Main Menu

ফাইভজি যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ

Manual7 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর কাতারে নাম লেখাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বের যে গুটিকয় দেশ পঞ্চম প্রজন্মের (ফাইভজি) মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করছে তার মধ্যে বাংলাদেশও নাম লেখাতে যাচ্ছে। নতুন বছরে বাংলাদেশে কড়া নাড়ছে ফাইভজি। আর এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৮ জানুয়ারি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা’তে ফাইভজির ডেমোনেস্ট্রেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য চলতি বছরের মধ্যেই তরঙ্গ নিলামের প্রস্তুতি নেওয়া এবং ২০২১ সালের শুরুতে ফাইভজি চালু করা।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের অগ্রগতি জানাতে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলার আয়োজন করছে। মুজিববর্ষ পালনের উদ্যোগ হিসেবে এ মেলার অয়োজন করা হচ্ছে। মেলায় প্রাধান্য পাচ্ছে ফাইভজি।

Manual4 Ad Code

মেলায় ফাইভজি প্রযুক্তিসহ এর ব্যবহার নিয়ে লাইভ দেখানো হবে বলে জানালেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, ‘২০২০ সালে আমরা ফাইভজির সব কাঠামো গড়ে তুলব এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেব। আমাদের টার্গেট ২০২১ সালে এটি আনুষ্ঠানিক চালু করা। তবে আমরা চলতি বছরের ডিসেম্বর কিংবা পরের বছর জানুয়ারিতে চালু করার সর্বাত্মক চেষ্ট করব।

Manual4 Ad Code

আমরা ফাইভজি চালু করা বিশ্বের প্রথম ২০ দেশের তালিকায় থাকতে পারব বলে আশা করি। এ জন্য প্রাথমিকভাবে আমাদের যে গাইডলাইন দরকার, সেটি ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকে মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হবে এবং আমাদের ইচ্ছা জুনের মধ্যে তা চূড়ান্ত করা। বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে তরঙ্গ নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করার ইচ্ছা আছে। ফাইভজির স্পেক্ট্রাম বরাদ্দ দেওয়া হলে ২০২০ সালের মধ্যেই ফাইভজি পরীক্ষামূলক চালু করব।’

জানা যায়, ফাইভজি নীতিমালা তৈরিতে গঠিত কমিটি আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রস্তুত করে বিটিআরসির কাছে জমা দেবে। এর আগে ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং রবির সহায়তায় দেশে প্রথমবারের মতো ফাইভজি পরীক্ষা ও সেবা প্রদর্শন করে প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। প্রদর্শনীতে ফাইভজির গতি ছিল ৩ দশমিক ৮৯ জিবিপিএস থেকে ৪ দশমিক ০৯ জিবিপিএস পর্যন্ত।

জানা যায়, ফাইভজি চালু করেছে এমন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। এ ছাড়া সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইডেন ফাইভজি নেটওয়ার্ক গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ২০২৩ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০০ কোটি ফাইভজি গ্রাহক তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফাইভজি মোবাইল ফোনে শুধু দ্রুতগতির নেটওয়ার্কই এনে দেবে না, চালকবিহীন গাড়ি, ড্রোন, ইন্টারনেট অব থিংসসহ নানা প্রযুক্তিও এগিয়ে যাবে এর সুবাদে। এরই মধ্যে ফাইভজি সমর্থিত স্মার্টফোন বাজারে ছেড়েছে স্যামসাং, হুয়াওয়েসহ শীর্ষ স্মার্টফোন নিমার্তা কম্পানিগুলো।

সূত্র জানায়, ১৬ জানুয়ারি ফাইভজির প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলার উদ্বোধন করবেন এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল।

মেলায় ১০০টি স্টল, মিনি প্যাভিলিয়ন ও প্যাভিলিয়ন থাকবে। এতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সব সংস্থা—ডাক বিভাগ, বিটিআরসি, বিটিসিএল, টেলিটক, সাবমেরিন কেবল কম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কম্পানি লিমিটেড, টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। এ ছাড়া আইএসপি প্রতিষ্ঠান, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি পণ্য উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোন অপারেটরসহ অনেক প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।

মেলায় টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে তাদের ফাইভজি টাওয়ারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে হাজির হবে। এতে অপারেটর হিসেবে যোগ দেবে রবি। কয়েকটি স্মার্টফোনে ফাইভজির সেবা পরখ করে দেখা যাবে।

মেলার আয়োজক আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলায় ফাইভজির একটি ডেমোনেস্ট্রেশন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে ফাইভজির লাইভ এক্সপেরিয়েন্স পাওয়া যাবে। বিটিএস থেকে শুরু করে সমর্থনযোগ্য ডিভাইসে দর্শনার্থীরা ফাইভজি টেস্ট করে যেতে পারবে। এতে হুয়াওয়ে ফিজিক্যাল ডেমোনেস্ট্রেশন করবে। রবি, গ্রামীণফোনসহ অন্য মোবাইল অপারেটররা অংশ নিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আইএসপি খাত থেকে ট্রিপল প্লে সার্ভিস থাকবে। এ ছাড়া জেডটিই এবং নোকিয়ার ফাইভজি প্যাভিলিয়ন ও দেশের ডিভাইস উত্পাদনকারী শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলো থাকবে।’

Manual8 Ad Code

আমিনুল হাকিম জানান, মেলায় ৩৫ থেকে ৪০টি আইএসপি প্রতিষ্ঠান, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, ট্রিপল প্লে (এক কেবলে ল্যান্ডফোনের লাইন, ইন্টারনেট ও ডিশ সংযোগ), মোবাইল অ্যাপস, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা ও প্রযুক্তি ইত্যাদি প্রদর্শন করবে। ওয়ালটন, স্যামসাং, সিম্ফনির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উত্পাদিত পণ্য দেখাবে, দেশি সফটওয়্যার কম্পানিগুলো তাদের তৈরি সফটওয়্যার ও সেবা উপস্থাপন করবে। টেলিকম অপারেটরগুলো তাদের ভয়েস, ইন্টারনেট ও মূল্য সংযোজিত সেবা (ভ্যাস) দেখাবে। এ ছাড়া জেডটিই, হুয়াওয়ে, নকিয়া, এরিকসন ফাইভজি প্রযুক্তি প্রদর্শন করবে। দেখাবে লাইভ অনুষ্ঠানসহ এর ব্যবহার উপযোগিতা।

বলা হচ্ছে, ফাইভজি বিশ্বব্যাপী বহু মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনবে। ফোরজির চেয়েও ৪০ গুণ দ্রুতগতির ইন্টারনেট অভিজ্ঞতা দেবে ফাইভজি। এর মাধ্যমে স্বচালিত কার থেকে রোবটের কার্যক্রম সহজ হবে।

Manual6 Ad Code

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ‘ফাইভজি কথা বলা বা ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য। জীবনযাপনের জন্য ছোট্ট ঢেউ নয়। এর সঙ্গে দেশের মানুষ ও শিল্পকে সংশ্লিষ্ট করতে কাজ করছে সরকার। তাই আমরা এবার বরাবরের মতো ট্রেন মিস করব না।’

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code