এখনও বিদ্যুৎহীন সিলেটের অনেক এলাকা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কুমারগাওয়ে জাতীয় গ্রিড লাইনে অগ্নিকান্ডের ফলে এখনও অন্ধকারে রয়েছে সিলেটের বেশিরভাগ এলাকা। অগ্নিকান্ডের পর মঙ্গলবার সকাল থেকে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে সিলেট। এর প্রায় ৩১ ঘন্টা পর বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নগরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরলেও এখনও অন্ধকারে রয়েছে জেলার বেশিরভাগ এলাকা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে সিলেটের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরো স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানিয়েছেন সিলেটের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।
এদিকে, বিদ্যুৎ না থাকায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সিলেটের বাসিন্দাদের। নগরজুড়ে দেখা দিয়েছিলো তীব্র পানি সঙ্কট।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-১, ২ ও ৪-এর আওতাধীন কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। বাকী এলাকাগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে কাজ চলছে। তবে পুরো স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
সিলেটের কুমারগাঁও উপকেন্দ্রে মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১১টায় ঘটা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ৩১ ঘণ্টা পর সিলেট মহানগরীতে বিদ্যুৎ বিতরণ শুরু করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি)। বুধবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর জল্লারপাড়, মির্জাজাঙ্গাল, দাড়িয়াপাড়া, লামাবাজার, রিকাবিবাজার, দক্ষিণ সুরমা বিভিন্ন এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়নি। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে নগরের উপকণ্ঠের এলাকাগুলো ও বিভিন্ন উপজেলা।
তবে নগরের বেশিরভাগ এলাকায় এরমধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা বলেন, যেহেতু মেরামত কাজ এখনও শেষ হয়নি। একসাথে সব জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখা যাচ্ছে না। আপাতত রেশনিং পদ্ধতিতে নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো বিদ্যুৎ প্রদান করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগ সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন বলেন, অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ যন্ত্রপাতি মেরামত ও পুনঃস্থাপন শেষে বুধবার সন্ধ্যা থেকে আমরা সীমিত আকারে বিদ্যুৎ সবরাহ শুরু করেছি। এখনও আমাদের কর্মীরা গ্রিড লাইনে মেরামত কাজ করছেন। দুর্ঘটনার পর থেকে টানা কাজ করে যাচ্ছেন সবাই। আশা করছি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরো সচল করা সম্ভব হবে।
এদিকে সিলেট নগরী বিদ্যুৎহীন হওয়ার পর থেকেই পানির জন্য প্রতি বাসায় শুরু হয় হাহাকার। কোথাও কোথাও পাড়ার দোকানগুলোতে পয়সা দিয়েও মিলেনি পানি। প্রতি ওয়াক্তের আজানের সময় মসজিদগুলো পানিশূন্যতার কথা মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়। এছাড়া মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় পুরো নগরী। দেখা দেয় মোমবাতির সঙ্কট। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাড়িয়ে দেন মোমবাতির দাম। এতে বিপাকে পড়েন মানুষজন। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ৫ টাকার মোমবাতি বিক্রি হয় ১০ থেকে ১২ টাকায়। ১০ টাকার মোমবাতি বিক্রি হয় ২০-২৫ টাকা।
অপরদিকে, নগরীর প্রতিটি ঘরে পানি ও আলো স্বল্পতায় সাংসারিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। পানির অভাবে মঙ্গল ও বুধবার অনেক গৃহিনী চুলায় রান্না বসাতে পারেননি। দোকান থেকে শুকনো খাবার কিনে নিয়ে এসে রাত পার করেন।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে সিলেটের কুমারগাওয়ে বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড (পিজিসিবি)-এর নিয়ন্ত্রাধিন জাতীয় গ্রিড লাইনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে দু’টি উচ্চ ক্ষমতার ট্রান্সফরমার, সার্কিট ব্রেকার, কন্ট্রোল প্যানেল পুড়ে যায়। এতে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ গ্রাহক।
Related News
চাকরি সিলেটে, চার নার্স বসবাস করেন ইউরোপে
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও একজন মিডওয়াইফRead More
বিশ্বনাথে ছেলেসহ বিএনপি নেতা আটক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কদর আলী ও তার ছেলেRead More



Comments are Closed