Main Menu

জাতীয় স্লোগান ‘জয় বাংলা’

Manual2 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় সব অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বাধ্যতামূলক হচ্ছে। এই মর্মে নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সর্বস্তরের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এই স্লোগান বলতে ও দিতে হবে।

বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) এই নির্দেশনা দেয়। আদালত বলে, জাতীয় স্লোগান হিসেবে জয় বাংলাকে ব্যবহার করতে দ্বিধা কোথায়? আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে এই স্লোগান ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

Manual5 Ad Code

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলেছি, সংবিধানের ৩ ও ৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রভাষা বাংলা, জাতীয় প্রতীক, জাতীয় সংগীত আছে; কিন্তু জাতীয় স্লোগান নেই। সংবিধানের ১৫০ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে ৭ মার্চের ভাষণটি যেহেতু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ফলে রাষ্ট্রপক্ষ রিটকারীর আবেদনকে লিখিতভাবে সমর্থন করেছে। তিনি বলেন, আদালত বলেছে, সামনে ১৬ ডিসেম্বর আছে বা পরবর্তী সময়ে যেসব জাতীয় দিবস আছে, প্রতিটি দিবসে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের শীর্ষপর্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরের প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে ভাষণ বা বক্তব্যের শুরু ও শেষে জয় বাংলা স্লোগান দিতে হবে। ডিএজি বলেন, আগামী ১৪ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানি হবে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মতামত নিয়েছে আদালত। অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপক্ষ থেকে শুনানি করেছেন। সবার আইনগত বক্তব্য ও ব্যাখ্যা বিচার-বিশ্লেষণ করে আদালত অবশ্যই পরে একটি আদেশ দেবে।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘জয় বাংলা ছিল আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূলমন্ত্র। যে স্লোগান দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন, জীবন দিয়েছেন, শহিদ হয়েছেন, সেটাকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা।’ তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতীয় স্লোগান রয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে জাতীয় স্লোগান ‘জয় হিন্দ’। আমরাও ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান করতে আদালতে মত দিয়েছি। আর মামলার পক্ষগণের মধ্যেও এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। আমরা আশা করছি জারিকৃত রুলটি হাইকোর্ট যথাযথ ঘোষণা করবে।

Manual4 Ad Code

এর আগে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, ‘জয় বাংলা স্লোগান ইতিহাসের অংশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া হয়। এই জয় বাংলা স্লোগান মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। এটা শুধু একটা স্লোগানই নয়, চেতনার নামও। এই স্লোগান ধারণ করেই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর এই স্লোগান নিষিদ্ধ হয়ে যায়। সর্বক্ষেত্রে জয় বাংলা স্লোগান বলার ক্ষেত্রে আমাদের হীনম্মন্যতা কেন?’

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘এই জয় বাংলা স্লোগান সম্পর্কে ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে জানানো উচিত। এই স্লোগান আমাদের জন্য একটা শক্তি।’

অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু এমপি বলেন, ‘জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান করা হলে এতে কোনো অন্যায় হবে না। এ বিষয়ে আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।’ আদালত বলে, একসময় এই স্লোগান বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি এম আমিনউদ্দিন বলেন, আদালত রুল যথাযথ ঘোষণা করতে পারে।

Manual7 Ad Code

‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা চেয়ে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. বশির আহমেদ। ঐ বছরের ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রিটের ওপর রুল জারি করে। রুলে ‘জয় বাংলা’কে কেন জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। চলতি বছর ঐ রুলের ওপর শুনানি শুরু হয়। গতকাল শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলসহ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীরা ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান করার পক্ষে তাদের মত তুলে ধরেন।

Manual8 Ad Code

পরে সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের বর্তমান সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটিকে সংবিধানের অংশ করে নেওয়া হয়েছে। সেই ভাষণের শেষ অংশ হচ্ছে জয় বাংলা। সুতরাং সংবিধান অনুযায়ী ‘জয় বাংলা’ আমাদের সংবিধানের অংশ। তাই জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান করা উচিত। আমরা মনে করি, অবশ্যই এটা আইনে পরিণত হবে।’

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code