Main Menu

আতিয়া মহলে জঙ্গি আস্তানা, ৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িতে ‘আতিয়া মহলে’ জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত ৪ জঙ্গিকে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করায় তিন জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আলোচিত এ ঘটনার প্রায় ২৯ মাস পর শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আলামতসহ চার্জশিট অভিযোগপত্র দাখিল করেন পিবিআই’র পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেওয়ান আবুল হোসেন। আদালতে দেওয়া ৫৩৪ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে ৬০ ধরনের আলামত দেখানো হয়েছে।

চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলেন- ওই হামলায় নিহত জঙ্গি মর্জিনার বোন আর্জিনা (১৯), তার স্বামী জহুরুল হক ওরফে জসিম (২৫) ও বান্দরবানের নাইখ্যাংছড়ির হাসান (২৬)। তারা তিনজনই চট্টগ্রামের আদালতে বন্দি রয়েছেন। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে একটি জঙ্গি হামলার ঘটনায় ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ এ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পিবিআই ইন্সপেক্টর আবুল হোসেন জানান, ওই তিনজন চট্টগ্রামের কারাগারে ছিল। সিলেটের আতিয়া মহলে ঘটনায় তাদেরকে চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি শ্যেন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। পরে রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছিল তাদেরকে। বর্তমানে এ তিনজনই কারাগারে আছেন।

তিনি জানান, ‘সন্ত্রাস দমন আইনের ৬(২), ৭(৩), ৮, ৯(৩) ধারায় অভিযোগপত্রে ওই তিনজনের নামোল্লেখ করা হয়। আসামিরা নব্য জেএমবির সদস্য। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আসামি থাকলেও বোমা বিস্ফোরণে তারা মারা যাওয়ায় অভিযোগপত্র থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।’

‘যাদের নাম বাদ পড়েছে, তারা হলেন- মৌলভীবাজারে স্ত্রী সন্তানসহ মারা যাওয়া জঙ্গি মোশাররফ, আতিয়া মহলে বোমা বিস্ফোরণে মারা যাওয়া মর্জিনা, তামিম আহমদ ফরাজী এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দু’জন।’

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৪ মার্চ ভোরে আতিয়া মহলে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ২৫ মার্চ সকাল থেকে ২৮ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল আতিয়া মহলে অপারেশন টুয়াইলাইট পরিচালনা করে।

২৫ মার্চ সন্ধ্যায় ভবন সংলগ্ন পাঠানপাড়া দাখিল মাদ্রাসার পশ্চিম পর পর দু’দফা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লে: কর্নেল আবুল কালাম আজাদ ও দুই পুলিশ পরিদর্শকসহ সাতজন নিহত হন। এছাড়াও বিস্ফোরণে আহত হয়েছিলেন র‌্যাব, পুলিশ, সাংবাদিকসহ অনেকেই।

এ ঘটনায় এসএমপির মোগলাবাজার থানার তৎকালীন এসআই শিপলু দাস বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এছাড়া আতিয়া মহল থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় থানার তৎকালীন এসআই সুহেল আহমদ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

এছাড়া আতিয়া মহলে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চার জঙ্গি নিহতের ঘটনায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। বোমা বিস্ফোরণে হত্যার ঘটনার মামলায় গত ১৪ জুলাই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই। তাতে উল্লেখ করা হয়, বোমা হামলায় নেতৃত্বদানকারী জঙ্গি মোশাররফ ও নাজিম মৌলভীবাজারের দুটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নিহত হন। আতিয়া মহলে পাঁচদিন অভিযান চালিয়েছিল সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা। এ জঙ্গিবিরোধী অভিযানের মামলাগুলো প্রথমে পুলিশ তদন্ত করে, পরে দায়িত্বভার যায় পিবিআইয়ের কাছে।

২৮ মার্চ সন্ধ্যায় অপারেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান। অভিযানে চার জঙ্গি নিহত হয়। এরপর আতিয়া মহলকে বিস্ফোরকমুক্ত করতে ‘অপারেশন ক্লিয়ারিং আতিয়া মহল’ শুরু করে র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।

Share





Related News

Comments are Closed