Main Menu

সিলেটে আজহারীর ওয়াজ মাহফিলে নিষেধাজ্ঞা

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটে মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর তিনটি ওয়াজ মাহফিলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিলেটের ৩ উপজেলার আলেম, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের সাথে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আগামী ২০ জানুয়ারি সিলেটের কানাইঘাটের মুকিগঞ্জ বাজার জামেয়া মাঠে অনুষ্ঠিতব্য তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে আসার কথা ছিল তার। তবে আজাহারির আগমনের সংবাদ নিয়ে ইতোমধ্যে কানাইঘাটে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। মাহফিলের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন উপজেলার আলিয়া ও কওমিপন্থী আলেম-ওলামা এবং দু’পক্ষের সমর্থকরা।

ওই দিন জৈন্তাপুরের দরবস্তের হাজারী সেনাগ্রাম মাঠে ও ১৩ ফেব্রয়ারী ওসমানীনগরের একটি মাহফিলে তার বয়ান রাখার কথা ছিল। আজহারি সিলেটে আসছেন এমন খবরে গত দুই দিন থেকে কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার মানুষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তাকে প্রতিহতের ডাকও দিয়েছিলেন কানাইঘাট ও জৈন্তাপুরের মানুষ।

উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার বিকেল ৩ টায় জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম সিলেটের আলেম সমাজ, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদদের নিয়ে এক বৈঠক করেন।

সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যেহেতু তার বয়ান বিতর্ক তৈরী করছে, সুতরাং সিলেটে আজহারীর অনুষ্টিতব্য সকল মাহফিলে তিনি উপস্থিত থাকতে পারবেন না। ভবিষ্যতে তাকে নিয়ে সিলেটে কোন ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করলে প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে প্রথমে। কেবল প্রশাসন অনুমতি দিলে সিলেটে তিনি ওয়াজ মাহফিলে বয়ান করতে পারবেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম, সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন, দারুল উলুম কানাইঘাট মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আলীম উদ্দিন দৌলতপুরি, হরিপুর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা হিলাল আহমদ, হেম দারুল উলুম মাদ্রাশার মুহতামিম মাওলানা জিল্লুর রহমান, দরবস্ত মাদ্রাশার মুহতামিম মাওলানা আবু হানিফ, জৈন্তাপুর লাম্নিগ্রাম মাদ্রাশার মুহতামিম আব্দুল জব্বার, হরিপুর মাদ্রাশার শায়খুল হাদিছ মাওলানা নজরুল ইসলাম, জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আলা উদ্দিন, যুগ্ন সম্পাদক ফয়েজ আহমদ বাবর, উপদপ্তর সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদ, কানাইঘাট উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সাকের, কানাইঘাট আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, চতুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, ব্যবসায়ী ফারুক আহমদ। এছাড়া জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আছলাম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সাময়িক সময়ের জন্য মাহফিলের অনুমতি দেয়া হয়নি। আগামীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রশাসন অনুমতি দিতে পারে।

আর বৈঠকে উপস্থিত থাকা কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রিন্সিপাল সিরাজ উদ্দিন বলেন, বৈঠকে কি কারণে অনুমতি দেয়া হবে না। এমন বিষয় উঠলে জেলা প্রশাসক বিষয়টি বর্তমানে আলোচনা না করার জন্য অনুরোধ করেন। পরে জেলা প্রশাসক কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বক্তব্য শুনেন। এরপর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা আর যেহেতু কিছু মানুষ তাকে বিতর্কিত মনে করে সেজন্য তাকে আসার অনুমতি না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে তাকে এড়িয়ে অন্যান্য বক্তা এনে মাহফিল করাতে পারবেন বলেও বৈঠকে জানানো হয়।

এর আগে গত সোমবার (১৩ জানুয়ারি) মাওরানা মিজানুর রহমান আজহারীকে ইসলাম বিরোধী বক্তব্য প্রদানকারী বক্তা আখ্যায়িত করে কানাইঘাটে তাকে প্রতিরোধ করতে কানাইঘাট দারুল উলূম কওমি মাদ্রাসায় এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, ইসলাম বিরোধী বক্তব্য প্রদানকারী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীকে শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী রহ. পূণ্যস্মৃতি বিজড়িত কানাইঘাট উপজেলার মুকিগঞ্জে আসতে দেয়া হবে না। কানাইঘাটের সর্বস্তরের তৌহিদী জনতাকে সাথে নিয়ে আজহারীকে প্রতিরোধ করতে প্রয়োজনে মুকিগঞ্জের উদ্দেশ্যে লংমার্চের ডাক দেয়া হবে।

এর পরদিন মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে ইমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটি ও তৌহিদি জনতার উদ্যোগে মিজানুর রহমান আজহারীকে প্রতিরোধের লক্ষ্যে কানাইঘাট পূর্ব বাজারে প্রতিবাদ সমাবেশ ও গণমিছিলের ডাক দিয়ে বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়েছে। পরে এক সভা থেকে কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ একটি প্রতিনিধি দল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বারিউল করিম খান ও থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দোহা পিপিএমের সাথে সাক্ষাৎ করে মিজানুর রহমানকে কানাইঘাটে না আসতে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

Share





Related News

Comments are Closed