Main Menu

শাহজালালের ‘লাকড়িতোড়া উৎসব’ পালিত

Manual2 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশে মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারনে এবার একাবারেই ভিন্ন আবহে পালিত হয়েছে সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) মাজারের লাকড়ি তোড়া উৎসব।

শুক্রবার (১৯ জুন) সামাজিক দূরত্বের কথা চিন্তা করে সংক্ষিপ্ত পরিসরে লাকড়ি তোড়া উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভক্ত-অনুরাগীরা শহরতলির লাক্কাতুরা ও মালনিছড়া চা বাগানের টিলায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে লাকড়ি সংগ্রহ করেন।

প্রতিবছর শাহজালাল (র.) মাজারে ওরসের আগে এ উৎসব পালন করা হয়। প্রতিবছরই এতে অসংখ্য ভক্ত অনুরাগী অংশ নেন। মাজার থেকে দীর্ঘ মিছিল নিয়ে যাওয়া হয় লাক্কাতুড়া চা বাগানে। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষিতে এবার লোকসমাগম ছাড়াই কেবল রেওয়াজ রক্ষার জন্য এ উৎসব পালন করা হয়।

Manual8 Ad Code

অন্যান্য বছর ভক্তদের উপস্থিতি বাড়াতে মাজার কমিটির পক্ষ থেকে আগে থেকেই প্রচারণা চালানো হলেও এবার কোনো প্রচারণা চালানো হয়নি। তবে কিছুসংখ্যক ভক্ত নিজ উদ্যোগেই বৃহস্পতিবার দুপুরে লাকড়ি নিয়ে মাজারে হাজির হন।

Manual4 Ad Code

এ ব্যাপারে দরগাহে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের খাদেম সামুন মাহমুদ খান বলেন, ৭০০ বছর ধরে লাকড়ি তোড়া উৎসব পালন করছেন তার ভক্ত ও আশেকানরা। এবার এই রেওয়াজ ধরে রাখার জন্য আমরা খুবই সীমিত আকারে উৎসবটি পালন করেছি। আগে কোনো প্রচারণা চালাইনি। কাউকে দাওয়াত দেইনি। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ মিলে মিছিল করে লাক্কাতুড়ায় লাকড়ি সংগ্রহে যান। এবার তা করা হয়নি। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে একটি অটোরিকশায় করে একজন মাওলানাসহ তিনজন মানুষ দিয়ে কিছু শিরনি লাক্কাতুরায় পাঠিয়ে দিয়েছি। তারা সেখানে একটি মিলাদ করে শিরনি বিতরণ করে এসেছেন। লোকসমাগম এড়াতে আমি নিজেও সেখানে যাইনি। তবে কিছু মানুষ নিজেদের উদ্যোগেই লাকড়ি নিয়ে মাজারে হাজির হন।

Manual7 Ad Code

এ বিষয়ে ৩৬০ আউলিয়ার পরিষদের সভাপতি মখন মিয়া জানান, করোনার কারণে আমরা এবার লাকড়ি তোড়া উৎসব সংক্ষিপ্ত আকারে দোয়া ও মিলাদের মাধ্যমে পালন করেছি। সামাজিক দূরত্বের কথা বিবেচনায় আমরা ভক্তদের দাওয়াত দেইনি এবং শাহজালাল মাজার প্রাঙ্গণে কোন উৎসবের আয়োজন করা হয়নি।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর ২৬ শাওয়াল ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব পালন করে আসছেন ভক্ত-অনুরাগীরা। শাহজালালের (রহ.) জীবদ্দশায় এভাবে লাকড়ি সংগ্রহ করে রান্না করা হতো। সে ঐতিহ্য রক্ষা করে ওরসের তিন সপ্তাহ আগে লাকড়ি তোড়া সম্পন্ন হয়ে আসছে। সংগ্রহ করে লাকড়ি নির্দিষ্ট স্থানে জমা করে রাখা হয়। আর এসব লাকড়ি ওরসের শিরনির রান্নায় ব্যবহার করা হয়।

ভক্ত-অনুরাগীরা শহরতলীর লাক্কাতুরা ও মালনিছড়া চা বাগানের টিলা থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করেন। হজরত শাহজালালের (রহ.) দরগাহ থেকে শুরু করে নগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট, চৌকিদেখি হয়ে সোজা লাক্কাতুরা চা-বাগান পর্যন্ত মিছিল করেন তারা। ফেরার পথে লাল গালিচার মিছিলে যুক্ত হয় গাছের সবুজ লতাপাতা। ওরসের শিরনিতে ব্যবহৃত কাঠ সংগ্রহের ওই উৎসবকে লাকড়ি তোড়ার উৎসব বলা হয়ে থাকে। দরগাহের বার্ষিক ওরসের তিন সপ্তাহ আগে লাকড়ি সংগ্রহের এ আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন হাজার হাজার ভক্ত। সিলেট নগরীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল সহকারে ভক্তরা অংশ নেন।

শাহজালাল (রহ.)-এর জীবদ্দশায় এভাবে লাকড়ি সংগ্রহ করে রান্না করা হতো। সেই ঐতিহ্য এখনও অব্যাহত রয়েছে। জনশ্রতি আছে ৭০৩ হিজরির এই দিনে হজরত শাহজালাল (রহ.) তার সঙ্গীদের নিয়ে জোহরের নামাজ আদায় শেষে কুড়াল হাতে পাহাড়-টিলাবেষ্টিত (বর্তমান লাক্কাতুরা চা-বাগানের নির্ধারিত টিলা) উত্তর প্রান্তের গভীর জঙ্গলের দিকে যেতে থাকেন। সঙ্গীরা তাকে অনুসরণ করতে থাকেন। তিনি নিজ হাতে লাকড়ি সংগ্রহ করেন। পরে সেই জায়গার নাম হয় লাকড়ি তোড়ার (ভাঙা) টিলা। যা বর্তমানে লাক্কাতুরা চা-বাগান নামেই প্রসিদ্ধ।প্রতি বছর দেশের প্রত্যন্ত জেলা-উপজেলা থেকে হাজার হাজার ভক্ত-আশেকান সিলেটে লাকড়ি তোড়া উৎসবে যোগ দেন।

Manual6 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code