Main Menu

বিজিবি-বিএসএফের সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে বেঠক

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা: সীমান্ত এলাকায় সৃষ্ট নানা সমস্যা সমাধান করে যৌথ টহল জোরদার ও উভয় পক্ষের সম্পর্ক সুদৃঢ় করণে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর চা বাগান ব্যবস্থাপকের বাংলোয় বিজিবি ও বিএসএফের সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে সমন্বয় ও সৌজন্য সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার (২৯ জুলাই) চাতলাপুর চেকপোষ্ট থেকে বাংলাদেশ অংশের ৬ কিলোমিটার অভ্যন্তরে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ বৈঠক চলে বলে জানান শ্রীমঙ্গস্থ ৪৬ ব্যাটেলিয়ন কমান্ডার ল্যা. কর্নেল আরিফ আহমদ।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিব) শ্রীমঙ্গল সেক্টর কমান্ডার কর্নেল জোবায়ের হাসনাৎ পিএসসি এলএসসি এবং ভারতের পক্ষে বিএসএফ পানিসাগর সেক্টরের ডিআইজি শ্রী সিন্দু কুমার ও তেলিয়ামুড়ার সেক্টরের ডিআইজ শ্রী রাজিব কুমার নেতৃত্ব দেন। এছড়ারাও বিজিবির শ্রীমঙ্গস্থ ৪৬ ব্যাটেলিয়ন কমান্ডার ল্যা. কর্নেল আরিফ আহমদ ও ৫৫ বডার গার্ড ব্যাটেলিয়ান এর কমান্ডার ল্যা. কর্ণেল জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বিকাল সাড়ে ৪টায় এক যৌথ প্রেসব্রিফিং-এ উপস্থিত সাংবাদিকদের বিজিবি শ্রীমঙ্গল সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল জোবায়ের হাসনাৎ ও বিএসএফ পানিসাগর সেক্টর-এর ডিআইজি শ্রী সিন্দু কুমার বলেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ভবিষ্যতে সীমান্ত সংক্রান্ত যে কোন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কমান্ড পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উপর গুরত্বারোপ করা হয়। দুই দেশের সীমান্তের ছোট বড় নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। উভয়পক্ষ সীমান্ত রেখায় অবৈধভাবে অতিক্রম করার বিরুদ্ধে নজরদারি আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করার ব্যাপরে উভয়পক্ষ একমত হন।

প্রেসব্রিফিং-এ সীমান্তে সীমান্ত হাট ও স্থল শুল্ক স্টেশনে কার পাস নির্মাণ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএসএফ-এর পানিসাগর সেক্টরের ডিআইজি শ্রী সিন্দু কুমার ভারতের কমলপুর সংলগ্ন বাংলাদেশ এলাকা, বাংলাদেশের মুড়ইছড়া সীমান্ত হাটের যাচাই চলছে। অদূর ভবিষ্যতে সেগুলো হবে। চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে প্রয়োজনীয় কার পাসেরও কাজ চলছে।

বৈঠকে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন ও ভারতীয় মনু শুল্ক স্টেশনের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের প্রয়োজনীয় সহায়তার কথা আলোচনা হয়। এছাড়াও ভারতের অংশে শশানঘাট মেরামতসহ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন বিসয় সমূহ দ্রুত সমাধান করার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়।

বৈঠকে বিজিবির পক্ষে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার, ভারত হতে চোরাচালানের মাধ্যমে গরু, মদ, ফেন্সিডিল, নিষিদ্ধ পাতার বিড়িসহ বিভিন্ন মাদক ও অবৈধ পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ বন্ধ করার বিষয়ে বিএসএফর প্রয়োজনীয় সহায়তা কামনা করা হয়।

বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে ভারতীয় অংশে মনু নদের কারণে সমরুরমুখ বেড়ীবাঁধ নির্মাণ, শশ্মানঘাট পূণ:নির্মাণসহ কতিপয় অবকাঠামোগত সুবিধা নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। এছাড়াও ভবিষ্যতে আস্থা বৃদ্ধি সহায়ক বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বিএসএফ-এর পানিসাগর সেক্টরের ডিআইজি শ্রী সিন্দু কুমার আরো বলেন আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ অটুট আছে। গত বন্যায় মনুনদীর প্রবল স্রোতে ৩ জন বাংলাদেশী ভেসে গিয়েছিলেন আমরা তাদের উদ্বার করেছি। দুই বাহিনীর মধ্যে আন্তরিকতা আছে বলেই তা হয়েছে। এসম্পর্ক ভবিষতেও বহাল থাকবে।

সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে এ বৈঠকে বিজিবি ও বিএসএফের সংম্লিষ্ট ব্যাটেলিয়ন অধিনায়ক এবং সংশ্লিষ্ট স্টাফ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share





Related News

Comments are Closed