লালা সংগ্রহে ত্রুটি, পরীক্ষা স্থগিতে গণস্বাস্থ্যের চিঠি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা চলছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)। তাদের কিটের দুটি অংশ-অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন। তার মধ্যে অ্যান্টিজেনের ফলাফল আশানুরূপ আসছে না বিধায় বিএসএমএমইউকে ওই অংশের পরীক্ষা আপাতত স্থগিত রাখার জন্য চিঠি দিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। মঙ্গলবার (২ জুন) এই চিঠি দেয়া হয়।
বুধবার (৩ জুন) গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফরহাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ।
তিনি বলেন, গণস্বাস্থ্য কিটের যে কার্যকারিতা পরীক্ষা হচ্ছে, তার একটা অংশের পরীক্ষা স্থগিত রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন-এই দুটোর মধ্যে অ্যান্টিজেনের ফলাফল একটু কম আসছে। এজন্য একটা অংশের কাজ স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। নতুন করে তা ডেভেলপের পর সেগুলো আবার দেয়া হবে।
এ-সংক্রান্ত একটি নোট তুলে ধরে ফরহাদ বলেন, সম্প্রতি জিআর কোভিড-১৯ র্যাপিড অ্যান্টিজেন্ট টেস্টে নমুনা লালা যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংগ্রহে অসামঞ্জস্যতা থাকায় সঠিক ফলাফল নির্ণয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যান্টিজেন শনাক্তকরণের জন্য যথাযথ লালা নমুনায় থাকছে না বা অন্য বস্তুর মিশ্রণ লক্ষণীয়। সম্মিলিত মনিটরিং টিম এ সমস্যাটি চিহ্নিত করেছে। অতএব এই অ্যান্টিজেনের সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য ল্যাবে লালা সংগ্রহের পদ্ধতিগত কাজ শুরু হয়েছে, যা যথাশীঘ্র আপনাদেরকে জানাতে পারব বলে আমরা আশা করছি।
গণস্বাস্থ্যের এই চিঠি দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই কিটের কার্যকারিতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেন। ড. বিজন কুমার শীল বলেন, ‘যারা বলছেন কিটের ত্রুটির কারণে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পরীক্ষা স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে, তাদের উদ্দেশে আমার কিছু বলার নেই। শুধু একটি কথাই বলবো, আপনারা সঠিক বলছেন না।’
তিনি বলেন, ‘খুব সরলভাবে একটি কথা বলি, আমাদের উদ্ভাবিত অ্যান্টিজেন বা অ্যান্টিবডি কিটে কোনো ত্রুটি নেই। অ্যান্টিজেন কিটে পরীক্ষা করা হয় লালা থেকে। লালা সংগ্রহ করতে হয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। নমুনা সংগ্রহের সময় লালার সঙ্গে যদি কফ বা থুথু থেকে যায়, তবে অ্যান্টিজেন কিটের পরীক্ষায় সঠিক ফলাফল নাও আসতে পারে। আমরা দেখলাম বিএসএমএমইউ লালার যে নমুনা সংগ্রহ করছে, তার সঙ্গে কফ বা থুথু চলে এসেছে। এটা যে তাদের দোষ তা নয়। যখন কাউকে লালা দিতে বলা হয়েছে, তিনি লালার সঙ্গে কফ বা থুথু দিয়ে দিয়েছেন। ফলে অ্যান্টিজেন কিটের পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। সে কারণে আমরা বিএসএমএমইউকে চিঠি দিয়ে অ্যান্টিজেন কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা আপাতত স্থগিত রাখতে বলেছি।’
‘লালা’ সংগ্রহের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘লালা সংগ্রহের একটি সহজ ও সার্বজনীন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করার জন্যে আমাদের আরও কিছু কাজ করতে হলো। আনন্দের সংবাদ হলো— ইতোমধ্যে আমরা সেই প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে ফেলতে সক্ষম হয়েছি। কটনবাডের মতো একটি জিনিস তৈরি করেছি। যা মুখের ভেতরে আধা মিনিট থেকে এক মিনিট রাখলে, লালা চুষে নিবে। কটনবাডের সঙ্গে শুধু লালা লেগে থাকবে, কফ বা থুথু থাকবে না। এখন এটা আমরা পরীক্ষা করছি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বা পরশু বিএসএমএমইউকে নমুনা সংগ্রহের কটনবাডের মতো এই জিনিসটি সরবারাহ করতে পারবো। তখন তারা আবার নমুনা সংগ্রহ করে অ্যান্টিজেন কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা শুরু করতে পারবেন।’
ড. বিজন কুমার শীল বলেন, ‘আমরা এদেশের মানুষ। বহু গবেষণা-পরিশ্রম করে এই কিট উদ্ভাবন করেছি। তবে, আপনাদের সমালোচনা থেকে শিখতে চাই। আর একটু জেনে গঠনমূলক সমালোচনা করলে আপনাদের থেকে আমরা আরও কিছু শিখতে পারবো। আপনারা নিশ্চিত থাকেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটে কোনো ত্রুটি নেই’, যোগ করেন ড. বিজন।
ডা. মহিবুল্লাহ খন্দকার বলেন, ‘লালা আমাদের জিহ্বা থেকে নিঃসরিত হয়। এটি আমাদের মুখের সবচেয়ে তরল পদার্থ। জিহ্বার আশপাশ থেকেই এটি আসে। কিন্তু, কিটের জন্য সংগ্রহ করা নমুনায় দেখা গেছে, মানুষ (যাদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে) কাশি দিয়ে জোর করে লালা বরে করে দিচ্ছে। এর ফলে গলার ভেতরের দিক থেকে কফ চলে আসছে। যা লালার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। তাই আমরা বিএসএমএমইউকে বলেছি, এটা সংগ্রহের একটা পদ্ধতি আমরা বের করে দিচ্ছি। যাতে সঠিক পদ্ধতিতে লালা সংগ্রহ করা যায়। এরপর বিএসএমএমইউ আবার পরীক্ষা করবে’, বলেন তিনি।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র মঙ্গলবার (২ জুন) বিএসএমএমইউকে যে চিঠি দিয়েছে, তাতে তারা বলেছে, ‘সম্প্রতি জিআর কোভিড-১৯ র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট কিটের নমুনা (লালা) যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংগ্রহে অসামঞ্জস্যতা পাওয়ায় সঠিক ফলাফল নির্ণয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অ্যান্টিজেন শনাক্তকরণের জন্য যথাযথ উপকরণ লালার নমুনায় থাকছে না বা অন্য বস্তুর মিশ্রণ লক্ষণীয়। সম্মিলিত মনিটরিং টিম এই সমস্যাটি চিহ্নিত করেছে। গণস্বাস্থ্য আরএনএ বায়োটেক টেকনিক্যাল টিম এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য তাদের আরঅ্যান্ডডি ল্যাবে সুনির্দিষ্টভাবে সর্বোপরি ব্যবহারযোগ্য লালা সংগ্রহ পদ্ধতি প্রয়োগের কাজ শুরু করেছে। যা শিগগিরই আমরা আপনাদেরকে জানাতে পারবো বলে আশা করছি। এতে কয়েকদিন সময় লেগে যাবে। এমন অবস্থায় আমাদের লালা সংগ্রহের সঠিক পদ্ধতি নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত অ্যান্টিজেন টেস্ট কিটটির পরীক্ষা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রয়োজনে আমরা এই দুইটি লট ফেরত এনে নতুন লট বদলে দেবো।’
Related News
ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য ১ আগস্ট থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তিRead More
আজ রাতের মধ্যেই দেশের ৮ অঞ্চলে বড় ঝড়ের আশঙ্কা
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। এমতাবস্থায় রাতেরRead More



Comments are Closed