Main Menu
শিরোনাম
বড়লেখায় ৭ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল         বিশ্বনাথে ইউপি নির্বাচনে ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল         ওসমানীর ল্যাবে ১৬ জনের করোনা শনাক্ত         শাবির ল্যাবে আরো ১৩ জনের করোনা শনাক্ত         সিলেটে করোনায় আক্রান্ত বেড়ে ১২,৪২৩, মৃত্যু ২১২         ঘূর্ণিঝড়ে জকিগঞ্জের ৬ গ্রামের ২৫টি ঘর বিধ্বস্ত         মাধবপুরে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু         জগন্নাথপুর পৌরসভার উপনির্বাচন ১০ অক্টোবর         কমলগঞ্জে ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা         জগন্নাথপুরে স্বামীর দায়ের কোপে স্ত্রীর মৃত্যু         ছাতকে নৌযানে চাঁদাবাজ মুক্ত রাখতে মাইকিং         সিলেট বিভাগে আরো ৪৮ জনের করোনা শনাক্ত        

লেবাননে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ৭৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৪ হাজারের বেশি। হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকালে বৈরুত বন্দরে বড় ধরনের বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো রাজধানী। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসান হামাদ টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে এ তথ্য জানান।এতে শহরের বিভিন্ন অংশে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুরো শহরজুড়েই কম্পন অনুভূত হয়।

খবরে বলা হয়, বিস্ফোরণের প্রভাব শহরজুড়ে অনুভূত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বহুদূর পর্যন্ত বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট ‘শকওয়েভ’ ফাটল ধরিয়েছে অসংখ্য ভবনে।

এ ঘটনায় লেবাননে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। দুই সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় জরুরী অবস্থাও ঘোষণা হতে পারে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘটনাস্থলের ১০ কিলোমিটার দূরের বাড়িগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলাকায় স্থানীয়ভাবে তোলা ছবি ও ভিডিওতে ভাঙা কাচ ও দরজা-জানালার ভগ্নাংশ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

লেবাননের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে আল জাজিরা জানিয়েছে, বন্দরের রাসায়নিকের গুদাম থেকে ওই বিস্ফোরণ ঘটেছে।

নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও হাসপাতাল সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বিস্ফোরণে নিহত অন্তত ২৫ জনের লাশ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি নিহতের সংখ্যা ৫০ বলে জানিয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামাদ হাসানকে উদ্ধৃত করে আল জাজিরা জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৭৮ এবং আহত হয়েছে চার হাজার জন।

বিস্ফোরণের পরপরই বিশাল মাশরুম আকৃতির ধোয়া উঠে যায় উপরের দিকে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হতাহতদের দিয়ে ভরে গেছে শহরটির সবগুলো হাসপাতাল। আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।

লেবাননের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল মোহাম্মদ ফাহমি প্রধানমন্ত্রী দিয়াবের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে জানান, বিস্ফোরণটির কারণ সম্পর্কে জানতে আমাদের তদন্তের জন্য অপেক্ষা করা। ২০১৩ সালে এক জাহাজ থেকে জব্দ করা উচ্চ মাত্রার বিস্ফোরক পদার্থ (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট) থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। বিস্ফোরক পদার্থগুলো বন্দরের একটি গুদামঘরে সংরক্ষণ করা ছিল। এমনটা জানান দেশটির জননিরাপত্তা বিষয়ক প্রধান আব্বাস ইব্রাহিমও।

স্থানীয় টেলিভিশন এলবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিস্ফোরক পদার্থগুলো ছিল অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। তবে কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেনি। এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলের উপরে কমলা রঙের মেঘ দেখা গেছে। নাইট্রাইট জাতীয় পদার্থের বিস্ফোরণের পরপর এমন বিষাক্ত নাইট্রোজেন অক্সাইড গ্যাস তৈরি হয়ে থাকে। বৈরুতের গভর্নর মারওয়ান আব্বুদ বলেন, শহরটি একটি ‘দুর্যোগ এলাকায়’ পরিণত হয়েছে ও যে ক্ষতি হয়েছে তার মাত্রা বিশাল।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব জানিয়েছেন, বিপজ্জনক ওই গুদামঘরে এই বিস্ফোরণের পেছনে যারা জড়িত তাদেরকে এর মূল্য দিতে হবে। টেলিভিশনে প্রচারিত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি আপনাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করছি যে, এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ীরা জবাবদিহিতা না করে পার পাবে না। দায়ীদের এর মূল্য দিতেই হবে। ঘটনাটি ঘিরে একটি তদন্ত চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।রাসায়নির গুদাম থেকে এই বিস্ফোরণের ধারণা করলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এই বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলতে চাননি প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে, গাল্ফ নিউজে জোড়া বিস্ফোরণের কথা বলা হয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেনি। লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামাদের বরাত দিয়ে এও বলা হয়েছে যে, নিহতের সংখ্যা ৩০ জন। এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে গাল্ফ নিউজ আরো জানিয়েছে, তিনি বিস্ফোরণের আগ মুহূর্তে আকাশ থেকে কিছু পড়তে দেখেছেন। অন্যান্যরা বলেছে, তারা ২০০৬ সালের ইসরাইলি যুদ্ধের সময় যেমন বিমানের আওয়াজ পাওয়া যেত, বিস্ফোরণের তেমন আওয়াজ শুনতে পেয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননের সশস্ত্র দল হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে, ইসরাইলের রাজনৈতিক এক সূত্রের বরাত দিয়ে হারেৎস জানায়, বিস্ফোরণটির সঙ্গে ইসরাইল কোনোভাবেই জড়িত ছিল না। ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাবি আশকেনাজি জানান, তারা আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে লেবাননকে সকল প্রকার মানবিক ও মেডিক্যাল সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছেন।

বৈরুত-ভিত্তিক টিভি চ্যানেল আল-মায়াদীনের এক প্রতিবেদনে লেবাননের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা ছিল না। লেবানিজ প্রধানমন্ত্রী দিয়াব বিস্ফোরণের শিকারদের স্মরণে বুধবার একদিনের জাতীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। আল মায়াদীন হিজবুল্লাহর সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বিস্ফোরণটি ইসরাইলি বিমান হামলা ছিল না।

এদিকে, বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০০৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরির হত্যাকাণ্ড নিয়ে এক মামলার রায় প্রকাশের আগ দিয়ে এ বিস্ফোরণ ঘটলো। আগামী শুক্রবার জাতিসংঘের একটি ট্রাইব্যুনাল মামলার চার আসামিকে নিয়ে রায় দেওয়ার কথা রয়েছে। চার আসামিই ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সদস্য।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা নিবিড়ভাবে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে ও সবধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, বিস্ফোরণটির কারণ সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জানান, যুক্তরাজ্য সম্ভাব্য সকল ধরনের সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া, বিস্ফোরণের পর লেবাননকে সহায়তা প্রদানের ইছা প্রকাশ করেছে ফ্রান্স, ইরান, তুরস্ক, জর্ডান, সাইপ্রাস ও কাজাখাস্তানও।

ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে কিছু দিন ধরে উত্তেজনা চললেও এ বিস্ফোরণের সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা নাকচ করেছে তেল আবিব।

লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘ ট্রাইব্যুনালের রায়ের তিন দিন আগে সংঘটিত এই বিস্ফোরণের কারণ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, বৈরুতের বন্দর এলাকা থেকে বড় গম্বুজ আকারে ধোঁয়া উড়ছে, এর কিছুক্ষণের মধ্যে বিকট বিস্ফোরণে গাড়ি, ভবন উড়ে যেতে দেখা যায়।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে বাড়ি-ঘর এমন কেঁপে ওঠেছিল যে স্থানীয়রা ভাবছিলেন ভূমিকম্প হচ্ছে।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে মানুষের চিৎকার ও ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। বাড়িঘরের জানালার কাচ ও বেলকনি ভেঙেও অনেকে আহত হন।

রেডক্রসের লেবানিজ শাখার প্রধান জর্জ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ভয়াবহ এই বিপর্যয় প্রত্যক্ষ করছি। বিস্ফোরণস্থলের পাশে কিংবা সেখান থেকে অনেক দূরের রাস্তাগুলোতে যত্রতত্র আহত ও নিহত মানুষ পড়ে আছে।’ আহত বহু মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে চিকিৎসার জন্য।

আল জাজিরার সাংবাদিক তিমোর আজহারি বলেন, “বৈরুত হাসপাতালের করিডোরও ভরে গেছে আহত ও রক্তাক্ত মানুষে।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামাদ হাসান বলেন, বিস্ফোরণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে অনেক মানুষকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়ে থাকতেও দেখা গেছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব বুধবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। তিনি এই বিস্ফোরণকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছেন।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইরান, ইসরায়েল এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে লেবাননকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও বলেছে, তারা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।

যে স্থানটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেখানে বন্দরের গুদাম রয়েছে। লেবননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) বন্দরের গুদামে প্রথম আগুন লাগার কথা জানায়। এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, গুদামে রাসায়নিকের মজুদও রয়েছে।

লেবাননের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আল জাজিরাকে বলেছেন, বন্দরে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুদ করা ছিল। তা থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে। সেখানে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মজুদ কেন ছিল, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে তার জবাবদিহি চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

লেবাননের সম্প্রচার মাধ্যম ‘মায়াদিন’ দেশটির কাস্টমস পরিচালকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলছে, কয়েক টন নাইট্রেট বিস্ফোরিত হয়েছে। আগুন ও বিস্ফোরণটি দুর্ঘটনাবশত ঘটে থাকতে পারে, বলা হচ্ছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে।

লেবাননের প্রেসিডন্ট মিচেল ওন দেশের সুপ্রিম ডিফেন্স কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।

 

0Shares





Related News

Comments are Closed