Main Menu

নাটকীয় ম্যাচে সুপার ওভারে সিলেটের হার

স্পোর্টস ডেস্ক: বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের সিলেট পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচটি ছিলো উত্তেজনায় ভরপুর। ১৪০ রানের ছোট্ট টার্গেট স্বাগতিক সিলেট থান্ডার অতিক্রম করতে পারেনি। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিলো ১৫ রান। তবে আল আমিনের করা শেষ ওভারে সিলেট নিতে পারে ১৪ রান। যদিও শেষ বলে দুই রান নিয়ে ম্যাচটা জিততে পারতো সিলেট। তবে মনির হোসেন রান আউটের শিকার হলে ম্যাচটি গড়ায় সুপার ওভারে। সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করে সিলেট করে ৭ রান। সেই রান এক উইকেট ও এক বল হাতে রেখে টপকে যায় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স । ফলে চরম নাটকীয়তায় ভরপুর ম্যাচে হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক দলটি। ৯ ম্যাট খেলে সিলেটের জয় মাত্র একটিতে।

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের দেওয়া ১৪১ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলে জনসন চার্লসের উইকেট হারায় সিলেট থান্ডার। শূণ্য রানে তাকে কট অ্যান্ড বোল্ড করেন সানজামুল ইসলাম। এর পরের ওভারে আবারও উইকেট হারায় স্বাগতিক দলটি। ৪ বলে ২ রান করা রনিকে ফেরান মুজিবুর রহমান। ফলে শুরুর বিপর্যয়ে পাওয়ার প্লের ৬ ওভার কাজে লাগাতে পারেনি সিলেট। মাত্র ২ উইকেটে ৩২ রান তুলতে পারে। পাওয়ার প্লে শেষে আবারও সিলেটের ব্যাটিং অর্ডারে ধ্বস নেমে আসে । ৩২ রানে ২ উইকেট থেকে ৩৩ রানে ৫ উইকেটে পরিণত হয় তারা । তবে নাজমুল হোসেন মিলন ও সোহাগ গাজী দুজন মিলে দলের হাল ধরেন। মিলন স্লো খেললেও গাজী ২৯ বলে তুলে নেন টি-২০ ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি। ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৭০ রান যোগ করেন তারা। শেষ ২৪ বলে যখন ৩৮ রানের দরকার তখন আবারও সিলেটের ব্যাটিংয়ে বিপর্যয় নামে। মিলন ২৩ বলে ১৩ রান ও সোহাগ গাজী ৩১ বলে ৫২ রান করে মুজিবের শিকারে পরিণত হলে সিলেটের জয়ের আশা এক প্রকার শেষ হয়ে যায়। তবে ম্যাচে শেষ ওভারে ছিলো সব রোমাঞ্চকর পরিস্থিতি। আল আমিনের করা শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিলো ১৫ রান সিলেটের । তবে তারা করতে পারে ১৪ রান। শেষ বলে প্রয়োজন ছিলো ২ রান। তবে সিলেটের অপরাজিত দুই ব্যাটসম্যান দুই রান নিতে গিয়ে শেষ বলে ১ রান করে এবং অপর রানটি করতে গিয়ে মনির হোসেন রান আউটে কাঁটা পড়েন। ফলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

কুমিল্লার হয়ে মুজিব ১২ রানে ৪ উইকেট, আল-আমিন ৩০ রানে ২ উইকেট, সানজামুল ও ডভিড উইজে একটি উইকেট লাভ করেন।

এর আগে, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এর সিলেট পর্বের প্রথম দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নামে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স । দুই ওপেনার থারাঙ্গা ও স্টাইন ভ্যান জিল মিলে উড়ন্ত সূচনা করেন। মাত্র ৪ ওভারে ৪২ রান তুলে ফেলে তারা। স্বাগতিক সিলেট থান্ডারে দর্শকদের উদযাপনের প্রথম উপলক্ষ এনে দেন সিলেটের লোকাল বয় এবাদত হোসেন । ১২ বলে ১০ রান করা ভেন জালকে ফ্লেচারের তালুবন্দি করেন তিনি। তবে পাওয়ার প্লেতে রানের গতি অব্যাহত রাখে কুমিল্লা। ৬ ওভারে সংগ্রহ করে ১ উইকেটের বিনিময়ে ৫৭ রান। বিপিএলে এবারের মৌসুমে দারুণ খেলতে থাকা সৌম্য সরকার ওয়ান ডাউনে খেলতে নেমে এদিন এক বাউন্ডারির সাহায্যে ৫ বলে ৫ রানের বেশী করতে পারেননি। অন্য পাশের ব্যাটসম্যানেরা এদিন টি-২০ স্টাইলে ব্যাট করতে না পারলেও উপুল থারাঙ্গা ব্যাট চালিয়ে খেলতে থাকেন। তবে দলীয় ৭৭ রানের মাথায় ৩১ বলে ৪৫ রান করে তাকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখান সোহাগ গাজী। বিপিএলের পুরো টুর্নামেন্টে মন্তর গতিতে ব্যাট করা এক সময়ের হার্ড হিটার ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান এদিন নিজের স্টাইক রেট রাড়িয়ে ব্যাটিং করতে পারেননি। ২৫ বলে ১৭ রান করে রাদারফোেের্ডর বলে বোল্ড হোন। ফলে কুমিল্লা প্রথম দশ ওভারে রান রেট ৮ করে নিতে পারলেও শেষ দশ ওভারে সিলেটের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৯ উইকেটে ১৪০ রানের বেশী করতে পারেনি। শেষর দিকে ডেভিড উইজে ১২ বলে ১৫ ও মাহিদুল অঙ্কন ১৪ বলে ১৯ রান করেন।

সিলেটের হয়ে শেরফানে রাদারফোড ১৯ রানে তিনটি, এবাদত হোসেন ৩৩ রানে তিনটি ও সোহাগ গাজী ২৩ রানে দুটি উইকেট লাভ করেন।

শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের প্রথম ম্যাচে বেলা ২টায় খুলনা টাইগার্সের মুখোমুখি হবে ঢাকা প্লাটুন ও দিনের দ্বিতীয় খেলায় সন্ধ্যা ৭টায় স্বাগতিক সিলেট থান্ডার খেলবে রংপুর রেঞ্জার্সের বিপক্ষে।

সিলেট থান্ডার একাদশঃ মোহাম্মদ মিথুন, রনি তালুকদার, নাজমুল হোসেন মিলন, সোহাগ গাজি, নাঈম হাসান, মনির হোসেন, এবাদত হোসেন, আন্দ্রে ফ্লেচার, জনসন চার্লস, নাভিন উল হক, শেরফানে রাদারফোর্ড।

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স একাদশঃ সৌম্য সরকার, উপুল থারাঙ্গা, মুজিব উর রহমান, ডেভিড উইজে, স্টাইন ভ্যান জিল, আল আমিন হোসেন, ইয়াসির আলী, সানজামুল ইসলাম, মাহিদুল অঙ্কন, সাব্বির রহমান, আবু হায়দার রনি।

0Shares





Related News

Comments are Closed