Main Menu

করোনা ঠেকাতে মানতে হবে যে ১১ পরামর্শ

স্বাস্থ্য ডেস্ক: বাংলাদেশেও আঘাত হেনেছে করোনা ভাইরাস। বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে ঝুঁকি, শঙ্কা, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা। এ ভাইরাস মোকাবিলায় জনসচেতনা গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি বলা হচ্ছে সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে। ইতোমধ্যে দেশে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৩৩ জন, চিকিৎসাধীন আছেন ২৫ জন।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় ও এই ভাইরাস থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার ১১টি পরামর্শ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা। পাঠকের জন্য সেই পরামর্শগুলো আবারও তুলে ধরা হলো-

১. যেকোনও কাজের পর সাবান ও অ্যালকোহলের উপস্থিতি আছে এমন হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ভালো করে দুই হাত বিশুদ্ধ পানিতে ধুয়ে নিলে করোনা ভাইরাস ধ্বংস হয়ে যায়।

২. যাদের হাঁচি-কাশি আছে তাদের থেকে অন্তত ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন। কারণ হাঁচি-কাশিতে মুখ থেকে তরল নির্গত হয়। আশপাশের বাসাতেও তখন জীবাণু মিশে ছড়িয়ে পড়ে। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে আপনিও সংক্রমিত হতে পারে। মানুষের ভিড় থেকে দূরে থাকুন।

৩. বারবার হাত দিয়ে নিজের চোখ, নাক, মুখ স্পর্শ করবেন না। কারণ মানব শরীরে জীবাণু প্রবেশের প্রধান ফটক হচ্ছে চোখ, নাক, মুখ।

৪. হাঁচি-কাশি কিংবা গায়ে জ্বর থাকলে ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন। ভ্রমণরত অবস্থায় অসুস্থ কিংবা হাঁচি-কাশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৫. সংক্রমণ এড়াতে শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন। কোনও শিশুকে করোনা আক্রান্ত মনে হলে কিংবা সে আক্রান্ত হলেও তার সঙ্গে ভালো আচরণ করুন। তার যত্ন নিন।

৬. শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে নাক-মুখ দিয়ে যেন ভাইরাস প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য মাস্ক ব্যবহার করুন। তবে আপনার মাস্কটি কতটা পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত তা নিশ্চিত করতে হবে। একটি মাস্ক একবার ব্যবহারের পর পরিষ্কার না করে দ্বিতীয়বার ব্যবহার করবেন না।

৭. হাঁচি-কাশি এলে টিস্যু ব্যবহার করতে হবে। তাতে করে নিজে ও আপনার আশপাশের মানুষরাও করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকবে। আর ব্যবহৃত টিস্যু ফেলতে হবে নির্দিষ্ট স্থানে। যত্রতত্র ফেললে ভাইরাস ছড়াতে পারে। যেখানে সেখানে সর্দি, কাশি, থুতু ফেলবেন না।

৮. যদি জ্বর, হাঁচি-কাশি বা শ্বাসকষ্ট হয় তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অসুস্থ বোধ করলে যতটা সম্ভব বাসায় থাকুন, বিশ্রামে থাকুন। করোনা মোকাবিলায় প্রতিটি দেশের পরিবেশ-পরিস্থিতি স্ব স্ব দেশের চিকিৎসক ও সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। তাই সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।

৯. করোনা সংক্রমিত কোনও দেশ থেকে কেউ নিরাপদ এলাকায় আসলে তাকে অন্তত ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। এ সময়টাতে ওই ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। তাতে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি কম থাকবে।

১০. যেকোনও খাবার ভালো করে রান্না করে খান। ডিম কিংবা অন্য খাবার ভালো করে সেদ্ধ করে খান। তাতে করে কোনও জীবাণু থাকলে সেটি আগুনে ধ্বংস হয়ে যাবে। কাঁচা মাংস খাবেন না। অসুস্থ কিংবা মৃত পশুর মাংস খাওয়া যাবে না।

১১. বাসার আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র অ্যান্টিসেফটিক লিকুইড দিয়ে পরিষ্কার করুন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পড়ুন। কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গারগিল করুন। গরম পানি পান করুন। যে ব্রাশ দিয়ে কাপড় কিংবা ঘর পরিষ্কার করেন সেই ব্রাশটিও প্রতিদিন ভালো করে পরিষ্কার করে রাখুন।

Share





Related News

Comments are Closed