বাক প্রতিবন্ধী ‘এ্যাডিসন বাড়ৈ’ এখন কম্পিউটার প্রশিক্ষক
মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি: নেত্রকোনা জেলার সদর উপজেলায় এ্যাডিসন বাড়ৈ নামক এক বাক প্রতিবন্ধী কিশোর কম্পিউটা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কম্পিউটার শিক্ষা দিচ্ছে। তার বাবার নাম আন্দ্রিয় বাড়ৈ, মাতার নাম পুষ্প বাড়ৈ। তারা নেত্রকোনার নাগড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে। তাদের পৈত্রিক বাড়ি বরিশালে। তার পিতা আন্দ্রিয় বাড়ৈ সি.ডি.সি. নামক প্রতিষ্ঠানের একটি প্রজেক্টে কাজ করেন।
এক বছর আগেও এ্যাডিসন বাড়ৈর প্রতি অনেকের ধারণা ছিল ভিন্ন। কারণ সে বাক প্রতিবন্ধী। কিন্তু এখন সে দক্ষ কম্পিউটার প্রশিক্ষক। এক বৎসর আগে যে এ্যাডিসন কম্পিউটার চালাতে পারত না, তার কম্পিউটারের জ্ঞান একদম ছিল না। বর্তমানে সে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় এক্সেল কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
এ্যাডিসনের বাবা আন্দ্রিয় বাড়ৈ বলেন, আমার ছেলে এ্যাডিসন জন্ম থেকেই স্পষ্ট করে কথা বলতে পারেনা। তার বয়স এখন ১৪ বছরের । গত বছরের ১৪ মার্চে এ্যাডিসনকে এক্সেল কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কম্পিউটার শিখার জন্য ভর্তি করি । সে এক্সেল কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে কম্পিউটার শিক্ষা নেয়। যত্নসহকারে কম্পিউটার শিখতে থাকে আমার ছেলে। এক্সেল কর্তৃপক্ষ কিছুদিন পরই বুঝলেন এ্যাডিসনের টেকনিক্যাল মেধা বেশ ভাল, তাই তাকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বেশি সময় রাখতে থাকেন।
এ্যাডিসনের মা পুস্প বাড়ৈ জানান, এক্সেল কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ছেলের সাথে আমিও ভর্তি হই, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে, যেন ছেলেকে দেখাশোনা করতে পারি, আমার ছেলে আমারও কিছু সহযোগীতা পায়। আমি জানতাম যে, আমার ছেলে টেকনিক্যাল বিষয়ে সুযোগ পেলে সে ভাল করবে। আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেই, তিনি আমার ছেলের জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন।
কিছুদিন পর এ্যাডিসন নিজে নিজেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আসতে থাকে এবং কম্পিউটার শিক্ষার প্রতি বেশ আগ্রহ সৃষ্টি হয় তার। ছয় মাসের কোর্সে ভর্তি হয়ে ৪-৫ মাসেই সে বেসিক কম্পিউটার আয়ত্ব করে নেয়। তাকে হার্ডওয়্যার সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়।
এক্সেল কম্পিউটারের এক প্রশিক্ষণার্থী মীমের কাছে জানতে চাইলে সে জানায়, এ্যাডিসন প্রশিক্ষকদের মধ্যে সবচেযে আন্তরিক। সকল প্রশিক্ষণার্থী তাকে খুব পছন্দ করে। আমাদেরও তার কাছে শিখতে খুব ভাল লাগে। আমরা তাকে কোন বিষয়ে কিছু জিজ্ঞেস করলে সে উৎসাহিত হয়, খুশি হয়। এ্যাডিসন বাড়ৈয়ের মত শিক্ষক পাওয়ায় আমরা সহজেই অনেককিছু শিখতে পারছি। তার কাছে আমরা যখন যা প্রশ্ন করি সে অধিক আগ্রহ সহকারে আমাদের শিখিয়ে দেয়। তার মধ্যে কোনা কৃপনতা আমরা দেখতে পাই নাই।
বর্তমানে সে কম্পিউটারের যেকোন সমস্যা চিহ্নিত করতে পারে বা প্রয়োজনীয় সফ্টওয়্যার নিজে নিজেই দিতে পারে। শুধু তাই নয়, তার বাবার প্রজেক্টের অফিসিয়াল কম্পিউটার সংক্রান্ত সকল কাজ এখন এ্যাডিসন নিজেই পরিচালনা করে। এক্সেল কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৭ জন প্রশিক্ষক আছে, তার মধ্যে সে বর্তমানে খুবই জনপ্রিয় প্রশিক্ষক। সবাই এখন এ্যাডিসনকে চায়।
Related News
স্বামীর মোটরসাইকেল থেকে পড়ে প্রাণ গেল অন্তঃসত্ত্বার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে স্বামীর মোটরসাইকেল থেকে পড়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে সাত মাসেরRead More
ঈশ্বরগঞ্জে ট্রাকভর্তি ভারতীয় চোরাই মাল জব্দ, আটক ২
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয়Read More



Comments are Closed