টেন্ডার পেতে ইবি প্রকৌশলীকে হুমকি
শাহাব উদ্দীন ওয়াসিম, ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আলিমুজ্জামান টুটুলকে মুঠোফোন ও ম্যাসেঞ্জারে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা, তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করাসহ তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এ ধরণের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার বিকালে প্রশাসনের অনুমতি সাপক্ষে তিনি ইবি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ওসি জাহাঙ্গীর আরিপ। ঘটনার তদন্তে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
প্রকৌশল অফিস সূত্রে, ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বর্তমানে ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প চলছে। ৩০ মার্চ ও ৬ এপ্রিল ৫৩ কোটি টাকা করে ১০৬ কোটি টাকার দুটি দরপত্র খোলা হবে। এর মধ্যে একটি দরপত্র ঢাকার একটি সংগঠনকে পাইয়ে দেওয়ার জন্য তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ মার্চ সোমবার রাত ৯ টা ৩৮ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন-“ইবিতে আর চাকরি করা হল না আমার। রিজাইন করব, ইনশা আল্লাহ।”
জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিন যাবত বিভিন্ন সময়ে টুটুলকে বিভিন্ন অজানা নাম্বার থেকে মেগা প্রকল্পের কাজ পাইয়ে না দিলে সন্তানের ক্ষতি হয়ে যাবে বলে হুমকি দেয়া হয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিভিন্ন খারাপ কিছু লিখে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার কথাও বলে তারা। তাছাড়া অতীতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দেয় তারা। জিডিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন মেয়েদের নাম্বার দিয়ে ফোন করে এবং মেসেঞ্জারে বিভিন্ন টেক্সট দিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে তিনি মানসিকভাবে খুবই ভীত।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে আলীমুজ্জামান টুটুল বলেন, “আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। নিরাপত্তার খাতিরে আমি প্রশাসনের অনুমতি সাপক্ষে থানায় জিডি করেছি।” চাকুরি থেকে অব্যহতি নিবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ক্যাম্পাসে থেকে যেতে চাই।”
এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ বলেন, “শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. কাজী আখতার হোসেনকে আহবায়ক করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. হালিমা খাতুন ও আইকিউএসি’র পরিচালক প্রফেসর ড. কে এম আব্দুস সোবহান। তদন্ত কমিটিকে দ্রত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছ।”
এ বিষয়ে ভিসি ড. রাশিদ আসকারী বলেন, “ঘটনাটি জানার পর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং এ বিষয়টি তদন্তের জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।” এ ঘটনায় মেগা প্রকল্পের কাজের কোন সমস্যা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মেগা প্রকল্পের টেন্ডার ড্রপ করার প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার সাথে সাথেই সেই অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Related News
সাতক্ষীরায় পুকুরের পানিতে ডুবে ২ স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সাতক্ষীরায় পুকুরে ডুবে দুই স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টারRead More
অনলাইনে পণ্য বিক্রির নামে প্রতারণা, ঝিনাইদহে গ্রেপ্তার ৩
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ঝিনাইদহের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের অভিযানে ইলিশ মাছ, জুতা, বাচ্চাদের খেলনা, ফার্নিচারসহRead More



Comments are Closed