Main Menu
শিরোনাম
সিলেটে করোনায় আক্রান্ত বেড়ে ৮২৯৭, মৃত্যু ১৫১         সিলেটে দুই ল্যাবে আরো ৮৫ জনের করোনা শনাক্ত         সুনামগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত ব্যবসায়ীর মৃত্যু         শাবির ল্যাবে আরও ৪৬ জনের করোনা শনাক্ত         নবীগঞ্জে দুলাভাই-শ্যালিকার পরকীয়ার বলী হলেন মা         শায়েস্তাগঞ্জে মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় নিহত ১         জাফলংয়ে আসা পর্যটকদের ফিরিয়ে দিচ্ছে প্রশাসন         বিশ্বনাথে দুই ছেলের হামলায় পিতা আহত         ধর্মপাশায় নৌকা ডুবে মা-ছেলেসহ ৩জনের মৃত্যু         ছাতকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু         দলই চা বাগান খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন         পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং ও ভুতুড়ে বিল বন্ধের দাবি        

ইফার প্রকল্প জটিলতায় ঈদেও শিক্ষকদের কান্না

মামুন আবদুল্লাহ: ঈদুল আজহা আমাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ঈদকে ঘিরে পরিবারের সদস্যদের নানা রকম চাহিদা এবং আবদার পূরণ করা দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ঈদে সকল ফ্যামিলিতেই শিশুদের আবদারগুলোকে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিয়ে পূরণ করা হয়। ঈদুল আজহায় সাধ্যমতো পশু কুরবানি দিয়ে ঈদের মূল তাৎপর্য সাধন করা হয়। ঈদকে ঘিরে ঘরে-ঘরে আনন্দের প্রবাহ বিরাজ করে কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো- করোনা মহামারির কারণে অর্থনৈতিক মন্দাবস্থার মাঝেও প্রকল্প জটিলতায় গত ৭ মাস ধরে বেতনহীন মানবেত জীবন-যাপন করছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসার ২ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকা। গত ঈদুল ফিতরের মতো বর্তমান ঈদুল আজহাতেও শিক্ষকদের পরিবারে আনন্দের পরিবর্তে বেদনার ঘনঘটা।

সামান্য সম্মানীর পাশা-পাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের এসব মাদরাসা শিক্ষকের সংসার চলার অন্যতম মাধ্যম ছিলো- কোচিং, টিউশনি। করোনার কারণে অনেকের সে পথও বন্ধ হয়ে গেছে। অভুক্ত পরিবারের দিকে লক্ষ রেখে- নিরূপায় হয়ে- অনেকেই সঞ্চিত টাকা-পয়সা খরচ করছেন। রাস্তায় সবজি, ফলমূল ইত্যাদি বিক্রি করছেন। গয়নাগাটি, আসবাবপত্র ও পরিবারের শেষ সম্বল জায়গা-জমি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ধার-দেনার দায়ে আত্মার স্বাধীনতা যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি সমাজিকভাবে শিক্ষকদের আত্মসম্মান নষ্টের ভয়েও চিন্তিত হতে হচ্ছে।

আত্মমর্যাদা ও আত্মসম্মান হচ্ছে শিক্ষকদের প্রধান গুণ আর শিক্ষকরা সব সময়ই আত্মমর্যাদাবান হয়ে থাকেন। আত্মমর্যাদাহীন শিক্ষক জাতি কখনো চায় না। আত্মসম্মান রক্ষার ভয়ে- শিক্ষকগণ না পারছে কারো কাছে হাত পাততে আর না পারছেন সইতে তেমনি করোনার এই সংকটাপন্ন সময় ত্রাণের লাইনেও দাঁড়াতে পারছেন না।

ইতোমধ্যে প্রকল্পের জটিলতা নিরসন ও বকেয়া বেতনভাতা প্রদানের জন্য পত্রিকা-পোর্টালে লেখালেখি, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ইত্যাদি করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ধর্ম মন্ত্রণালয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সরকার বিভিন্ন স্তরে ভাতা এবং প্রণোদনা প্রদান করলেও ১০১০ টি মাদরাসার শিক্ষক সম্পূর্ণভাবে এইসব থেকে ও বঞ্চিত আছেন। বেতনের আশায় তীর্থের কাকের চেয়েও অসহায়ভাবে অপেক্ষা করছেন। আশ্বাসে- আশায় একের পর এক দিন যাচ্ছে, মাস যাচ্ছে, ঈদ যাচ্ছে কিন্তু শিক্ষকদের বেতনের ব্যবস্থা হচ্ছে না! এসব শিক্ষকের দীর্ঘশ্বাস আর চাঁপা কান্নায় আকাশ ভারি হয়ে উঠছে।

দেশ যখন উন্নয়নের বিভিন্ন লেভেল স্পর্শ করছে তখন শিক্ষকরা ভুখা পেটে- ভগ্ন হৃদয়ে আকাশের দিকে চেয়ে কান্না করছেন! মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের অভুক্ত রাখা কোন সমাজেই কাম্য নয়।

যেসব কর্তৃপক্ষের হাতে এর সুষ্ঠু সমাধান রয়েছে আমরা তাদের কাছে বিনীত অনুরোধ করবো- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত এবং প্রতিষ্ঠিত ১০১০ টি দারুল আরকাম মাদরাসা শিক্ষকদের কান্নার প্রতি কৃপা দৃষ্টি রেখে দ্রুত প্রকল্প জটিলতা নিরসন ও বেতনভাতা প্রদান করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষক ফ্যামিলিগুলোকে বাঁচার সুযোগ দিন।

লেখক : যুগ্ম মহাসচিব, দারুল আরকাম শিক্ষক কল্যাণ সমিতি বাংলাদেশ।

0Shares





Comments are Closed