Main Menu

প্রবাসীর বিরুদ্ধে খামার-বাগান দখলের অভিযোগ

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: যুক্তরাজ্য প্রবাসী দবির আহমদ দুই কোটি টাকার মাছের খামার ও বাগান বাড়ি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নগরীর উপশহর বি ব্লকের ২০ নম্বর রোডের ২২ নম্বর বাসার বাসিন্দা ফয়জুল ইসলাম লেইছ। এছাড়াও দবির জালিয়াতির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

সোমবার (২৬ আগস্ট) বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। দবির আহমদ রবিবারের সংবাদ সম্মেলন তার নামে যেসব মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছেন তারও জবাব দিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ফয়জুল ইসলাম লেইছ বলেন, জালালাবাদ থানাধীন ৩৬/বি জালালাবাদ আবাসিক এলাকার মৃত মকদ্দছ আলীর পুত্র দবির আহমদ আমার আত্মীয়, সম্পর্কে ভায়রা। তিনি দক্ষিণ সুরমার মৃত দারা মিয়ার কাছ থেকে গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নের গুলিনি ও গুলনী চা বাগান মৌজায় অবস্থিত তার ৬৫ একর জমি ক্রয় করেন। পরে এ জমিটি নিয়ে দারা মিয়ার সাথে তার ঝামেলা সৃষ্টি হয় এবং মোট ২২টি মামলা হয়েছিল। এক পর্যায়ে জমির দখল পেতে ব্যর্থ হয়ে তিনি আমার সাহায্য চেয়েছিলেন। দারা মিয়া আমার আত্মীয়। সেই সুবাদে আমি তার সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে আপোষে মামলাগুলো নিষ্পত্তি করি। পরে ২০১২ সালে তিনি ঐ জমিটি আমাকে লিজ দেন ১০ বছরের চুক্তিতে। আমি সেখানে পর্যায়ক্রমে প্রায় ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করি। বিরান ভূমিকে মাছ চাষের উপযুক্ত করি এবং বিভিন্ন ধরনের বৃক্ষরোপন করি। উন্নত কাঠের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী গাছও লাগিয়েছি। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে সেখানে আমি আরো প্রায় এক কোটি মাছের পোনা ছেড়েছি। প্রায় বিরান ভূমিকে সোনা ফলানোর উপযুক্ত করার পর চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ৩ বছর আগেই তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। তারপর আমার সাথে কোন যোগাযোগ না করেই গত ১৩ জুলাই দুপুরে তার ৬ ভাই ও কয়েকজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে আমার শাহজালাল মৎস্য খামারে প্রবেশ করে ৪জন ষ্টাফকে অস্ত্রের মুখে সেখান থেকে বের করে দেন। এরপর অফিস ভাঙচুর করে মূল্যবান ডকুমেন্ট ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেন। আমি ধৈর্য ধরে পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে তা নিষ্পত্তির চেষ্টা করি। কিন্তু তার কারণে সবকিছুই ভন্ডুল হয়ে যায়। চুক্তি অনুযায়ী তিনি আমার পাওনা মিটিয়ে জায়গাটি তিনি ফেরত পাবেন এমন কথা উঠলেই তিনি সালিশ থেকে সরে যান এবং বারবার ঝামেলার সৃষ্টি করেন। এমনকি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ উদ্যোগ নিয়ে চুক্তি অনুযায়ী সমাধানের চেষ্টা করলেও দবির আহমদের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তিনি মিথ্যা অভিযোগে বিভিন্ন থানায় একের পর এক জিডি করছেন, মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিচ্ছেন।

রবিবারের সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেছেন আমার কাছে তিনি ২০১০ সাল থেকে জমিটির ভাড়া পাবেন। অথচ তার সাথে চুক্তিই হয়েছে ২০১২ সালে। তাহলে তিনি কিভাবে আমার কাছে ২০১০ সাল থেকে ভাড়া পাবেন? তার এই মিথ্যাচারেই প্রমাণ হয়, তিনি একজন মিথ্যাবাদী ও মামলাবাজ লোক। তাছাড়া তিনি নিজে তার চাচার ছেলে দুদু মিয়া সেজে প্রতারণার মাধ্যমে যুক্তরাজ্য গিয়েছিলেন। সেখানেও তিনি একজন মিথ্যাবাদী ধান্দা ও মামলাবাজ হিসাবে বিখ্যাত।

সংবাদ সম্মেলনে ফয়জুল ইসলাম লেইছ বলেন, দবির আহমদ রবিবারের সংবাদ সম্মেলনে আমার নামে মানহানীকর মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তার মতো আমার কোন সন্ত্রাসী বাহিনী নেই। তিনি শিপন, জাকির, আলী হোসেন, ছমিরসহ যাদের সন্ত্রাসী হিসাবে উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে শিপন তার শ্যালক যে আমার সাথে আছে। সে তার অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে তার পক্ষে অবস্থান নেয়নি বলে তাকে তিনি সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছেন। তাছাড়া অন্যদের কেউ আমার খামারের ষ্টাফ কেউ বা ক্রেতা।

তিনি আরো বলেন, এই মিথ্যাবাদী ও মামলাবাজ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন ১৫ ও ১৬ জুলাই আমি আবার খামারটি দখল করার চেষ্টা করেছি। এটিও ভূয়া অভিযোগ। এলাকায় গেলেই তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। আর আমি তাকে কোন হুমকি ধমকি দেওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। বরং তিনিই তার টাকার গরমে মামলা দিয়ে হয়রানির পাশাপাশি বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

ফয়জুল ইসলাম লেইছ জালিয়াত দবির আহমদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান এবং রাষ্ট্রের কাছে প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।

Share





Related News

Comments are Closed