নবীগঞ্জে সেতুর একপাশে ধ্বস, ভোগান্তিতে মানুষ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার মারকুলি সড়কের আমড়াখাই সেতুটি যানবাহনের চাপে এক পাড়ে মাটি সরে যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, গত বৎসর বন্যার পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্থ আমড়াখাই সেতুটি একদিকে দেবে যাওয়ায় নবীগঞ্জ উপজেলার নবীগঞ্জ-মারকুলি সড়কের বড় ভাকৈর ইউনিয়নের আমড়াখাই খালের সেতুটি এখন নবীগঞ্জসহ ৫ উপজেলার ২০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলাকাবাসী ও বাস মালিক সমিতি ছোট ছোট যানবাহন পারাপারের জন্য সাময়িকভাবে বাশেঁর আড় দিয়ে মাটি ফেলে ব্রিজের সাথে সংযোগ রাস্তা নির্মাণ করেছে। এই সাঁকো দিয়েই অটোরিকশা, ভ্যানগাড়ি, মোটরসাইকেলসহ হালকা যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। স্থানীয়রা যে কোনো সময় ব্রীজ ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন। তাদের অভিযোগ কামড়াখাই খালের উপর নির্মিত গত বৎসরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সেতুটি গত কয়েক দিন আগে একদিকে দেবে যায়।
নবীগঞ্জ এলজিডি সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে কামড়াখাই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। গত বৎসরের বন্যায় কালভার্টের নীচের মাটি সরে যাওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণের পরও পরিবহনের চাপে ধসে পরার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষজ সুমেশ চন্দ্র দাশ জানান, দ্রুত সেতুটি পুনর্র্নিমাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে স্থানীয় স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত স্কুল কলেজে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।
নবীগঞ্জ বাস-মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সুমন জানান গত বৎসরের বন্যায় ব্রীজটি ক্ষতিগ্রস্থ হলেও এখনও ব্রীজটি পূর্ন নির্মানের উদ্দ্যোগ নেই। আমরা গত কয়েক মাসে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে ব্রীজটি হাল্কা যান চলাচলের ব্যবস্থা করে রেখেছি। এ সেতুর কারণে নদী বন্দর মারকুলির মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সত্য রঞ্জন দাশ জানান, নতুন করে সেতু নির্মাণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রকৌশলীকে (এলজিইডি) সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ যোগাযোগ করা হচ্ছে। অতি শীঘ্রই ব্রীজের কাজ সম্পন্ন করা না হলে আমার এলাকার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ জানান, আমরা এই ব্রীজ পূন নির্মানের জন্য প্রকল্প তৈরি করে প্রস্তাব ঢাকায় পাঠিয়েছি। আশা করি অতি শীঘ্রই ব্রীজের কাজ শুরু হবে। আপাতত ব্রীজটি সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌঃ সেলিম সেলিম বলেন দীর্ঘদিন ধরে ব্রীজটি নাজুক অবস্থায় থাকলে স্থানীয় এমপি মহোদয়ের উদাসীনতার কারনে এখানে নতুন ব্রীজ নির্মান প্রকল্প থমক আছে। কামড়াখাইয়ে এই বছরের মধ্যে চওড়া ও মজবুত করে এই সেতুটি নির্মাণের ব্যবস্থা করার জন্য আমি উপর মহলে যোগাযোগ করছি।
Related News
হবিগঞ্জে ৭৮ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্যসহ আটক ২
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জ শহরতলীর পোদ্দার বাড়ি এলাকা থেকে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয়Read More
হবিগঞ্জে পাইপলাইন থেকে তেল চুরি, ইউপি সদস্যসহ ৫জনের বিরুদ্ধে মামলা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জের মাধবপুরে জাতীয় গ্রিডের কনডেনসেটবাহী পাইপলাইন ছিদ্র করে দুই দিনে ৪ হাজারRead More



Comments are Closed