জনকে টিকা দেওয়া হবে কিন্তু এখানে হাজারের উপরে মানুষ রয়েছে। ঘুম থেকে উঠেই টিকা দিতে চলে আসছি। কিন্তু এখনো লাইনে দাঁড়িয়ে আছি দিতে পারবো কিনা সন্দেহ আছে।
আজিজুল হক নামে একজন বলেন, টিকা নিতে এসে যে পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছি মনে হচ্ছে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। আর স্বাস্থ্যবিধির কথা নাই বললাম। কোনো শৃঙ্খলা নেই।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান- করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সিলেট নগরীতে ৩ দিন চলবে ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন। সিসিকের ২৭টি ওয়ার্ডে ৮১টি কেন্দ্রে সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত টানা তিন দিন এই ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন চলবে। প্রথম দিন প্রতিটি কেন্দ্রে ৩শ জনকে দেয়া হয় টিকা। তবে আজ ৮ ও ৯ আগস্ট থেকে প্রতিদিন প্রতিটি কেন্দ্রে ২শ জন নাগরিককে টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিসিকের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সিসিকের ২৭টি ওয়ার্ডে ৮১টি কেন্দ্রে দেয়া হচ্ছে টিকা। প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে টিকাদানকর্মী ও তিনজন করে স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। এছাড়া ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিলরদের পক্ষ থেকেও স্বেচ্ছাসেবক রাখা হয়েছে।
নগরীতে প্রাথমিক পর্যায়ে মোট তিনদিনে ৬০ হাজার মানুষকে টিকা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে শনিবার (৭ আগস্ট) সকাল ৯টায় সিলেটের মাতৃমঙ্গল হাসপাতালে ভার্চুয়ালি ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিলেট-১ আসনের সাংসদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।
Related News
শনিবার সিলেটের যেসব এলাকায় থাকবে না বিদ্যুৎ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জরুরী সংস্কার ও গাছা-পালার শাখা-প্রশাখা কাটার জন্য শনিবার (৩১ অক্টোবর) সিলেটের গুরুত্বপূর্ণRead More
ওসমানী হাসপাতালে দুই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, শনিবার ঐক্যবদ্ধ সমাবেশের ডাক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুইRead More



Comments are Closed