গার্ডেন টাওয়ারে বিনা নোটিশে গ্যাস বিচ্ছিন্ন, পুনঃসংযোগের দাবি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের অন্যতম বৃহৎ আবাসন প্রকল্প গার্ডেন টাওয়ারে আকস্মিভাবে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ড্রিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড কোম্পানী। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন বহুতল ভবনের দেড়শতাধিক পরিবার। গ্যাস সংযোগ না থাকায় সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে তাদের। এতে বড় ধরণের দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে। ভবনের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ ও ঝুঁকি এড়াতে অবিলম্বে গ্যাস পুণঃ সংযোগের দাবি জানিয়েছেন দি ম্যান এন্ড কোম্পানী লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমদ মিছবাহ।
একই সাথে কোনো ধরণের নোটিশ ছাড়া আকস্মিকভাবে গ্যাস বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) বেলা ২টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবাসন কোম্পানীটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমদ মিছবাহ বলেন, দি ম্যান এন্ড কোম্পানীর গার্ডেন টাওয়ারে ১৯৫টি আবাসিক চুলা ও হোটেল গার্ডেন ইন এর ফুড গার্ডেন রেস্টুরেন্টের নামে একটি বাণিজ্যিক গ্যাস অনুমোদন নিয়ে ব্যবহার করে আসছি। গ্যাস সংযোগের পর থেকে মিটারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিল পরিশোধ করে আসছি। গত ১৪ জুলাই করোনা মহামারির কারণে কঠোর বিধিনিষেধ চলাকালে জালালাবাদ গ্যাস টি এন্ড ডি সিস্টেমস লিমিটেডের ২৫/৩০ জনের একটি টিম টাওয়ারে এসে গ্যাস রাইজার পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে গ্যাস রাইজারটি খুলে নেয়। কোনো ধরণের নোটিশ ছাড়া গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বিপাকে পড়েন ভবনের দেড়শতাধিক পরিবারের বাসিন্দারা। খেয়ে না খেয়ে অনেকে মানবেতর দিন কাটাতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ভবনের বাসিন্দারা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। এতে বড় ধরণের দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। চলমান লকডাউনের কারণে গ্যাস সংযোগ না থাকায় বহুতল ভবনের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই সাথে বৈশ্বিক মহামারির সময়ে অতিরিক্ত ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি কোম্পানী ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
গার্ডেন টাওয়ারে গ্যাস সংযোগের অনুমোদন রয়েছে দাবি করে ফারুক আহমদ মিছবাহ বলেন, দি ম্যান এন্ড কোম্পানীর গার্ডেন টাওয়ার ভবনের নামে ১৮২টি ফ্ল্যাটসহ অন্যান্য স্থাপনার জন্য ১ম পর্যায়ে ১৪০টি দ্বৈত চুলা সংযোগের আবেদন করলে ২০০৩ সালের ২৪ এপ্রিল গ্যাস কর্তৃপক্ষ ১৪০টি চুলার বিপরীতে জামানত ও কানেকশন ফি দিতে একটি পত্র দেয়। সে মোতাবেক একদিন পর ২০০৩ সালের ২৬ এপ্রিল জামানত ও কানেকশন ফি ৭ লক্ষ ৭৮২ টাকা ফি পে অর্ডার করা হয়। একই বছরের ৪ জুন ১৪০ টি দ্বৈত চুলার বিপরীতে সম্পূরক চাহিদা পত্র অনুসারে অতিরিক্ত জামানত বাবদ আরো ২৭ হাজার ৭২৪ টাকা পরিশোধ করা হয়। ফলে ২০০৩ সালের ৭ জুলাই গ্যাস লাইনের ড্রয়িং দাখিল করলে গ্যাস কর্তৃপক্ষ ১৪০টি চুলার গ্যাস সংযোগ ও ড্রয়িং অনুমোদন করে। পরবর্তীতে ৫৩টি দ্বৈত ও দুইটি একক চুলার সংযোগ আবেদন করলে ২০০৪ সালের ১৮ অক্টোবর গ্যাস কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত চাহিদাপত্র অনুসারে সংযোগ ফি বাবদ ১ লক্ষ ৭২ হাজার ৮৫৬ টাকা ফি প্রদান করা হয়। এরপর ২০০৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ২য় পর্যায়ে ৫৩টি দ্বৈত ও দুইটি একক চুলার সংযোগ ও ড্রয়িং অনুমোদন করা হয়। দুই ধাপে ১৯৫ টি চুলার জন্য জামানত, অতিরিক্ত জামানত ও সংযোগ ফি বাবদ ৯ লক্ষ ১ হাজার ৩৬২ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং ১৯৫টি চুলার সংযোগ প্রদান করা হয়েছে।
ফারুক আহমদ মিছবাহ আরও বলেন, ২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি আমাদের কোম্পানীর পক্ষ থেকে গার্ডেন টাওয়ারের ৪টি টাওয়ারে ১৯৭টি দ্বৈত ও ২টি একক চুলার অনুমোদন রয়েছে বলে গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। সে প্রেক্ষিতে গ্যাস কর্তৃপক্ষ ওই বছরের ১৯ ফেব্রয়ারি প্রেরিত পত্রের মাধ্যমে জানায়-১৯৩ টি দ্বৈত ও ২টি একক চুলার অনুমোদন আছে এবং বর্ধিত গ্যাসের মূল্য বাবদ ৪৩ হাজার ৬৫৪ টাকা ও একটি প্রেসার গেজের দাম ৬ হাজার ১৭২ টাকা পরিশোধ করতে হবে। আমরা সেসময় গ্যাস কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ১৯৩ টি দ্বৈত ও ২টি একক চুলার অনুমোদনের বিষয়টি অবগত করি। এ ব্যাপারে গ্যাস কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে যোগাযোগ করবে বলে জানায়। কিন্তু পরবর্তীতের অতিরিক্ত জামানতের টাকা পরিশোধের বিষয়ে ৭ বছরের মধ্যে কোনো নোটিশ আমাদের দেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুক আহমদ মিছবাহ বলেন, গত ১৪ জুলাই চলমান কঠোর বিধিনিষেধ চলাকালে জালালাবাদ গ্যাসটি এন্ড ডি সিস্টেমস লিমিটেডের ২৫/৩০ জনের একটি টিম টাওয়ারে এসে গ্যাস রাইজার পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে গ্যাস রাইজারটি খুলে নিয়ে যান।
এব্যাপারে কোনো ধরণের নোটিশ করা হয়নি। গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় চরম বিপাকে দিন কাটছে ভবনের বাসিন্দাদের। পাশাপাশি কোম্পানীটি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আকষ্মিকভাবে গ্যাস বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা ও পুনঃসংযোগের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন ও প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী উপদেষ্ঠা ড. তৌফিক ই এলাহী চৌধুরীসহ বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খণিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। অনতিবিলম্বে গ্যাস পুনঃ সংযোগ করে ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন দি ম্যান এন্ড কোম্পানী লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমদ মিছবাহ।
সংবাদ সম্মেলনে গার্ডেন টাওয়ারের ফ্ল্যাট মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজমল আলীসহ ভবনের বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
Related News
সিলেটে হাসপাতালের বারান্দায় মিলল মহিলার লাশ
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট মহানগরীর একটি সরকারি হাসপাতালের আউটডোরের বারান্দা থেকে একRead More
সহজে সেবা দিতে সিলেট মহানগরীকে ৫ অঞ্চলে ভাগ
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) দৈনন্দিন এবং সেবামূলক কার্যক্রমকে আরওRead More



Comments are Closed